রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

Suvendu Adhikari: ‘আমি যাব না’, একটি ওয়ার্ডকে ব্রাত্য রেখে ভবানীপুর থেকে উন্নয়নের বার্তা শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari
---Advertisement---

ভবানীপুরের ৬৩ নং ওয়ার্ডের সংবর্ধনা সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নয় বিধায়ক হিসাবে ওই কেন্দ্রের মানুষদের কৃতজ্ঞতা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari CM)। একসময় যে কেন্দ্রকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলা হতো, সেই ভবানীপুরেই জিতেছেন শুভেন্দু। এবার সেই মাটি থেকেই সভা করে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং তোলাবাজিমুক্ত এলাকার আশ্বাস দিলেন। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু।

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভবানীপুরে এই প্রথম বড় সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত সভা থেকে ভবানীপুরের মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। কারণ, এই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন শুভেন্দু। যদিও তিনি নন্দীগ্রাম থেকেও জিতেছিলেন, পরে সেই আসন ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই বিধানসভায় শপথ নেন।

Sona Pappu: ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে গ্রেফতার ‘সোনা পাপ্পু’

সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু জানান, ভবানীপুরের মানুষ তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা তিনি রাখবেন। তাঁর কথায়, “আপনারা আমাকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতিয়েছেন। এই ভালোবাসা, এই বিশ্বাস আমি কোনওদিন ভুলব না। একটু সময় দিন, আপনাদের ঋণ শোধ করব।” এ দিন সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী, পুরো রাজ্যের দায়িত্ব আমার। কিন্তু ভবানীপুরে গত ১৫ বছরে বিধায়ক কেমন কী কাজ করেছেন তা আপনারা জানতে পারেননি। তবে এখন বুঝতে পারবেন। শুধু ৭৭ ওয়ার্ডে আমি যাব না। আর সব জায়গায় কাজ করব। আপনাদের জন্য একটা নম্বর দিয়ে দেব, সেখানে ফোন করে আপনার সব সমস্যার কথা জানাবেন।”

শুধু কৃতজ্ঞতা জানানোতেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি, কাটমানি এবং গুন্ডারাজের যে অভিযোগ ছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনেও সরব হন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় শুভেন্দু বলেন, “তোলাবাজি, কাটমানি, গুন্ডাভাতা ভবানীপুরে আর চলবে না। বাংলায় এখন ভয় আউট, ভরসা ইন।” পাশাপাশি আগামী দিনে ভবানীপুর এলাকায় বিধায়কের সাতটি অফিস খোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেখানে স্থানীয় মানুষ তাঁদের অভিযোগ, সমস্যা বা প্রয়োজনের কথা সরাসরি জানাতে পারবেন।

নিজেকে ‘সাধারণ মানুষের ভাই’ বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

পার্ক সার্কাসে আক্রান্ত পুলিশ, ‘হুলিগানিজম বরদাস্ত নয়’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

অন্যদিকে, সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের চারটি বুথেই বিজেপি এগিয়ে ছিল এবং সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “যে নিজের বুথেই জিততে পারেন না, তাঁকে বাংলার মানুষ দরজা দেখিয়ে দিয়েছে। আপনার রাজনৈতিক দিন শেষ। টাটা, বাই বাই, খতম, পুরা খতম করে দিয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ— সব মিলিয়ে শুভেন্দু ভবানীপুরের সভায় উঠে এলো একগুচ্ছ রাজনৈতিক বার্তা।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment