২০২৯ সালে নির্বাচনের আগে NDA-শাসিত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার ঘোষণা করলেন অমিত শাহ। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা ঘোষণা করলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত পারিবারিক আইনগুলির ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ (uniform civil code)।
বর্তমানে বিজেপি ও NDA জোটের অধীনে থাকা ১৯টি রাজ্য এবং ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সহ মোট ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগেই এই আইন কার্যকর করা হবে। উত্তরাখণ্ডে ইতিমধ্যেই এই বিধি পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। এছাড়া গুজরাট, অসম ও মধ্যপ্রদেশে এই সংক্রান্ত বিল বা খসড়া পাস হলেও তা রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য আইনি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলিতে আইন তৈরির জন্য খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে (uniform civil code)।
এই বৈঠকে অমিত শাহ, মোদি সরকারের গত ১২ বছরের সাফল্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক সফরের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের জনসেবা উপলক্ষ্যে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ করা হবে।
পাশাপাশি নিরাপত্তা নীতি তুলে ধরে শাহ দাবি করেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একেবারে জিরো টলারেন্স নীতি প্রতিষ্ঠিত করেছে বর্তমান সরকার। শুধু তাই নয়, নকশাল সমস্যার দমন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করেছে কেন্দ্র।
শাহের দেশব্যাপী এই ইউসিসি চালুর ঘোষণার পাশাপাশি, বাংলার রাজ্য রাজনীতিতেও এই আইন প্রণয়ন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে বাংলায় ইউসিসি চালুর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ও খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য সম্প্রতি বঙ্গভবনে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেছে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ ইউসিসি কমিটি।












