ডেভিডের জোড়া গোলে এগিয়েও শেষরক্ষা হলো না। দ্বিতীয়ার্ধে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে এএফসির মঞ্চে ইরাকের আল শোর্তার কাছে ২-৩ গোলে হারল ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করাই লাল-হলুদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াল।
East Bengal vs Al Shorta: প্রথমার্ধে ডেভিডের জোড়া গোলে আশার আলো
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৯ মিনিটে হার্দিক ভাটের সেন্টার থেকে বল পেয়ে হাফ টার্নে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ডেভিড। বিশ্বমানের সেই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। তবে ১৪ মিনিটেই সমতায় ফেরে আল শোর্তা। বাঁদিক থেকে আসা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন আহমেদ ইয়াহা।
এরপর ম্যাচে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু গোলের সামনে বারবার ব্যর্থ হন ডেভিড। ২১ মিনিটে লালচুননুঙ্গার জোরালো শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বাঁচিয়ে দিলে ফিরতি বলে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে পারেননি তিনি। আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ভারতীয় স্ট্রাইকার।
শেষ পর্যন্ত ৪০ মিনিটে রশিদের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেভিড। ফলে প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইস্টবেঙ্গল। ডেভিডের হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি ব্যবধান বাড়ানোরও সুযোগ ছিল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ম্যাচে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়।
পুজোর মুখে বদলাবে আবহাওয়া, বুধবার থেকে উপকূলে বৃষ্টির সম্ভাবনা
তিন মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল ম্যাচের ছবি
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫১ মিনিটে মৌমনির গোলে সমতায় ফেরে আল শোর্তা। এর ঠিক দু’মিনিট পর, ৫৩ মিনিটে কুকের গোলে এগিয়ে যায় ইরাকের দল। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে জয়ের স্বপ্ন থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় ইস্টবেঙ্গল।
আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি লাল-হলুদ। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের সীমিত সুযোগ থেকেই গোল আদায় করে নেয় আল শোর্তা। পুরো ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল আটটি শট নিয়ে দু’টি গোল করলেও আল শোর্তা মাত্র তিনটি শটেই তিনবার জালে বল জড়ায়। এই পরিসংখ্যানই দুই দলের মধ্যে সুযোগ কাজে লাগানোর পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়। (East Bengal vs Al Shorta)
১০ জনের আল শোর্তার বিরুদ্ধেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ
৭৬ মিনিটে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মৌমনি। ফলে ম্যাচের শেষ পর্বে দশজন নিয়ে খেলতে হয় আল শোর্তাকে। সংখ্যায় এগিয়ে যাওয়ার পরেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা করলেও সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন আল শোর্তার কুক। অন্যদিকে, জোড়া গোল করেও ডেভিডের হতাশা কাটেনি। কারণ, তাঁর সামনে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি দলের ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ ছিল।
এএফসির আন্তর্জাতিক মঞ্চে এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া করার ঘটনা ইস্টবেঙ্গলের কাছে বড় ধাক্কা। বিশেষ করে পরপর সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণে ছোটখাটো ভুলের মাশুল দিতে হল লাল-হলুদকে। আক্রমণে নৈপুণ্য দেখালেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার পুরনো সমস্যাই শেষ পর্যন্ত জয় থেকে বঞ্চিত করল ইস্টবেঙ্গলকে।











1 thought on “ডেভিডের জোড়া গোলেও হার, সুযোগ নষ্টের খেসারত দিল ইস্টবেঙ্গল”
Comments are closed.