মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকায় (Maldah Border) বহুদিনের জমি জট কাটতে চলেছে। কেন্দ্রকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ঘোষণা করা হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই মালদহ জেলার হবিবপুর বিধানসভার ধুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোত কুবের এলাকায় খুশির হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় চুরি, অনুপ্রবেশ এবং ফসল লুটের অভিযোগে অতিষ্ঠ কৃষকরা এবার জমি দিতে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন।
(Maldah Border) স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে বছরের পর বছর সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের। ধান কেটে নিয়ে যাওয়া, গবাদি পশু চুরি, পাম্প মেশিন তুলে নিয়ে যাওয়া— এমন নানা ঘটনার শিকার হতে হয়েছে সীমান্তবাসীদের। তাঁদের দাবি, আগের তৃণমূল সরকার বহুবার জমির মাপজোক করলেও কাজ বাস্তবে এগোয়নি। কেউ কেউ ক্ষতিপূরণ পেলেও অনেকেই এখনও টাকা পাননি।
স্থানীয় কৃষক সুরেশ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশিরা তাঁদের ধান, গবাদি পশু নিয়ে চলে যায়। বহুবার জমির মাপ হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “কাঁটাতার লাগানো হলে আমরা খুব খুশি হব। তাহলে আর বাংলাদেশিরা ভারতে ঢুকতে পারবে না। জমি দিলে আমরাও সুরক্ষিত থাকব।” তাঁর বক্তব্য, ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হলে সীমান্তবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে।
আরেক কৃষক শিবনারায়ণ চৌধুরীর দাবি, সীমান্তে ‘জিরো পয়েন্ট’ দিয়েই কাঁটাতারের বেড়া হওয়া উচিত। (Maldah Border) তাঁর কথায়, “ওপর দিয়ে বেড়া হলে আমাদের জমি নষ্ট হবে। আমরা চাই সরকার জিরো পয়েন্ট দিয়ে বেড়া দিক। কাঁটাতার হলে গরু চুরি, ফসল চুরি সব বন্ধ হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের সময় একাধিকবার জমি মাপ হলেও কোনও কাজ হয়নি।
কৃষক কমল বাস্কেও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “কাউকে টাকা দিয়েছে, কাউকে দেয়নি। কাঁটাতারের বেড়া আমাদের জন্য খুব জরুরি। বাংলাদেশিদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ।” তিনি জানান, আগের সরকার নোটিশ ও রশিদ দিলেও ক্ষতিপূরণের টাকা তিনি পাননি। তবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলে জমি দিতে রাজি বলেও জানান তিনি।
‘কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না’, ভারতকে কড়া বার্তা বাংলাদেশের: Maldah Border: বাংলাদেশিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সীমান্তবাসী, কাঁটাতারের খবরে স্বস্তির হাওয়া মালদহে(Maldah Border) এই ইস্যুতে বিজেপির হবিবপুরের বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বলেন, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছে। তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশ রুখতে এবং বিএসএফকে কাজের সুবিধা দিতে কাঁটাতারের বেড়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার আন্দোলনের পরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি।
জুয়েল মুর্মু বলেন, “যাদের জমির রেকর্ড আছে তারাও অনেক ক্ষেত্রে টাকা পায়নি। আবার যাদের অনেক সম্পত্তি আছে তারা টাকা পেয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি যাতে যারা জমি দিচ্ছে তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পায়।” তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে। এর জন্য তিনি বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদও জানান।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ দাবি করেছেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ আগের সরকারও করেছে এবং বহু জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “কিছু জায়গায় সমস্যা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ কখনও বন্ধ হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার অভাবেও কিছু কাজ আটকে ছিল।”
বিশ্বজিৎ ঘোষ আরও বলেন, (Maldah Border) সীমান্ত এলাকাকে সুরক্ষিত রাখতে তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে চেষ্টা করেছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিল। তবে তিনি চান নতুন সরকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাকি জমিগুলিও অধিগ্রহণ করে দ্রুত কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ করুক।
মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকায় (Maldah Border) এখন মূল দাবি একটাই— দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ। স্থানীয়দের বক্তব্য, এতে যেমন অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে, তেমনই ফসল ও গবাদি পশু চুরির মতো ঘটনাও কমবে। একইসঙ্গে কৃষকদের দাবি, জমি নিলে সকলকে স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক তরজা থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
তপসিয়ার বহুতলে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু ২, দগ্ধ আরও ৩: Maldah Border: বাংলাদেশিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সীমান্তবাসী, কাঁটাতারের খবরে স্বস্তির হাওয়া মালদহে








