হলিউডের ক্রাইম সিরিজ দেখে স্ত্রীকে খুন করলেন স্বামী। দিল্লির (Delhi Crime) বুকে ঘটে গেল নৃশংস ঘটনা। পুলিশের হাতে গ্রেফতার সফটওয়্যার কনসালটেন্ট কমল সিং। পূর্ব দিল্লির শাহদারা এলাকার ঘটনা।
Delhi Crime: কীভাবে খুন করলেন স্ত্রীকে?
সূত্রের খবর, ৩০ জুলাই পূর্ব দিল্লির শাহদারা এলাকার গগন বিহারে নিজের বাড়িতেই স্ত্রীকে খুন করেন কমল। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে এই খুনের ছক কষছিলেন তিনি। হলিউডের একটি ক্রাইম সিরিজ দেখে শেখা কৌশল খুনে কাজে লাগিয়েছিলেন। খুনের পর সেই অস্ত্রটি লোপাট করে দেন অভিযুক্ত। ফলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত হন।
অভিযুক্ত কমল সিং পুলিশি (Delhi Crime) জেরায় জানান, বিখ্যাত ক্রাইম ড্রামা সিরিজ় ‘দ্য স্টেয়ারকেস’ দেখে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে খুনের অস্ত্র ও প্রমাণ লোপাট করতে পারলে পুলিশ তাকে ধরতে পারবে না। শুধু তাই নয়, মোট ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে নিজের স্কুটারে চেপে পালিয়ে যান। তবে দিল্লির শাহদারা এলাকার গগন বিহারে এই খুনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটে ৩০ জুলাই। ওইদিন অভিযুক্ত কমল সিং ও তাঁর স্ত্রী কোমল সিং বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁদের ছেলে লাইব্রেরিতে এবং মেয়ে অফিসে গিয়েছিলেন। আর তাঁর বাড়ির পরিচারিকাও সেদিন তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বাড়ি চলে যান। দুপুর পৌনে একটার দিকে অভিযুক্তর স্ত্রী কোমল বারান্দায় যান। সেই সময় অভিযুক্ত পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে সে চিৎকার করে রান্নাঘরের দিকে লুকিয়ে যায়। এরপর অভিযুক্ত তাঁর চুল ধরে টেনে ঘরে নিয়ে আসে কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথায় বারবার আঘাত করতে শুরু করে সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কোমলের।
স্ত্রীকে হত্যার পর তাঁর রক্তমাখা পোশাক ও তলোয়ারটি একটি ব্যাগে ভরে স্কুটারে চেপে পালিয়ে যান। যাওয়ার পথে তিনি ব্যাগটি অন্যত্র ফেলে দেন। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তোলেন। রাত ৯টার সময় ছেলে-মেয়েরা বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, তাঁদের মা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। কমলের মোবাইল ফোন সুইচ অফ ছিল। তিন দিন পর মথুরা রেলওয়ে স্টেশনের কাছ থেকে কমলকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ।









1 thought on “ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে খুন করে টাকা নিয়ে চম্পট, দিল্লিতে নারকীয় হত্যাকাণ্ড”
Comments are closed.