পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের ধোবাপাড়া যোগেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়ার ঘটনার পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক দিন। কিন্তু আতঙ্ক এখনও কাটেনি শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের। গত ৭ জুলাই ক্লাস চলাকালীন আচমকাই ছাদ থেকে একটি সিলিং ফ্যান খুলে মেঝেতে পড়ে যায়। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও সেই ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ১৯৮১ সালে তৈরি হওয়া স্কুল ভবনের দীর্ঘদিন ধরে কোনও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং গোটা ভবনই এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। (Tamluk Primary School Fan Collapse)
স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ জানিয়েছেন, ফ্যান ভেঙে পড়ার পর একটি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুটি ঘরে পাঁচটি শ্রেণির পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় স্তরে বরাদ্দ হওয়া অর্থে ভবনের মেরামত সম্ভব নয় বলেই ঠিকাদার জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষার সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরাও। তাঁদের কথায়, প্রতিদিন ভয় নিয়েই ক্লাস নিতে হচ্ছে। যে কোনও সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। (Tamluk Primary School Fan Collapse)
ঘটনার দিন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া সৌম্যদীপ দাস জানায়, হঠাৎ করেই ফ্যানটি খুলে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে কারও মাথায় না পড়ায় সবাই রক্ষা পায়। তবে সেই মুহূর্তে তারা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। একই শ্রেণির আর এক পড়ুয়া রৌনক পালের কথায়, ক্লাস চলাকালীনই ছাদের প্লাস্টার ও ফ্যান ভেঙে পড়েছিল। তার দাবি, দ্রুত সেই ঘরটি মেরামত করা হোক যাতে আবার নিরাপদে সেখানে ক্লাস করা যায়। (Tamluk Primary School Fan Collapse)
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সন্দীপা জানা প্রধান জানান, একটি ঘর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এখন মাত্র দুটি কক্ষে চারটি শ্রেণির পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে তাঁরা চরম উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। এমনকি অফিসঘরেও বসতে ভয় লাগে, কারণ ভবনের যে কোনও অংশ যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বহুবার প্রশাসনের কাছে স্কুল ভবনের বেহাল অবস্থার কথা জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক পড়ুয়ার অভিভাবক সুদেষ্ণা মাইতি বলেন, পড়াশোনার পরিবেশ ভালো হলেও ভবনের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্ষায় ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে, সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে যায়, ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আর কোনও দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে অবিলম্বে বিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ সংস্কার করে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক প্রশাসন। (Tamluk Primary School Fan Collapse)
আরও পড়ুন :- আসানসোলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পথচারীকে পিষে স্কুল পুলকারে সজোরে ধাক্কা মিনিবাসের












