প্রতিবছর বর্ষার মুখেই উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। এই সময় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকির কাজ। কিন্ত সেই ঝুঁকি মাথায় নিয়েই মৎস্যজীবীরা যান মাছ ধরতে। গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আবহাওয়া দফতরের তরফে পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে, যেকোনও সময় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির হতে পারে। এরই মধ্যে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ শঙ্করপুরের একটি মাছ ধরার ট্রলার। ট্রলারটির নাম ‘মা কালী’। তাতে ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন মৎস্যজীবীদের পরিবার-পরিজনেরা। ট্রলারের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী (কোস্ট গার্ড) এবং প্রশাসন। (Missing Fishing Trawler)
জানা গিয়েছে, রামনগরের দেউলিবাংলার বাসিন্দা অভিজিৎ বেরার মালিকানাধীন ‘মা কালী’ ট্রলারটি গত ২ জুলাই শঙ্করপুর বন্দর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে রওনা দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রলারটির ফিরে আসার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত সেটির কোনও খোঁজ মেলেনি। শুধু তাই নয়, ট্রলারে থাকা ১৫ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গেও কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ট্রলার মালিক এবং মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের।
এই ঘটনার পর শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি মৎস্য দফতর, স্থানীয় বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর আর্জিও জানান।
কাঁথির সহ-মৎস্য অধিকর্তা সুমন সাহা জানান, বিষয়টি সামনে আসার পরই ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী এবং উপকূল থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ট্রলারটির সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলারগুলিকেও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। (Missing Fishing Trawler)
এদিকে গভীর নিম্নচাপের জেরে উপকূল এলাকায় রাত থেকেই মাইকিং শুরু হয়েছে। সমুদ্রে থাকা অন্যান্য মৎস্যজীবীদের কাছেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, রামনগরের জলধা সেতুর কাছাকাছি এলাকায় আচমকাই ‘মা কালী’ ট্রলারের জিপিএস ট্র্যাকিং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকেই ট্রলারটির আর কোনও খোঁজ মেলেনি।
অতি বর্ষণে আর্বজনার স্তূপে ধস! ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ি, ১৭ জনকে উদ্ধার
নিখোঁজ ট্রলারের সন্ধানে রাতভর সমুদ্রে তল্লাশি চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। উপকূলবর্তী সমস্ত থানা এবং মেরিন ফিসারি দফতরকে সতর্ক করা হয়েছে। শুধু জেলা প্রশাসনই নয়, পার্শ্ববর্তী ওডিশা সরকারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে যাতে প্রয়োজনে যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালানো যায়।
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পর গত রাতেই দিঘায় পৌঁছন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাত এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং নিখোঁজ ট্রলার এবং ওই ১৫ জন মৎস্যজীবীর খোঁজে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। (Missing Fishing Trawler)









