কর্মীদের ছাঁটাই করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদসংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। চাকরি হারিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের ছেলে ঈশান থারুরও।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শশীর ছেলে ঈশান থারুর চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের খবরটি নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন। (Washington Post)
দফতরের দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে সেই প্রদীপ্ত বাক্য— “Democracy Dies in Darkness”. কিন্তু সেই দফতরের করিডরেই যে আজ বিষণ্ণতার নেমে আসবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি ঈশান থারুর। দীর্ঘ ১২ বছরের এক নিবিড় সম্পর্কের অবসান ঘটল মাত্র কয়েক মুহূর্তের ছাঁটাইয়ের নো়টিশে। বুধবার আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ চলা নজিরবিহীন এক ‘সাফাই অভিযানে’ কাজ হারালেন আন্তর্জাতিক কলামিস্ট শশী-পুত্র ঈশান। নিজের প্রিয় ডেস্ক, সহকর্মী আর অগণিত পাঠকের থেকে এভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঈশান সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন— “A bad day”. আর সেই বার্তার পিছনে লুকিয়ে রইল এক অভিজ্ঞ সাংবাদিকের গভীর যন্ত্রণা। (Washington Post)
নিজের কষ্টের কথা ভাগ করে নিতে গিয়ে ঈশান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি “মর্মাহত”। তিনি নিজের জন্য যতটা না দুঃখিত, তার চেয়েও বেশি মর্মাহত তাঁর প্রিয় সহকর্মী এবং সংবাদকক্ষটির করুণ দশা দেখে। ২০১৭ সাল থেকে ঈশানের লেখা ‘ওয়ার্ল্ডভিউ’ কলামটি বিশ্বের কয়েক লক্ষ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা আর পাঠকদের অগাধ ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও এভাবে বিদায় নিতে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। (Washington Post)
এক্স হ্যান্ডেলে ঈশান লিখেছেন, “I’m heartbroken for our newsroom and especially for the peerless journalists who served the Post internationally.” তাঁর মতে, এই অসামান্য সাংবাদিক এবং সম্পাদকদের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা তাঁর কাছে ছিল এক পরম প্রাপ্তি। (Washington Post)
ছেলের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা শশী থারুরও। ঈশানের সেই বার্তাটি তিনি নিজের প্রোফাইল থেকেও শেয়ার করেছেন। (Washington Post)
সংবাদপত্রের বিপুল আর্থিক লোকসান সামলাতে কর্তৃপক্ষ ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিলেও, ঈশানের মতো অভিজ্ঞ মানুষের চলে যাওয়া পাঠক মহলেও প্রভাব পড়েছে। আসলে এই ছাঁটাই কেবল ব্যক্তি ঈশানের বিদায় নয়, বরং ওয়াশিংটন পোস্টের খোলনলচে বদলে ফেলার এক চরম পদক্ষেপ। (Washington Post)
জানা গিয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ১৭ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার লোকসানের বোঝা সামলাতে এক-তৃতীয়াংশ কর্মীকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিক জেফ বেজোস। এই রদবদলে গুরুত্ব হারিয়েছে পত্রিকাটির দীর্ঘদিনের বিভাগগুলো। পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্পোর্টস ডেস্ক এবং বইয়ের সমালোচনা বিভাগ। এমনকি যে আন্তর্জাতিক খবরের জন্য এই সংবাদপত্র বিশ্বখ্যাত ছিল, সেই আন্তর্জাতিক ডেস্কের পরিধিও মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। (Washington Post)
দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ব্যুরো থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের রিপোর্টিং টিম— বাদ পড়েননি কেউই। যে লেখনির মাধ্যমে ঈশান বিশ্ব রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলতেন, সেই কলম এখন স্তব্ধ। ওয়াশিংটন পোস্টের দফতরে আজ কেবল একরাশ স্তব্ধতা। নিজের ‘ওয়ার্ল্ডভিউ’ কলামের অগণিত অনুরাগী আর সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েই দীর্ঘ এক যুগের ঠিকানাকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। (Washington Post)











