---Advertisement---

পুজো দিয়ে ও দই-মিষ্টি খাইয়ে সূচনা, সব সেক্টরে একগুচ্ছ ঘোষণা: কেমন হলো বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট?

June 22, 2026 4:14 PM
West Bengal Budget 2026
---Advertisement---

বিধানসভায় বিশেষ পুজো, আরতি এবং অর্থমন্ত্রীকে দই-মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হলো (West Bengal Budget 2026) পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। রবিবার রাতে কাঁথি থেকে কলকাতায় এসে সোমবার বিধানসভায় উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজেট পেশের আগে বিধানসভার মন্দিরে পুজো ও আরতিতে অংশ নেন তিনি এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এরপর দুপুরে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

(West Bengal Budget 2026) বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই স্বপন দাশগুপ্ত জানান, রাজ্যের উপর বর্তমানে প্রায় ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

প্রশাসনিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা

“আপনার সরকার, আপনার পাশে” নামে নতুন জনসংযোগ উদ্যোগ নিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিষেবার জন্য “ডায়াল ১১২” হেল্পলাইন আরও শক্তিশালী করা হবে। প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবার জন্য একটি করে গাড়ি দেওয়া হবে; বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা।

ডিজিটাল প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার

IFMS ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে Paperless প্রশাসন। DILRMP প্রকল্পে অংশগ্রহণ। NAKSHA (Urban Land Survey) প্রকল্পে যোগদান।
জমি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায়:

  • অনলাইন নথি পরীক্ষা
  • অনলাইন স্লট বুকিং
  • বায়োমেট্রিক ফেসিয়াল রিকগনিশন
  • ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ

এই খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

চাকরিতে বড় ঘোষণা, ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ

(West Bengal Budget 2026) বাজেটের সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম রাজ্য সরকারি দফতরে ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ২০ হাজার নিয়োগ হবে পুলিশ বিভাগে, ৫০ হাজার শিক্ষক, অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি ১,০০০ পদে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস এবং বাকি পদগুলি বিভিন্ন সরকারি দফতরে পূরণ করা হবে।

যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমার ঊর্ধ্বসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় আগামী দু’বছর বহাল থাকবে।

ডিএ-তে বড় স্বস্তি, মোট হার ৩৮ শতাংশ

সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী ও আধা-সরকারি কর্মীদের জন্য (West Bengal Budget 2026) বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক আসে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে। বর্তমানে ১৮ শতাংশ ডিএর উপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে মোট ডিএর হার দাঁড়াল ৩৮ শতাংশ। আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে তা কার্যকর হবে। একইসঙ্গে পেনশনভোগীরাও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর) পাবেন।

কর্মীদের ২০ শতাংশ DA বৃদ্ধি, কেন্দ্রের সঙ্গে মিটল ফারাক? নাকি পিছনেই রইলো রাজ্য!

খনি ও পরিবহন

বেআইনি খনি রোধে VLTD (Vehicle Location Tracking Device) ব্যবস্থা। খনি নজরদারির জন্য Enforcement Wing গঠন করা হবে। ই-অকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে খনি ইজারা।

বেকার, ছাত্রী ও মহিলাদের জন্য নতুন প্রকল্প

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘ভরসা কর্মসূচি’। ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যোগ্য শিক্ষিত বেকারদের মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। স্নাতকদের জন্য ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকা মাসিক সহায়তা মিলবে।

উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চালু হচ্ছে নতুন প্রকল্প। সরকারি ও সরকারি পোষিত কলেজে ভর্তি হওয়া অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

“অনুপ্রাণা” প্রকল্প ২৫–৬০ বছর বয়সি মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা। বরাদ্দ ৩৬,০০০ কোটি টাকা।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার সুবিধার সঙ্গে রাজ্যের অতিরিক্ত সহায়তা মিলিয়ে গর্ভবতী মায়েদের জন্য এককালীন ২১ হাজার টাকা এবং ছ’টি পুষ্টি কিট দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য পরিচালিত বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা কার্যকর করতে শীঘ্রই ‘পিঙ্ক কার্ড’ চালু করা হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি মহকুমায় একটি মহিলা থানা। প্রতিটি থানায় নারী সহায়তা ডেস্ক। মহিলা পুলিশ ফোর্স “দুর্গা সুরক্ষা” গঠন। “রানি শিরোমণি” নামে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন গঠন।

ভাতা ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি

বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশাকর্মীদের মাসিক সাম্মানিক ৫,০০০ টাকা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পারিশ্রমিক ৫,০০০ টাকা, প্যারা-টিচারদের সম্মানিক ৫,০০০ টাকা বাড়ানো হবে।

সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ, হোমগার্ড, এনভিএফ, প্রাণী বন্ধু, প্রাণী মিত্র-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক ২,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের মাসে ন্যূনতম ২০ দিনের কাজ নিশ্চিত করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের কন্ডাক্টর ও এজেন্সি কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক ১৬,০০০ টাকা।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক ৫,০০০ টাকা পেনশন, জরুরি অবস্থায় কারাবন্দি ব্যক্তিদের ১০,০০০ টাকা পেনশন এবং রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলার শিকারদের জন্য ‘সংগ্রামী ভাতা’ চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন জেলা, পুরসভা ও প্রশাসনিক সংস্কার

(West Bengal Budget 2026) বাজেটে পাঁচটি নতুন জেলা— কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর ও আরামবাগ— গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা এবং গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা তৈরি হবে।

শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচল, বেলদা, বাগনান, জয়গাঁ, কোলাঘাট, কামারপুকুর ও টুঙ্গিদিঘিতে নতুন পুরসভা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। একাধিক নতুন ফায়ার ব্রিগেড স্টেশনও তৈরি হবে।

আদিবাসী ও গ্রামীণ উন্নয়ন

Tribal University স্থাপন; বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা। VB-G-RAM প্রকল্পে ২৪,০০০ কোটি টাকা। PMAY-G-তে ১৩,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ২৫ লক্ষ নতুন উপভোক্তাকে আবাসন। Tea Workers Development Board গঠন করা হবে। PM Cha Shramik Protsahan Yojana চালু করা হবে। Tea Tourism Policy-তে চা-বাগানের বাণিজ্যিক ব্যবহার ৩০% থেকে কমিয়ে ১৫%। PM-AJAY প্রকল্পে ১,৫০০–২,০০০ গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া লোধা-শবর, টোটো ও বিরহোর সম্প্রদায়ের জন্য সাপ্তাহিক খাদ্য প্যাকেজের ঘোষণা। Dharti Aaba Janjatiya Gram Utkarsh Abhiyan বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিযায়ী শ্রমিক

পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। তাদের One Nation One Ration Card-এর আওতায় আনা হবে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

শিল্প, ব্যবসা ও প্রযুক্তিতে জোর

রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নতুন শিল্পনীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায় তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রুখতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করা হয়েছে। দোকান ও রেস্তোরাঁ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ভাবনাও রয়েছে।

নিউটাউনে নতুন সিভিল সার্ভিস অফিসার্স ইনস্টিটিউট, কলকাতায় সংস্কৃতি স্কুল এবং রাজ্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অগ্রণী করতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইমপ্যাক্ট AI মিশন’ চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। iGoT Mission Karmayogi-এর মাধ্যমে অনলাইন প্রশিক্ষণ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ

উত্তরবঙ্গে একটি AIIMS, একটি IIT, ক্যানসার হাসপাতাল এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পংয়ে নতুন মেডিক্যাল কলেজ হবে। ১৩টি মেডিক্যাল কলেজে ৬৫০টি MBBS আসন বাড়ানো হবে।

সুন্দরবন, পুরুলিয়া ও দার্জিলিংয়ে Super Speciality Hospital নির্মাণ করা হবে। সিউড়ি Super Speciality Hospital-কে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীতকরণ করা হবে।

AMRIT স্টোরের মাধ্যমে দামি ওষুধ ও ইমপ্লান্ট ৫০%-৯০% ছাড়ে দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলা ও মহকুমা হাসপাতালে AMRIT স্টোর চালু করা হবে। PMBJP (জনঔষধি) প্রকল্প চালু করার মাধ্যমে জেনেরিক ওষুধ ৫০%-৮০% কম দামে পাওয়া যাবে।

ফলতায় BPHC-কে ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীতকরণ। Comprehensive Emergency Obstetric Care (CEmOC) চালু। জলপাইগুড়িতে বন্যা প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে ৫০ কোটি টাকা।

এছাড়াও নতুন AYUSH বিভাগ গঠন করা হবে আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি পরিষেবা সম্প্রসারনের জন্য। জেলা ও মহকুমা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে AYUSH কর্মী নিয়োগ করা হবে।

প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং সেন্টার, ২,১০০ কোটি টাকায় আদর্শ বিদ্যালয় প্রকল্প, ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে।

যোগাযোগ ও পরিকাঠামোয় নজর

পুরুলিয়া, মালদা ও বালুরঘাটে নতুন বিমানবন্দর গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিলিগুড়ি, আসানসোল ও দুর্গাপুরে মেট্রো রেলের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে।

চিংড়িহাটা থেকে নিউটাউন পর্যন্ত ৯০০ কোটি টাকার এলিভেটেড করিডর, কালনা-শান্তিপুর সেতু; ব্যয় ১,২০০ কোটি টাকা। হাওড়া-দুর্গাপুরের মধ্যে প্রায় ১,৮৫০ কোটি টাকার কেবল-স্টেড রোড করিডোর, বীরভূমে NH-14-এর উপর চার লেনের সেতু, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান, মুড়িগঙ্গার উপর সেতু, ১৫টি নতুন সাবস্টেশন এবং ১২টি শহরে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলিং প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও নদীবন্দর উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সুন্দরবনে Pontoon Jetty ও সৌরচালিত নৌকা প্রকল্প; ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শালিমার–গার্ডেনরিচ অঞ্চলে RO-RO টার্মিনাল। গঙ্গা নদীতে সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প; ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। Maritime Board আরও শক্তিশালী করা হবে।

এছাড়াও UDAN প্রকল্পের অধীনে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদায় বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। কোচবিহার বিমানবন্দরকে বিমান পরিষেবার উপযোগী করা হবে। বিমানবন্দর উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। হাসিমারা এয়ারবেসে ২৫ একর এবং কালাইকুণ্ডা এয়ারবেসে ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করা হবে। কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দরের জন্য ১,২০০-১,৫০০ একর জমি শনাক্তকরণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৭ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা। PPP মডেলে ২,৮০০ মেগাওয়াট নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে BESS-সহ মেগা সোলার প্রকল্প চালু করা হবে। ১৫টি নতুন ৩৩/১১ KV সাব-স্টেশন। ১২টি শহরে ভূগর্ভস্থ কেবলিং প্রকল্প এর জন্য এই খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া PM Surya Ghar: Muft Bijli Yojana বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রিড-সংযুক্ত Solar PV Plant স্থাপন ও সরকারি অফিসে Solar PV Plant এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে SC/ST পরিবারকে অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

(West Bengal Budget 2026) ধাপা এলাকায় আধুনিক Solid Waste Management প্রকল্প এর ঘোষণা। KMC-এর ৭৩ হেক্টর জমি ব্যবহার করা হবে । Bio-CNG উৎপাদন, RDF Power Generation, Inverted Composting এর ব্যবস্থা করা হবে। এই বিষয়ে PPP মডেলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়ায় বড় বিনিয়োগ

AVGC-XR ও অ্যানিমেশনে প্রতি বছর ১ লক্ষ যুবক-যুবতীকে AVGC-XR প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৫০০টি Content Creator Lab এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া 3D Animation ও VFX-এর নতুন কোর্স চালু করা হবে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন Sports University স্থাপন করার জন্য বরাদ্দ ১৫০ কোটি টাকা। উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। একটি ইন্ডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করার জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা।

প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থাকবে। চলতি বছরে ১০০টি স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হবে। কলকাতার বিভিন্ন স্টেডিয়ামের সংস্কারে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পদকজয়ীদের জন্য সরকারি চাকরির নীতি এবং পুরস্কারের জন্য ৫০ কোটি টাকার Corpus Fund এর ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজ্যের সমস্ত বিধানসভায় মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, বাজেটে বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পর্যটন

৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে রাজ্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর স্মৃতিতে মূর্তি নির্মাণ ও গ্রন্থাগার উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে আধুনিক মিউজিয়াম ও কালচারাল সেন্টার তৈরি হবে।

কালীঘাট, তারাপীঠ, কঙ্কালিতলা-সহ বিভিন্ন তীর্থস্থানকে যুক্ত করে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলা হবে। ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি এবং দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযানেরও ঘোষণা করা হয়েছে।

মদের দোকানে কড়াকড়ি, ব্যবসায় তোলাবাজি রুখতে আইন

(West Bengal Budget 2026) বাজেটে সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা ধর্মীয় স্থানের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। কলকাতা পুরসভার (KMC) এলাকায় এই দূরত্ব হবে ৫০০ মিটার। পাশাপাশি ব্যবসায় সিন্ডিকেট রাজ, চাঁদাবাজি ও বেআইনি অর্থ আদায় রুখতে নতুন আইন আনার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। দোকান ও রেস্তোরাঁ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার লক্ষ্যে শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। গৃহবধূদের ক্লাউড কিচেন গড়ে তুলতে নতুন নীতিরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বাজেটে।

সামাজিক প্রকল্পে ধারাবাহিকতা

অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আরও ২১০টি মা আহার কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। মিড-ডে মিলের জন্য ছাত্রপিছু ১০ টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং রান্নার কর্মীদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণাও করা হয়েছে।

নিয়োগে স্বচ্ছতার জন্য নতুন কাঠামো

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা ফেরাতে রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থাকে UPSC-এর ধাঁচে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতা বাড়বে।

বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি

স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গতি আনতে বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল (MLA LAD Fund) বছরে ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (West Bengal Budget 2026) মূলত চাকরি, ডিএ, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের উপর জোর দিয়েছে। ঋণের ভার সামলেও উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের প্রথম বাজেট বক্তৃতায়।


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment