লোকালয়ে ঢুকতেই হারিয়ে গিয়েছিল সন্তান। সন্তানকে হন্যে হয়ে খুঁজতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলো মা গন্ডারের। গ্রাম থেকেই উদ্ধার হল মা গন্ডারের মৃতদেহ। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের কুঞ্জনগর সিনাপাড়া বস্তি এলাকায়। তবে কীভাবে গন্ডারটির মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বন দফতরের কর্মীরা। গন্ডারের দেহ উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে কুনকি হাতি নিয়ে আসা হয় (rhino dies)।
rhino dies: কীভাবে মৃত্যু হলো?
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে একটি মা গন্ডারকে তার শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর কোনওভাবে মায়ের কাছ থেকে শাবকটি আলাদা হয়ে যায়। এরপর শাবকের খোঁজে মা গন্ডারটি বস্তির বিভিন্ন এলাকায় ছোটাছুটি করতে শুরু করে। সেই সময় একটি ঘরের উপরও হামলা চালায় বলে স্থানীয়দের দাবি (rhino dies)।
দীর্ঘক্ষণ দৌড়দৌড়ির পর গন্ডারটি একটি বাঁশবাগানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে গন্ডারটির কোনও নড়াচড়া না করায়, স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হয়। পরে তাঁর কাছে গিয়ে দেখেন, গন্ডারটি মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বন দফতরে খবর দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে অনুমান, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল থেকে নদী পেরিয়ে শাবককে সঙ্গে নিয়ে গন্ডার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। বন দফতরের পক্ষ থেকে তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
গন্ডারটির শাবক বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং তার পরিস্থিতি কী? তা নিয়েও উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বন দফতরের তরফে শাবকটির সন্ধান ও নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বনাঞ্চল সংলগ্ন লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে হাতি ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিংবা অসুস্থতায় হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তবে লোকালয়ের মধ্যে গন্ডারের মৃত্যু অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।












