রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

গান্ধীজির সঙ্গে যুক্ত বাজাজ গ্রুপ, পঞ্চম পুত্রর হাত ধরে তৈরি হয় এই সংস্থা

Published on: October 25, 2026
---Advertisement---

১৯০৬ সাল, মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় এক কিশোর চিঠি লিখে জানিয়ে দিলেন, দত্তক পিতার সম্পত্তিতে তাঁর আর কোনও অধিকার নেই। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপুল সম্পদ ছেড়ে তিনি চলে যেতে চেয়েছিলেন হরিদ্বার ও ঋষিকেশে। কিন্তু স্টেশনে পৌঁছে তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন দত্তক পিতা শেঠ বচ্ছরাজ বাজাজ। (Jamnalal Bajaj) সেই কিশোরই পরবর্তীকালে হয়ে উঠলেন ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বাজাজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামনালাল বাজাজ। মহাত্মা গান্ধী তাঁকে ডাকতেন নিজের ‘পঞ্চম পুত্র’ বলে। চলতি বছর ১০০ বছরে পা দিল বাজাজ গ্রুপ। বর্তমানে এই গোষ্ঠীর সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা। (Jamnalal Bajaj)

ওয়ার্ধায় দত্তক জীবন, ব্যবসায় হাতেখড়ি

১৮৮৯ সালের ৪ নভেম্বর রাজস্থানের সিকরের কাছে কাশি কা বাস গ্রামে জন্ম জামনালালের। বাবা কানিরাম এবং মা বীরদেবী ছিলেন সাধারণ মারোয়ারি পরিবারের সদস্য। ১৮৯৪ সালে ওয়ার্ধার ব্যবসায়ী শেঠ বচ্ছরাজ বাজাজ ও তাঁর স্ত্রী সদীবাই তাঁকে দত্তক নেন। তাঁদের আগের দত্তক পুত্রের মৃত্যু হয়েছিল। (Jamnalal Bajaj) ছেলের বিনিময়ে কোনও অর্থ নেননি কানিরাম। শুধু গ্রামের জন্য একটি কুয়ো চেয়েছিলেন। প্রথাগত পড়াশোনা বেশি না করলেও ব্যবসার কাজ শিখেছিলেন বচ্ছরাজের কাছেই। তুলোর ব্যবসা, হিসাব রাখা এবং বাজার বোঝার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। ১৯০২ সালে জানকীদেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯০৭ সালে বচ্ছরাজের মৃত্যুর পর ব্যবসার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। ১৯১১ সালে বড় ভাই মাধবের মৃত্যুর পর পুরো দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁকে।

তুলো থেকে চিনি ও ইস্পাতের ব্যবসা

১৯০৫ সালে ওয়ার্ধায় তুলো পরিষ্কারের কারখানা তৈরি হয়। ১৯১৫ সালে বম্বেতে ব্যবসায়িক দফতর খোলেন জামনালাল। ১৯২৬ সালের ২৭ অগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় বচ্ছরাজ ফ্যাক্টরিজ প্রাইভেট লিমিটেড। এই দিনটিকেই বাজাজ গোষ্ঠী তাদের প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে গণ্য করে। ১৯৩১ সালে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির গোলাগোকরণনাথে হিন্দুস্তান সুগার মিলস প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরে সংস্থাটির নাম হয় বাজাজ হিন্দুস্তান সুগার লিমিটেড। ১৯৩৯ সালে লাহোরের মুকুন্দ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ওয়ার্কস অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভারী শিল্পেও প্রবেশ করে গোষ্ঠী। পরে সংস্থাটির নাম হয় মুকুন্দ লিমিটেড। ধীরে ধীরে তুলো, চিনি ও ইস্পাতের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে। (Jamnalal Bajaj)

স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীর পাশে

ব্যবসার পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন জামনালাল। ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২৩ সালে নাগপুরের পতাকা সত্যাগ্রহে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হন। ১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহেও জেলে যেতে হয় তাঁকে। গান্ধীর কাছে নিজের জমি দান করেন তিনি। ওয়ার্ধার কাছে সেবাগ্রাম আশ্রম গড়ে উঠতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯২১ সাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন জামনালাল। তিলক স্বরাজ তহবিলে এক লক্ষ টাকা দান করেছিলেন তিনি। গান্ধী সেবা সংঘ ও গ্রামীণ শিল্পের প্রসারেও বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন। (Jamnalal Bajaj)

সমাজ সংস্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

১৯২৮ সালে ওয়ার্ধার লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির দলিতদের জন্য খুলে দেন জামনালাল। নিজের জমির কুয়ো ব্যবহারের অধিকারও তাঁদের দেন। স্ত্রী জানকীদেবীকে পর্দাপ্রথা ত্যাগ করতে উৎসাহিত করেন। নারীশিক্ষার প্রসারে ওয়ার্ধায় মহিলা আশ্রম এবং আজমেরে মহিলা শিক্ষা সদন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নেন। খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের প্রসারেও দেশজুড়ে প্রচার চালান তিনি।

উত্তরসূরিদের হাত ধরে বিস্তার

১৯৪২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্ধায় ৫২ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় জামনালালের। তাঁর মৃত্যুর পর বড় ছেলে কমলনয়ন বাজাজ ব্যবসার দায়িত্ব নেন। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বচ্ছরাজ ট্রেডিং কর্পোরেশন, যা পরে বাজাজ অটো নামে পরিচিত হয়। পরবর্তী সময়ে রাহুল বাজাজের নেতৃত্বেও সংস্থার বিস্তার ঘটে। বর্তমানে বাজাজ গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা করছে। গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে তাদের মোট পরিচালন আয় ছিল ৪৯,৫৩২.৯১ কোটি টাকা। কর দেওয়ার পর মুনাফা হয়েছে ১০,৮৬৭.৫৩ কোটি টাকা। (Jamnalal Bajaj)

১৯৭০ সালে জামনালাল বাজাজের নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে ভারত সরকার। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জামনালাল বাজাজ ফাউন্ডেশন। ব্যবসার পাশাপাশি সমাজসেবা, সাম্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অবদান আজও স্মরণ করা হয়। চলতি বছর সেই ঐতিহ্যবাহী বাজাজ গোষ্ঠীর শতবর্ষ। (Jamnalal Bajaj)


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now