হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ থেমে গেলে হাতে সময় থাকে খুব কম থাকে। তখন প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। (CPR Guide) এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত CPR শুরু করা আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্ত চলাচল বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ CPR দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর ফের আলোচনায় এসেছে এই জরুরি জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি। কিন্তু জানেন কি, ঠিক কীভাবে CPR করতে হয়?
Table of Contents
নানা পাটেকরের ক্ষেত্রে কী হয়েছিল?
৭৫ বছর বয়সে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অভিনেতা নানা পাটেকরের। গোয়ার বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একটানা CPR দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের চিফ অফ অনকোলজি ডিপার্টমেন্ট ডা. শেখর সালকার ANI-কে জানান, ৪৫ মিনিট CPR দেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
হৃদরোগে থামল ‘আন্না’র দাপট, ৭৫-এ প্রয়াত বলিউডের কিংবদন্তি নানা পাটেকর
CPR কী?
(CPR Guide) কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা CPR হল একটি জরুরি জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি। কোনও ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে বুকের মাঝখানে নির্দিষ্ট গতিতে চাপ দিয়ে রক্ত চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হল চিকিৎসক বা উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছনো পর্যন্ত মস্তিষ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত সরবরাহ চালু রাখা।
কীভাবে করবেন CPR?
- শক্ত সমতল জায়গায় শোয়ান: অচেতন ব্যক্তিকে চিৎ করে শক্ত, সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ফোন করুন।
- হাত ঠিক জায়গায় রাখুন: বুকের মাঝখানে, বুকের হাড়ের নিচের অর্ধেক অংশে এক হাতের তালুর গোড়া রাখুন। তার উপর অন্য হাত রেখে আঙুল জড়িয়ে নিন। দুই হাত সোজা রাখুন।
- দ্রুত ও জোরে বুক চাপুন: প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০-১২০ বার চাপ দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে প্রায় ৫-৬ সেন্টিমিটার গভীরতায় চাপ দিন। প্রতিবার চাপ দেওয়ার পর বুককে পুরোপুরি স্বাভাবিক বা আগের অবস্থায় ফিরতে দিন।
- ৩০:২ অনুপাত বজায় রাখুন: প্রশিক্ষণ থাকলে ৩০ বার বুক চাপ দেওয়ার পর ২ বার rescue breath দেওয়া যায়। প্রশিক্ষণ না থাকলে বা মুখে-মুখে শ্বাস দিতে অস্বস্তি হলে hands-only CPR-ও করা যায়।
- AED থাকলে ব্যবহার করুন: স্বয়ংক্রিয় বাহ্যিক ডিফিব্রিলেটর ডিভাইস হৃদ্যন্ত্রের ছন্দ পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ডিভাইসটি চালু করে তার নির্দেশ মেনে প্যাড লাগাতে হবে।
কখন CPR বন্ধ করবেন?
(CPR Guide) ব্যক্তির স্বাভাবিক শ্বাস বা নড়াচড়া ফিরে এলে, প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীরা দায়িত্ব নিলে, AED ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অথবা আপনি শারীরিকভাবে আর চালিয়ে যেতে না পারলে CPR বন্ধ করা যায়।
চিকিৎসক ডা. অনুরাগ শর্মার মতে, হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা সবসময় চোখে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা যায় না। বারবার বুকে অস্বস্তি, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অকারণ ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও কখনও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
CPR-এর সময় পাঁজর ভাঙা বা বুকের ভিতরের অঙ্গে আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে। তবে হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া অবস্থায় দ্রুত CPR শুরু করা জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (CPR Guide)
এসি ঘরে ঢুকলেই হাঁচি-কাশি? অ্যালার্জি নাকি অন্য কিছু, চিকিৎসকের পরামর্শ জানুন













2 thoughts on “হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের ঘটনায় জানুন CPR-এর ৫ জরুরি ধাপ”
Comments are closed.