কুশল চক্রবর্তী
বিজ্ঞাপন কি সবসময় ঠিকঠাক কথা বলে? মনে তো হয় না। ভারতের প্রাইভেট ব্যাঙ্কের অনেকেই জোর গলায় সেভিংস অ্যাকাউন্টে বেশী সুদের কথা ঘোষণা করে, কিন্তু কখনও কি বলে যে তাদের সেভিংস ব্যাঙ্কে ন্যূনতম কত টাকা না রাখলে কত টাকা কেটে নেওয়া হবে? কিন্তু কয়েকদিন আগে ভারতীয় লোকসভায় সরকার পক্ষের প্রতিনিধি ঘোষণা করলেন এই অর্থবর্ষ মানে ২০২৫-২৬ শে ব্যাঙ্কের সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা না রাখার জন্য ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলো ৭১০০ কোটি টাকা আয় করেছে (Minimum Balance Penalty Banks India)। দেখা যাচ্ছে এই আয়ের ৭০% গিয়েছে প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলোর ঘরে। গত বছর মানে, ২০২৪-২৫ সালে ব্যাঙ্কগুলোর এই খাতে আয়ের পরিমাণ কিন্তু ছিল ৬৮০০ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের এই ৭১০০ কোটি টাকা আয়ের মধ্যে HDFC ব্যাঙ্ক আয় করেছে ১৮০০ কোটি টাকা, ICICI আয় করেছে ৩৫৩ কোটি টাকা আর AXIS ব্যাঙ্ক আয় করেছে ১০৮১ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: বিক্রি হয়ে যাচ্ছে IDBI Bank, কী হবে আপনার টাকার?
বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রাহকদের প্রতিবাদে, এই ন্যূনতম টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে না রাখলে টাকা কাটার ব্যাপারটা নিয়ে সরকার বাহদুরও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোকে ভাবতে বলে। এক এক করে ১২টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মধ্যে এখন ১০টি ব্যাঙ্কেই সেভিংস ব্যাঙ্কে আর ন্যূনতম টাকা না রাখলে টাকা কাটা হবে না, এমন বন্দোবস্ত করে। এমনকী কোনও টাকা না রেখেই ব্যাঙ্কে সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে তারও বন্দবস্ত করে।
কিন্তু এই ব্যাপারে প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলোর কোনও হেলদোল দেখা যায়নি। তারা শুধু যে সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না রাখলে কিছু টাকা শাস্তিস্বরূপ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নিয়েছে, তা নয়। কোনও কোনও ব্যাঙ্ক এমন নিয়ম করেছে যে, কোনও স্যালারি অ্যাকাউন্ট, যা কি না শূন্য টাকায় খোলা হয়েছিল, তাতে তিন মাস বেতন জমা না হলে, তাকে সাধারণ সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বলে গ্রাহ্য করে টাকা কাটার বন্দোবস্ত করছিল। এই ভাবেই বাড়ছিল তাদের আয়ের রাস্তা।
অন্যদিকে দেখুন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলো সেভিংস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা না রাখার জন্য আয় করেছে মাত্র ২১৩৭ কোটি টাকা, যা কি না গত বছর মানে ২০২৪-২৫ সালে এই খাতে আয় করা ২৭৭৫ কোটি টাকা থেকে অনেক কম।
সেভিংস আর কারেন্ট অ্যাকাউন্টে সুদ কম দিতে হয় বলে ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে সবসময়ই এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খুব প্রয়োজনীয়। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলো মানুষকে জমার উৎসাহ দিতে, আর সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় লেনদেনের জন্য এই অ্যাকাউন্টকে ব্যাঙ্কের সম্পদ বলেই ঘোষণা করেছে। অতএব তাঁরা এই অ্যাকাউন্টের পরিষেবাজনিত খরচের কথা না ভেবে শূন্য টাকাতেই অ্যাকাউন্ট খুলেছে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষদের।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট? টাকা পাবেন কী করে? বড় পদক্ষেপ নিল EPFO
অন্যদিকে প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলো তাদের সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে চাপিয়ে দিচ্ছে অনেক টাকা রাখার বোঝা। এমনকি একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ওই অ্যাকাউন্টে না রাখলে কেটেও নিচ্ছে টাকা। আর সেভিংস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা না রাখার ফলে শাস্তিস্বরূপ অর্জিত টাকা জমা হচ্ছে তাদের লাভের খাতায়। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েও তাদের লাভ ক্ষতির দৌড়ে থাকতে হচ্ছে প্রাইভেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে। আর তা যদি না হয় তবেই বলা হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক মার্জার করা হবে। এর মধ্যেই সরকার বাহাদুরের কৃপায় ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ১২টিতে নেমে এসেছে। ১৯৬৯ সালের ১৯ জুলাই ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবসায় রাষ্ট্রীয়করনের যে অসাধারন সিদ্ধান্ত আপামর ভারতবাসীকে চিন্তা মুক্ত করেছিল, তা নিয়েও কি এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে?













1 thought on “সাধারণ মানুষের কথা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ভাবে কি?”