ভারতের অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন উত্তরপ্রদেশের তরুণ দৌড়বিদ গুলবীর সিং (Gulveer Singh)। এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে একের পর এক পদক জিতে নজির গড়লেন তিনি। মঙ্গলবার পুরুষদের ৫,০০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতার সঙ্গেই পূর্ণ হলো তাঁর পদকের হ্যাটট্রিক। আর সেই সাফল্যেই ভাঙল ৪০ বছরের অপেক্ষা। কিংবদন্তি পিটি ঊষার পর প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে এশিয়ান গেমসের একই আসরে তিনটি ব্যক্তিগত পদক জয়ের কীর্তি গড়লেন গুলবীর।
নাগোয়ার অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে ৫,০০০ মিটার ফাইনালে ১৩ মিনিট ৩২.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন তিনি। সোনা বা রুপো না পেলেও এই ব্রোঞ্জ পদকের গুরুত্ব অনেকটাই আলাদা। কারণ, এই পদক শুধু গুলবীরের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকল।
Asian Games 2026: তিন ইভেন্টে তিন পদক, নজির গুলবীরের
চলতি এশিয়ান গেমসে গুলবীরের পদক জয়ের শুরুটা হয়েছিল ১০,০০০ মিটার দৌড় দিয়ে। সেই ইভেন্টে ২৮ মিনিট ২৯.৩৮ সেকেন্ড সময় করে রুপো জিতেছিলেন তিনি। এরপর ১,৫০০ মিটার দৌড়েও নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। ৩ মিনিট ৩৬.৭২ সেকেন্ড সময় করে নিজের ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং গড়ে আরও একটি রুপো জেতেন তিনি।
এরপর মঙ্গলবার ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে তিনটি আলাদা দূরত্বের দৌড়ে তিনটি ব্যক্তিগত পদক জয়ের নজির গড়লেন গুলবীর। একজন অ্যাথলিটের কাছে এমন সাফল্য যে কতটা কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দৌড় শেষ হওয়ার পর নিজের এই ঐতিহাসিক কীর্তি নিয়ে গুলবীর জানান, পিটি ঊষার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাবে, এমনটা তিনি ভাবতেই পারেননি। তাঁর কথায়, ‘‘সত্যি বলতে, এই রেকর্ডের গুরুত্ব আমি জানতামই না। আমি তো দৌড় শুরু করেছি ২০২১ সালে। ১৯৮৬ সালে পিটি ঊষা ম্যাম যখন পদক জিতেছিলেন, তখন আমার জন্মও হয়নি।’’
তবে তিনটি পদক জিতেও আক্ষেপ থেকে গিয়েছে গুলবীরের (Gulveer Singh) মনে। দেশের হয়ে পদক জিতলেও পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও আক্ষেপ নেই, কিন্তু একটা আশা ছিল যে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে দেশের জাতীয় সঙ্গীত শুনতে পাবেন। সেটা না হওয়ায় একটু খারাপ লাগছে। তবে পরের বার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে বলেই আশাবাদী তিনি।
যুবভারতীতে সবুজ-মেরুন ঝড়, পেনাল্টি মিসে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে জয় অধরা মোহনবাগানের
পিটি ঊষার স্মৃতি ফিরল ৪০ বছর পর
ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে পিটি ঊষার নাম যে কতটা উজ্জ্বল, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে চারটি পদক জিতেছিলেন তিনি। ২০০ মিটার, ৪০০ মিটার ও ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা এবং ১০০ মিটারে রুপো জিতেছিলেন এই কিংবদন্তি অ্যাথলিট।
সেই আসরের পর দীর্ঘ চার দশক কোনও ভারতীয় অ্যাথলিট একই এশিয়ান গেমসে তিনটি ব্যক্তিগত পদক জিততে পারেননি। গুলবীরের হাত ধরে সেই অপেক্ষার অবসান। যদিও পদকের সংখ্যা ও ইভেন্টের নিরিখে দু’জনের সাফল্যের ধরন আলাদা, তবুও ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এই কীর্তি নিঃসন্দেহে বিশেষ জায়গা করে নেবে।
গুলবীরের সাফল্য অবশ্য একেবারে আচমকা আসেনি। এর আগেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ১০,০০০ মিটারে রুপো এবং ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে এক আসরে দুটি ট্র্যাক পদক পাওয়া প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হওয়ার নজির গড়েছিলেন তিনি।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও জোড়া সোনা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। শুধু তাই নয়, ৫,০০০ মিটারে ১২ মিনিট ৫৯.৭৭ সেকেন্ড এবং ১০,০০০ মিটারে ২৭ মিনিট ০.২২ সেকেন্ড সময় করে জাতীয় রেকর্ডও গড়েছেন গুলবীর।
নাগোয়ার ট্র্যাকে ঊষার রেকর্ড ভেঙে নজির বিদ্যারও
উল্লেখ্য, এবারের এশিয়ান গেমসে পিটি ঊষার নাম বারবার উঠে আসছে। গুলবীর যখন চার দশক পর তাঁর ঐতিহাসিক সাফল্যের তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করলেন, তখনই মহিলাদের অ্যাথলেটিক্সেও ঊষার রেকর্ড ভেঙে নজর কাড়লেন বিদ্যা রামরাজ। (Asian Games 2026)
মহিলাদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে ৫৪.৭৫ সেকেন্ড সময় করে ব্রোঞ্জ জেতেন বিদ্যা। সেই সঙ্গে ১৯৮৪ সালের অলিম্পিকে পিটি ঊষার গড়া দীর্ঘদিনের জাতীয় রেকর্ডও ভেঙে দেন তিনি।
মিক্সড রিলেতে রুপো জয়ের পর মহিলাদের ৪x৪০০ মিটার রিলেতেও পদকের লড়াইয়ে রয়েছেন বিদ্যা। সব মিলিয়ে নাগোয়ার ট্র্যাকে ভারতীয় অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্সে নতুন করে আশার আলো দেখছে দেশের ক্রীড়ামহল। গুলবীরের তিন পদক ও বিদ্যার রেকর্ড ভাঙা—দুই সাফল্যই প্রমাণ করছে, ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন প্রজন্ম নিজেদের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেছে।












1 thought on “৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান, পিটি ঊষার পর এশিয়াডে ইতিহাস গুলবীরের”
Comments are closed.