ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যেই ফের হামলা চালাল রাশিয়া (Russia Ukraine War)। মঙ্গলবার রাতভর রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। যাত্রিবাহী ট্রেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিকাঠামো এবং আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বের খারকিভ অঞ্চলে প্রায় ২০০ যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের কামরায় ড্রোন হামলা হয়। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভরাডেনকো জানান, ওই ঘটনায় অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জ়েলেনস্কি বলেন, “যাত্রিবাহী ট্রেনে হামলার কোনও সামরিক যুক্তি থাকতে পারে না। এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ।”
দক্ষিণ ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসায় ৫০টির বেশি ড্রোন হামলায় আরও তিন জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা এবং দুই কিশোরী। এএফপি সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি তুলে ধরেন। জানান, একাধিক আবাসিক ভবন, স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও একটি গির্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডোনেৎস্ক অঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক শহরে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে, যদিও তাঁদের ২০ বছরের ছেলে প্রাণে বেঁচেছেন। জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন এলাকাতেও ড্রোন ও গোলাবর্ষণে আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি শক্তি পরিকাঠামোয় হামলার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎ, আলো ও গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ইউক্রেনের শক্তি সংস্থা ডিটিইকে জানিয়েছে, ওডেসা অঞ্চলে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থা নাফটোগাজও জানিয়েছে, পশ্চিম ইউক্রেনে তাদের একটি গ্যাস স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
এই হামলার নিন্দা করে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতিটি আঘাত যুদ্ধবিরতির আলোচনার চেষ্টাকে দুর্বল করছে।’ উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছিল। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন করে আলোচনার কথা থাকলেও, এই লাগাতার হামলা শান্তির সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।









