ডায়াবিটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই ভাবেন, মিষ্টি, চিনি বা মিষ্টি পানীয় বাদ দিলেই বুঝি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। প্রতিদিনের খাবারে কী পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার এবং ফ্যাট থাকছে, তার উপরও অনেকটাই নির্ভর করে রক্তে শর্করার ওঠানামা। তাই ডায়াবিটিস থাকলে শুধু কী খাবেন, তা নয়—কীভাবে নিজের প্লেট সাজাবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
Health Tips: ঘরের খাবার খেলেই কি নিশ্চিন্ত?
অনেকেই মনে করেন বাড়ির রান্না মানেই স্বাস্থ্যকর খাবার। কিন্তু খাবারটি বাড়িতে তৈরি হলেও তার ভারসাম্য ঠিক না থাকলে সমস্যা হতে পারে। যেমন, ডাল-রুটি, আলুর তরকারি-রুটি বা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি রুটি খাওয়া—কিন্তু সঙ্গে প্রোটিন ও সবজি খুব কম রাখা। এই ধরনের খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি হয়ে যেতে পারে এবং খাওয়ার পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
শুধু ডাল নয়, প্রোটিনও বাড়ান
প্লেটে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো ডায়াবিটিসের খাবারকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে। ধরা যাক, ডাল এবং রুটি খাচ্ছেন। এবার শুধু ডাল থেকে প্রায় ৭-৮ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে। তবে তার সঙ্গে যদি পনিরের তরকারি যোগ করেন তাহলে মোট প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২৭ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ খাবারের পরিমাণ খুব বেশি না বাড়িয়েও সঠিক উপাদান যোগ করে প্লেটকে আরও পুষ্টিকর করা যায়।
খাবারে অবশ্যই ফাইবার রাখুন
প্রোটিনের পাশাপাশি প্লেটে পর্যাপ্ত সবজি ও ফাইবারযুক্ত খাবার রাখাও জরুরি। রুটি বা অন্য জটিল কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ডাল, পনির, ডিম, মাছের মতো প্রোটিন এবং বিভিন্ন সবজি রাখলে খাবারের ভারসাম্য ভালো হয়। এমন খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে এইচবিএ১সি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক হতে পারে।
চিনি উৎপাদনে ‘ঘাটতি’! ইথানলই কি দায়ী? ১০ বছর পর বড় সিদ্ধান্ত পথে কেন্দ্রের
হার্টের দিকেও দিন নজর
ডায়াবিটিসের সঙ্গে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই খাবারে শুধু শর্করার দিকটি দেখলেই হবে না, ফ্যাট ও নুনের দিকেও নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকা মাখন, চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার, বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, সসেজ বা বেকনের মতো খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোলেস্টেরল বেশি থাকা কিছু খাবারও পরিমিত খাওয়া দরকার। (Health Tips)
নুনও মেপে খান
ডায়াবিটিস থাকলে খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ নিয়েও সতর্ক থাকা ভালো। সাধারণভাবে দৈনিক সোডিয়াম ২৩০০ মিলিগ্রামের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এর থেকেও কম সোডিয়াম প্রয়োজন হতে পারে।
তাই ডায়াবিটিসের রোগীর প্লেট মানেই শুধু রুটি কমানো বা ভাত বাদ দেওয়া নয়। পরিমাণ বুঝে কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবারযুক্ত সবজি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই আসল। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি, নুন ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়ানো দরকার।
তবে প্রত্যেকের ডায়াবিটিসের ধরন, ওষুধ, বয়স ও শারীরিক প্রয়োজন আলাদা। তাই নিজের খাবারে বড় পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।












1 thought on “ডায়াবিটিসে শুধু চিনিতে কাটছাঁট নয়, নজর দিন নিজের প্লেটের দিকেও”