কুশল চক্রবর্তী
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে UPI লেনদেনের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে .৪০% মাসুল দিতে হবে, সরকার বাহদুরের এই ঘোষণাটা যেন ভারতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে (UPI transaction fee 2026)। নানাদিকে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের প্রতিবাদ। ভারতের কোনও কোনও প্রান্তের ব্যবসায়ীরা আর UPI-এর মাধ্যমে জিনিসপত্র কেনাবেচা করতে চাইছে না। বলছে আগের মতোই নগদ টাকা দিতে হবে জিনিস কিনতে। কারণ তাঁরা বুঝতে পারছেন UPI-এর উপর বসানো এই মাসুল তাদের নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করবে। একদিকে মাসুলের টাকার বোঝা, অন্যদিকে তার হিসাব রাখা।
আরও পড়ুন: QR কোড ঢাকবে কালো কাপড়ে, ২ অক্টোবর ‘No UPI Day’
বিভিন্ন শিল্পের খুচরো ব্যবসায়ীরা যে এই মাসুল বসানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যে চিঠিগুলো অর্থ মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে ভারতের ব্যবসা এখন চলেছে। প্রথমেই আসা যাক, সর্বভারতীয় খুচরো মোবাইল ফোন বিক্রির ব্যবসায়ী সংস্থার কথায়। তারা লিখছে, “মোবাইল ফোনের মেমরি চিপসের দাম বাড়ার জন্য এমনিতেই মোবাইল ফোনের বিক্রি প্রায় ৪০% কমে গেছে। তার জন্য আমরা .৭৫% থেকে ১.৫% লাভের উপর ভরসা করে ব্যবসা করি। এখন যদি .৪০% আমদের মাসুলের টাকা গুণতে হয় তবে আমাদের আর কী লাভ থাকবে?”
মোবাইল বিক্রেতাদের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে বুঝতেই হবে সুসজ্জিত মোবাইল বিপনিতে যারা বসে থাকেন তাদের প্রকৃত অবস্থাটা কী। যে সব দোকান বা ছোট ছোট ব্যবসায়ী যারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবসা করে এবং যারা FMCG বা প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি করে তারাও একযোগে বলছে, তাদের গড়পরতা লাভ ৮-১২% এর বেশী হয় না। আর যারা মুদিখানা দোকান চালান তাদের তো লাভ থাকে বড় জোর ১.৫-২%। এবার যদি তার থেকে তাদের .৪০% মাসুল হিসাবে দিয়ে দিতে হয় UPI লেনদেনের জন্য তবে তাদের তো ব্যবসা চালনোই মুশকিল হয়ে যাবে। (UPI transaction fee 2026)
তাদের কথায়, এখন তাদের এই ব্যবসা থেকে যা মাসিক আয় হয় তা বলতে গেলে বিভিন্ন রাজ্যে ন্যূনতম মজুরীর থেকেও কম।” আসলে বড় বড় শহরগুলোতে ২০০০ টাকার বেশি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তুর কেনাবেচা হয় UPI-এর মাধ্যমে, খুব বেশী হলে সব কেনা বেচার ৩৫-৪০%। আর তাও হয় মাসের প্রথম দিকে। অন্যদিকে ৯৭-৯৮% মোবাইল ফোন যা দোকান থেকে বিক্রি হয়, তার দাম ২০০০ টাকার বেশী। তার ফলে প্রায় সব মোবাইল ফোন বিক্রির টাকাটাই এসে যাবে এই মাসুলের আওতায়। অতএব মোবাইল ফোন বিক্রি করে লাভ আরও কমবে। অতএব বোঝাই যাচ্ছে এই সব দোকান আবার নগদ টাকায় জিনিস কেনা বেচার দিকে ঝুঁকতেই পারে। (UPI transaction fee 2026)
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এই মাসুল বসানোর সময় বলেছে এই UPI-গুলো ও তৎসংলগ্ন কিছু প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে সরকারকে অনেক ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থবর্ষে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার বেশী। অতএব সবদিক তাকিয়ে সরকার এখন এই মাসুল বসাতে বাধ্য হচ্ছে। (UPI transaction fee 2026)
আরও পড়ুন: এক ক্লিকেই খাবার, কিন্তু প্লেটে পৌঁছচ্ছে কী? Amazon-Zepto-সহ ৫ প্ল্যাটফর্মকে FSSAI-এর কড়া পদক্ষেপ
সেটা ১৯৯১ সালের কথা। তৎকালীন কংগ্রেস সরকার বাজেটে চিনির উপর ভর্তুকি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। এই সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী পক্ষের নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি। সমগ্র বিরোধীপক্ষ বলেছিল, “IMF বা আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের চাপেই নাকি সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।” অর্থাৎ কি না কোনও দেশের বাইরের শক্তির প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত। তাকিয়ে দেখুন এবারের এই UPI লেনদেনের উপর মাসুল বসানোর জন্য এখনকার বিরোধী দলের নেতা কী বলছেন। এরপর কি বলা যাবে না যে, ভারত আছে ভারতেই? (UPI transaction fee 2026)












