মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের পর থেকে ইস্তফা দিলেন তুলসী গ্যাবার্ড (Trump’s Intelligence Chief Resignation)। শুক্রবার ওভাল অফিসে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান গ্যাবার্ড। আগামী ৩০ জুন তিনি এই পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
তুলসি গ্যাবার্ড (Tulsi Gabbard) জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী আব্রাহামের শরীরে অত্যন্ত বিরল এক ধরনের ক্যানসার ধরা পড়েছে। এই কঠিন লড়াইয়ে স্বামীর পাশে থাকার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। ট্রাম্পকে (Donald Trump) পাঠানো নিজের ইস্তফাপত্রের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তুলসি। তিনি জানিয়েছেন, এগারো বছরের বিবাহিত জীবনে তাঁর স্বামীই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ‘বিবেকের তাড়না’ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও মার্কিন প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য তুলসী আসলে স্বামীর অসুস্থতাকে একটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করলেন গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরে যেতে। তিনি আসলে কাজটি উপভোগ করছিলেন না। এর পেছনেও আরও অনেক কারণ দেখছেন অনেকেই।
কারণ, গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক শীর্ষ আধিকারিকদের পদত্যাগ বা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। মার্চ মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমকে সরিয়ে দেওয়া, অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির পদত্যাগ এবং এপ্রিলে লেবার সেক্রেটারি লরি শাভেজ ডেরেমারের সরে দাঁড়ানোর পর তুলসির এই বিদায় প্রশাসনিক মহলে এক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়া তুলসি গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে বেশকিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার বার্ষিক খরচ প্রায় সত্তর কোটি মার্কিন ডলার কমিয়েছিলেন তিনি। প্রায় পাঁচ লক্ষ গোপন সরকারি নথি প্রকাশও করেছিলেন তিনি। যার মধ্যে ছিল ট্রাম্প—রাশিয়া তদন্ত, কেনেডি হত্যাকাণ্ড, ২০১৬ সালের আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ মামলার মত বিষয়।
বর্তমান ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হিসেবে পরবর্তী দায়িত্ব সামলাবেন। তবে তুলসির এই হঠাৎ পদত্যাগ কি নিছকই পারিবারিক, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ। সেটাই এখন ভাবাছে।















2 thoughts on “মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা, কেন সরলেন তুলসী গ্যাবার্ড?”
Comments are closed.