চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক স্বস্তি, মর্যাদা ও পরিবারের পাশে থাকার বার্তা। দীর্ঘদিনের অসুখে ভুগলেও একজন মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন, সেই ভাবনাকে সামনে রেখে সোনারপুরে পালিত হলো বিশ্ব প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস। ১০ অক্টোবর লিভার ফাউন্ডেশন, পশ্চিমবঙ্গের উদ্যোগে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্সেসের (IILD) অডিটোরিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘স্পর্শ’ (SPARSH) কর্মসূচির আওতায় এই অনুষ্ঠানের থিম ছিল ‘এ ডে অফ ডিগনিটি’, অর্থাৎ মর্যাদার একটি দিন। (World Palliative Care Day)
শুধু চিকিৎসা নয়, দরকার মানসিক যত্ন
অনুষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের গুরুত্ব তুলে ধরেন IILD-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার চিকিৎসক ডাঃ শিবম জয়সওয়াল। তিনি জানান, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মানেই শুধু ক্যানসার আক্রান্ত বা জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের অসুখে ভোগা রোগীদেরও এই পরিষেবার প্রয়োজন হতে পারে। (World Palliative Care Day) তাঁর কথায়, রোগীর কষ্ট কমানোর পাশাপাশি তাঁর জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মূল লক্ষ্য। চিকিৎসক জানান, এই পরিষেবায় চিকিৎসার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, পুষ্টি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হয়। শুধু রোগী নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও মানসিকভাবে পাশে রাখা জরুরি। রোগীকেন্দ্রিক ভাবনার পাশাপাশি পরিবারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি। (World Palliative Care Day)
রোগী যেন নিজেকে বোঝা না ভাবেন
লিভার ফাউন্ডেশন, পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক এবং IILD-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডঃ পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় জানান, ২০২৪ সাল থেকে লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগে প্যালিয়েটিভ কেয়ার পরিষেবা চালু হয়েছে। এ বছর প্রথমবার এই বিশেষ দিনটি পালন করা হল। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অসুখে ভোগা রোগীরা অনেক সময় নিজেকে পরিবারের কাছে বোঝা মনে করেন। তাঁদের এই ধারণা বদলানো জরুরি। অসুস্থতার মধ্যেও প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাকে সম্মান জানাতে হবে। (World Palliative Care Day)
মানসিক স্বাস্থ্যেও গুরুত্ব
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডঃ শ্রেয়াশা কোল জানান, শারীরিক সমস্যায় মানুষ সহজেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। কিন্তু মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে অনেকেই সাহায্য চাইতে দ্বিধা করেন। সামাজিক বাধা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কাটিয়ে ওঠার উপর জোর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, পরিচর্যাকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগী এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়।












2 thoughts on “শুধু চিকিৎসা নয়, পাশে থাকতে হবে রোগীদেরও, সোনারপুরে বিশেষ উদ্যোগ”
Comments are closed.