পালা বদলের পর থেকেই হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দুজনেই। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা মহকুমা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পরিদর্শনে যান রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ঘুরে দেখলেন হাসপাতাল চত্বর। কথা বললেন, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। পাশাপাশি ধমক দিলেন, হাসপাতালের সুপার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকেও (Sharadwat Mukherjee)।
Sharadwat Mukherjee: হাসপাতালে সুপারকে ধমক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
এগরা মহকুমা হাসপাতাল ও এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিষেবা খতিয়ে দেখতে আচমকাই পরিদর্শনে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা ও চিকিৎসা পরিষেবা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে প্রকাশ্যেই হাসপাতাল সুপার সমীর আচার্য সহ উপস্থিত অন্যান্য আধিকারিকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন মন্ত্রী (Sharadwat Mukherjee)।
তিনি বলেন, “নন মেডিক্যাল সুপারের কোনও ভূমিকা নেই। কাল থেকে আপনি সাসপেন্ড হলেন। আগামীকাল থেকে ২ টো নন মেডিক্যাল সুপার এখানে থাকবেন। তারপর আমি ব্যবস্থা নেবো।”
হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, “পরিষেবা দেওয়ার নাম নেই শুধু রেফার করেন। অ্যাম্বুলেন্স একটা পটাশপুর ও একটা ভগবানপুরে পাঠাবেন। এই হাসপাতালে ৬টা অ্যাম্বুলেন্স রেখে কী লাভ। আপনার তো এমার্জেন্সিও নেই।”
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছতেই একঝাঁক অভিযোগ নিয়ে তাঁর সামনে ক্ষোভ উগরে দেন চিকিৎসাধীন রোগীদের পরিবার। পরিচ্ছন্নতার চরম অভাব ও রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় অনিয়ম, বাথরুমের অপরিচ্ছন্নতা এবং হাসপাতালের কর্মীদের দুর্ব্যবহার সহ একাধিক বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে সরাসরি নালিশ জানান তাঁরা। রোগীদের দুর্ভোগের কথা শুনে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনের পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, “রোগীদের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আগামী তিন মাসের মধ্যে এগরা মহকুমা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে।” পাশাপাশি, হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক ও উন্নত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুরে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের। এখানে এমার্জেন্সি পরিষেবাও অপর্যাপ্ত। নার্সিং পরিষেবাও অপর্যাপ্ত। চিকিৎসা পরিষেবার হালও খুব খারাপ। আমি অকপটে স্বীকার করছি। আমরা ৭০ দিনের সরকার। আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি হাসপাতালে কী কী গাফিলতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখছি। কারও নাম নিচ্ছি না। দোষ আমি নিচ্ছি। কারণ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমাকেই ঠিক করতে হবে। খাবারের মান আরও উন্নত হবে। বাথরুমও ঠিক হবে। পরিষেবার অনেক ঘাটতি রয়েছে। সব ঠিক করতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।”
মুক্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলেছিলেন, সরকারি হাসপাতালে গাফিলতি ধরা পড়লেই শাস্তি। তারপর থেকেই সেই গাফিলতি খুঁজে পেতে হাসপাতালে হাসপাতালে গিয়ে পরিদর্শন করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কোথাও কোনও সমস্যা বা ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।











