একাদশ শ্রেণির রেজাল্ট প্রকাশ না হওয়া, দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া আটকে যাওয়া, মিড-ডে মিল ও কম্পিউটার শিক্ষার মতো একাধিক পরিষেবা বন্ধ থাকার অভিযোগে বুধবার উত্তাল হয়ে উঠল দক্ষিণেশ্বর হাই স্কুল। গেটে তালা ঝুলিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত তাদের ফল প্রকাশ করা হয়নি। তারা পাস করেছে না ফেল করেছে, সেটাই জানতে পারছে না। ফলে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে পড়ুয়ারা। (Student Protest)
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে মিড-ডে মিল ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। কম্পিউটার শিক্ষাও বন্ধ রয়েছে। সরকারি স্কুল হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক নয় বলেও তাঁদের দাবি। সরকারের পক্ষ থেকে স্কুলের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও সেই পরিষেবার সুফল ছাত্র-ছাত্রীরা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকেরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা সুচিস্মিতা মুখোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, তাঁর প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। (Student Protest)
জানা গিয়েছে, প্রধান শিক্ষিকাকে সরিয়ে দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত স্কুলে নতুন কোনও স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকার নিয়োগ হয়নি। শিক্ষকরা বারবার ব্যারাকপুর ডিআই অফিস এবং শিক্ষা দফতরের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানালেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে স্কুলের পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু স্থায়ী প্রশাসনিক প্রধান না থাকায় বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বারুইপুরে গণপিটুনিকাণ্ডে গ্রেফতার আরও ১, ধৃত বেড়ে ৮
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে রাস্তার উপর বেঞ্চ, বাঁশ এবং সাইকেল রেখে পথ অবরোধ করেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশও তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। (Student Protest)
এখন প্রশ্ন, ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সমস্যার সমাধানে শিক্ষা দফতর কেন উদাসীন? আজকের এই আন্দোলনের পর আদৌ সমস্যার সমাধান হয় কিনা এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণেশ্বর হাই স্কুলের পড়ুয়া, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা।










