২০২১ সালে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকায় নতুন পালক সংযোজিত হয়েছিল। দেশে তৈরি প্রথম কোনও অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল (এআরএম) বা রেডার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘রুদ্রম-১’-এর সফল পরীক্ষা করেছিল প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। এবার ‘রুদ্রম-২’-এর (RudraM-II) সাফল্য দাপট ভারতের। আকাশ থেকে ভূমিতে এই ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারতের ‘প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ (ডিআরডিও)।
মঙ্গলবার ডিআরডিও-র তরফে বলা হয়েছে, ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান থেকেও দ্বিগুণ গতিবেগ সম্পন্ন‘রুদ্রম-২’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
কী কী নয়া প্রযুক্তি থাকছে এই ক্ষেপনাস্ত্রে? ডিআরডিও সূত্রের খবর, এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে রাডার, ট্র্যাকিং এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম। ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা যেতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। মার্কিন ‘এজিএম-৮৮ই’ ‘অ্যান্টি রেডিয়েশন গাইডেড মিসাইল’-এর সমতুল্য এই ক্ষেপণাস্ত্র। এইটি বিকিরণ বা বিচ্ছুরণের (তাপ, তেজস্ক্রিয়তা বা রশ্মি) উৎসগুলি সহজেই চিহ্নিত করতে পারে (RudraM-II)।
এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি শত্রুর যে কোনও জ্যামিং প্ল্যাটফর্মের জাল ছিঁড়তে করতে বা রেডার স্টেশনগুলিকে অকেজো করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। এর ফলে, নিজ যুদ্ধবিমানগুলি অনায়াসে বিনা বধায় শত্রুর আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে।
এর আগে ২০২১ সালে বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে পরীক্ষামূলক নিক্ষেপ করা হয়েছিল রুদ্রম ১ ক্ষেপণাস্ত্র। ডিআরডিও জানায়, একেবারে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আছড়ে পড়েছিল রুদ্রম ১।
এই পরীক্ষা ভারতকে এক লপ্তে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। আধুনিক রণকৌশলের নিরিখে এটা একটা বিরাট লাফ বলে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই সাফল্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।















1 thought on “আকাশসীমায় দাপট দেখাল ‘রুদ্রম-২’, এবার নিমেষে শেষ হবে শত্রুপক্ষের বিমান!”
Comments are closed.