মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত দিল্লিতে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সেই কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ তিন নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। (CJP Leaders Released) তবে রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও শনিবার গভীর রাতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার পরই তাঁদের আটক করে পুলিশ। পরে তিনজনকে আলাদা আলাদা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকালে তাঁদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় দিল্লি পুলিশ। এরপরই আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান CJP-র তিন নেতা। (CJP Leaders Released)
কেন বিক্ষোভের ডাক?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল CJP। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে তারা। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জননিরাপত্তা এবং যান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। রাজধানীতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। এর জেরে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যান। (CJP Leaders Released)
আটক তিন হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী
এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময় রাজনীতিবিদ-সহ তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পরে রাতের দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার গভীর রাতে মুক্তি পান ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও। এদিকে, CJP-র তিন নেতার আটকের ঘটনায় রবিবারও উত্তেজনা বজায় থাকে। দলের নেতা অজিঙ্কে শিন্ডে জানিয়েছেন, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার অনুপস্থিতিতেও বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করবেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। (CJP Leaders Released)
বিরোধীদের নিশানা BJPর
এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। CJP-কে বিরোধী শক্তির একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বিজেপির অভিযোগ, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দাবি করেছেন, বিরোধী গোষ্ঠীগুলি বিদেশি শক্তির নির্দেশে ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে অরাজকতা ছড়ানোর অধিকার কারও নেই। তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বর্তমান প্রজন্ম সাময়িকভাবে বিপথে চালিত হলেও দেশ গঠনের লক্ষ্য থেকে তাদের সরে আসা উচিত নয়। আপাতত আদালতের নির্দেশে CJP-র তিন নেতা মুক্তি পেলেও SIR-কে ঘিরে প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। (CJP Leaders Released)












2 thoughts on “জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, মুক্তি CJP-র তিন নেতার”
Comments are closed.