সুন্দরবনের ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে ফের বাঘের মৃত্যু। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শনিবার মারা গেল পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা শেষ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি। এই মৃত্যুর পর ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে আর একটিও বাঘ রইল না। পরপর বাঘের মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বাঘটি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিল। তার শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছিল। বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছিল চিকিৎসাও। দু’জন পশু চিকিৎসক বাঘটির চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বন দফতরের নিয়ম মেনে বাঘটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। (Royal Bengal Tiger Death)
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের অধিকর্তা নিশা গোস্বামী বলেন, “বাঘটি বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। দু’জন পশু চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না।”
একের পর এক বাঘের মৃত্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত কয়েক মাসে ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে একের পর এক বাঘের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই একটি বাঘিনীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একটি বাঘের মৃত্যু হলো। সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রে চারটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। শেষ বাঘটির মৃত্যুর পর বর্তমানে পুরো কেন্দ্রটিই বাঘশূন্য।
২৪ জন নাবিক-সহ বঙ্গোপসাগরে ডুবল পণ্যবাহী জাহাজ, উদ্ধার অভিযানে কোস্ট গার্ড
এদিকে সুন্দরবনের বাঘেদের জন্য ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জঙ্গলে থাকার সময় কোনও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বার্ধক্য, আঘাত বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিকভাবে শিকার ধরতে না পারলে তাকে উদ্ধার করে এই কেন্দ্রে আনা হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা, খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই কেন্দ্র। (Royal Bengal Tiger Death)
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরপর বাঘের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বন দফতর। মৃত বাঘগুলির ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি তাদের চিকিৎসার নথিও পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে এড়ানো যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।









1 thought on “ঝড়খালিতে শেষ বাঘটিরও মৃত্যু, বাঘশূন্য ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র”