নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। আর সেই উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়েই ফের মিলল ৫ জনের দেহ। ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভিতর থেকে ওই পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেছে ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্ধারকারী দল। তবে টানেলের ভিতরে আর কাউকেই জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব। (Nepal Flood)
উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস হঠাৎ হড়পা বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। তার ফলে কাদামাটির জলের স্রোত দ্রুত গতিতে নেমে আসে ভোতেকোশি নদীতে। তীব্র স্রোতে উত্তর ও মধ্য নেপালের একাধিক শহর ও গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় বহু বাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও সেতু। ক্ষতির মুখে পড়ে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
এমনই একটি প্রকল্পের অংশ ছিল চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বন্যার পর থেকেই চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভিতরে কয়েকজন কর্মী আটকে থাকার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিক ভাবে ৬ জন কর্মী সেখানে আটকে পড়েছেন বলে মনে করা হয়েছিল। তাঁদের উদ্ধারে ভারতীয় সেনা ও নেপালি সেনার দল যৌথ ভাবে অভিযান শুরু করে।
তবে উদ্ধারকাজ মোটেই সহজ ছিল না। টানেলের মুখ পর্যন্ত পৌঁছতেই বিপুল পরিমাণ কাদা ও পলি সরাতে হয়। ধ্বংসস্তূপের উপর দিয়ে এবং নদীর ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে এগোতে হয় উদ্ধারকারীদের। হেলিকপ্টারের সাহায্যও নেওয়া হয়। বেশ কয়েক দিন ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করার পর বুধবার সকালে উদ্ধারকারী দল শেষ পর্যন্ত টানেলের ভিতরের পাওয়ার হাউসে পৌঁছতে সক্ষম হয়। সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেন। এরপরও টানেলের ভিতরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি।
উদমপুরে গুলির লড়াই, ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে খতম ২ জঙ্গি
নবীন শ্রীবাস্তব সমাজমাধ্যমে জানান, কয়েক দিন ধরে টানেলের ভিতর থেকে কাদা ও পলি সরানোর কঠিন কাজ চলার পর বুধবার সকালে ভারতীয় ও নেপালি দল পাওয়ারহাউসে পৌঁছয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেখানে কোনও জীবিত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। কেবল পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। (Nepal Flood)
ভয়াবহ বন্যার এতদিন পর পাঁচজনের দেহ উদ্ধার হওয়ায়, টানেলের ভিতরে আরও কেউ আটকে থাকতে পারে এই আশঙ্কায় এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে বিগত কয়েক দিনে বিপর্যয়ের যে ধ্বংসলীলা সকলে দেখেছে সেখানে এই ধরনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল এর মধ্যে এতদিন ধরে আর কারও বেঁচে থাকার আশ্বাস নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। তবুও উদ্ধারকাজে যাতে কোনও খামতি না থাকে সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে। জীবিত অবস্থায় না হলেও অন্তত প্রিয় মানুষের নির্জীব দেহটাও যাতে পরিবারের কাছে পৌঁছয় সেই চেষ্টাই করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।














1 thought on “নেপাল বন্যার মর্মান্তিক পরিণতি, চিলিমে টানেল থেকে উদ্ধার ৫ মৃতদেহ”
Comments are closed.