ডার্বি নয়, তবু গ্যালারিতে এক চুল জায়গাও ফাঁক নেই। এমন ছবি বোধ হয় অনেকদিন পর দেখা গেল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মঙ্গলবার হাজার হাজার সবুজ-মেরুন সমর্থকের গর্জনে যেন ফিরে এল নয়ের দশকের সেই চেনা ফুটবল উন্মাদনা। কিন্তু গ্যালারি ভরলেও সমর্থকদের জয়ের আনন্দ উপহার দিতে পারল না মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। একের পর এক আক্রমণ, গোলের সুযোগ, এমনকি পেনাল্টি পেয়েও শেষ পর্যন্ত নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হলো শুভাশিস বসুদের। মোহনবাগানের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেন নর্থ ইস্টের গোলকিপার দীপেশ চৌহান। তাঁর অসাধারণ গোলকিপিং এবং মিগুয়েল ফিগুয়েরার পেনাল্টি মিসের খেসারত দিতে হলো সবুজ-মেরুনকে।
Mohun Bagan vs North East United: শুরু থেকেই আক্রমণ, তবু গোলের দেখা মিলল না প্রথমার্ধে
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দুই প্রান্ত ব্যবহার করে নর্থ ইস্টের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করে মোহনবাগান। অধিনায়ক শুভাশিস বসুর নেতৃত্বে রক্ষণ সামলে সামনে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন ছাংতে, লিস্টন কোলাসো এবং লি এরউইনরা। একের পর এক আক্রমণে নর্থ ইস্টের বক্সে ঢুকে পড়লেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ খুলতে পারেনি বাগান।
১৬ মিনিটে সামির জেলকোভিচের পাস থেকে লি এরউইনের বাড়ানো চিপে মাথা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেন ছাংতে। কিন্তু অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি তিনি। অন্যদিকে, প্রথম ৪৫ মিনিটে কার্যত কোনও বড় গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। ড্রিঙ্কস ব্রেকের পরেও মোহনবাগানের আক্রমণের গতি কমেনি। তবে নর্থ ইস্টের গোলকিপার দীপেশ চৌহানের সতর্কতায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
এরউইনের গোলে এগিয়ে বাগান, পেনাল্টি বাঁচিয়ে ম্যাচে ফেরালেন দীপেশ
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশেষে গোলের দেখা পায় মোহনবাগান। ৪৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জেমি ম্যাকলারেন হেড করে বল বাড়িয়ে দেন লি এরউইনের দিকে। বক্সের মধ্যে তৈরি ছিলেন স্কটিশ স্ট্রাইকার। সামনে এগিয়ে আসা গোলকিপারকে পাশ কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
গোল পাওয়ার পরেও আক্রমণ চালিয়ে যায় সবুজ-মেরুন। ৬৯ মিনিটে দেজান দ্রাজিচের শট গোলকিপারের হাত থেকে বেরিয়ে নর্থ ইস্টের ডিফেন্ডার থৈবা সিংয়ের হাতে লাগে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ৭০ মিনিটে স্পট-কিক নিতে এগিয়ে আসেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা। কিন্তু তাঁর শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন দীপেশ। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করে মোহনবাগান।
লক্ষাধিক টাকার ব্যাট চুরি, যোগী নাকি মোদি কার কাছে নালিশ করবেন দীপক চাহার?
আর তার ঠিক দু’মিনিট পরেই ঘটে বিপত্তি। ৭২ মিনিটে মোহনবাগানের রক্ষণে ফাঁক পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান নর্থ ইস্টের পরিবর্ত ফরোয়ার্ড এথিয়ান। একক প্রচেষ্টায় গোলকিপারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ১-১ গোলে সমতা ফেরায় নর্থ ইস্ট। এর মধ্যেই ৭৬ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে হয় ম্যাকলারেনকে। তাঁর পরিবর্তে নামানো হয় সুহেল ভাটকে।
শেষ মুহূর্তে ঝড় তুলেও জয় অধরা, দেওয়াল হয়ে দাঁড়ালেন দীপেশ
সমতা ফেরার পর ম্যাচের শেষ দিকে ফের আক্রমণের ঝড় তোলে মোহনবাগান। শেষ ১০ মিনিট এবং অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটের ইনজুরি টাইমে নর্থ ইস্টের বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালায় সবুজ-মেরুন। কিন্তু প্রতিবারই বাগানের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান দীপেশ চৌহান।
৯০ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে গোল করার মরিয়া চেষ্টা করেন শুভাশিস বসু। সেই আক্রমণ রুখতে গিয়ে চোট পান দীপেশ। তবে ব্যান্ডেজ বেঁধে ফের মাঠে ফিরে আসেন তিনি। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ৯৩ মিনিটে সুহেল ভাটের দূরপাল্লার জোরালো শট প্রতিহত হয়ে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোলের চেষ্টা করেন কিয়ান নাসিরি। সেই আক্রমণও আটকে দেন নর্থ ইস্টের গোলকিপার।
শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে সুহেল ভাটের বাড়ানো ক্রস থেকে শট নেন ছাংতে। কিন্তু নর্থ ইস্টের রক্ষণে আটকে যায় সেই প্রচেষ্টাও। শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি কোনও দল। অমীমাংসিতভাবেই শেষ হলো আজকের ম্যাচ।
তবে মঙ্গলবার যুবভারতীর গ্যালারিতে সমর্থকদের উন্মাদনা প্রমাণ করল, কলকাতার ফুটবলে এখনও দর্শকদের আবেগ কতটা গভীর। তবে মাঠের লড়াইয়ে দাপট দেখিয়েও জয় না পাওয়ায় হতাশ হয়েই ফিরতে হলো সবুজ-মেরুন সমর্থকদের।













1 thought on “যুবভারতীতে সবুজ-মেরুন ঝড়, পেনাল্টি মিসে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে জয় অধরা মোহনবাগানের”
Comments are closed.