চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) ইতিহাসে এমন মরসুম খুব কমই এসেছে, যেখানে মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আলোচনায় থেকেছে ড্রেসিংরুমের নীরবতা। আইপিএল ২০২৬-এ একটিও ম্যাচ না খেলেও পুরো মরসুম জুড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিলেন (MS Dhoni) মহেন্দ্র সিং ধোনি। আর প্লে-অফের দৌড় থেকে সিএসকে ছিটকে যাওয়ার পর সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে—ধোনির ভবিষ্যৎ কি আর হলুদ জার্সিতে নয়?
প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ও ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত প্রকাশ্যে সিএসকে ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করে বলেছেন, ধোনিকে ঘিরে পুরো মরসুম জুড়ে “মিশ্র বার্তা” দেওয়া হয়েছে। কখনও বলা হয়েছে পরের ম্যাচে ফিরতে পারেন, কখনও নেটে অনুশীলনের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে, আবার পরে চোটের কথা জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল যে ধোনি পুরো মরসুম খেলবেন না।
শ্রীকান্ত আরও দাবি করেন, সমর্থকদের সঙ্গে আবেগের খেলায় না গিয়ে বাস্তব জানানো উচিত ছিল। তাঁর মন্তব্য, (MS Dhoni) ধোনিকে নিয়ে কৌতূহল থাকলেও মাঠে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে আর আগের মতো প্রশ্ন উঠছে না। তাঁর বক্তব্য, “ধোনি যুগ শেষ”—এই মন্তব্যই এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্র।
অন্যদিকে, ধোনি ও সিএসকে ম্যানেজমেন্টের সম্পর্ক গত দু’বছরে ধীরে ধীরে খারাপ হয়েছে। অভিযোগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনায় সিনিয়রদের গুরুত্ব কমাতে শুরু করেছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিশেষ করে স্কোয়াড পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য ট্রান্সফার, ধোনির সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে বলে এমনটাই শোনা যাচ্ছে।
(MS Dhoni) ধোনি শারীরিকভাবে অনেকটাই ফিট হয়ে উঠলেও দলীয় কম্বিনেশন নষ্ট করতে চাননি। প্রথমদিকে কাফ ইনজুরি এবং পরে পুনরায় ফিটনেস সমস্যা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেননি। তবে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ক্রিকেটীয় ছিল নাকি এর পিছনে আরও গভীর অস্বস্তি কাজ করেছে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
CSK vs MI: চোট সেরে যাওয়ার পরও মাঠে এলেন না ধোনি-রোহিত, এমন কী হলো?
সিএসকে ও ধোনি: সংখ্যার বাইরে এক আবেগের গল্প
আইপিএল মানেই বহু সমর্থকের কাছে ধোনি আর সিএসকে—এই সমীকরণ প্রায় অবিচ্ছেদ্য। ২০০৮ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজির শুরু থেকে ধোনির নেতৃত্বে পাঁচটি আইপিএল শিরোপা, একাধিক ফাইনাল এবং বিশ্বের অন্যতম সফল টি-২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে চেন্নাই। শুধু অধিনায়ক নয়, দল গঠন, সংস্কৃতি তৈরি, চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত—সবকিছুরই কেন্দ্র ছিলেন ধোনি (MS Dhoni)।
তাই ১৮ বছরের এই সম্পর্ক যদি সত্যিই শেষের পথে যায়, সেটি শুধুই ক্রিকেটীয় বিচ্ছেদ হবে না, হবে আইপিএলের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি। এ মরসুমে ধোনি মাঠে না থাকলেও প্রতিটি ম্যাচে তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এটাই দেখিয়ে দেয় সিএসকে-তে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর।
এদিকে সিএসকে-র কোচিং সেটআপ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিনের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী পরিকল্পনা ধোনির সিদ্ধান্তের উপরও নির্ভর করতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, ধোনির উপস্থিতি ভবিষ্যৎ কোচদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—(MS Dhoni) ধোনি কি আইপিএল থেকে পুরোপুরি বিদায় নেবেন নাকি নতুন ভূমিকায় ফিরবেন? অনেক সাবেক ক্রিকেটার মনে করছেন, খেলোয়াড় হিসেবে নয়, মেন্টর বা ক্রিকেট অপারেশনসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ধোনি এখনও সিএসকে-র সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারেন। অন্যদিকে সিএসকে-ও হয়তো নতুন প্রজন্মের দল গড়ার পথে এগোতে চাইছে।
এখনও পর্যন্ত (MS Dhoni) ধোনি বা সিএসকে—কেউই বিচ্ছেদের জল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। কিন্তু ২০২৬ মরসুম শেষে যদি সত্যিই ধোনি-সিএসকে অধ্যায়ের পর্দা নামে, তাহলে সেটি আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন বিদায়ের অন্যতম মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
রাজস্থানের জয়েই প্লে-অফের স্বপ্নভঙ্গ KKR-এর, প্লেঅফের ছবিটা কেমন?











