পুজো মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। লুচি, কচুরি, বিরিয়ানি, মটন থেকে শুরু করে মিষ্টি—পুজোর দিনগুলিতে খাবারের তালিকায় থাকে নানা পদ। আর আনন্দ উৎসবের মুহূর্তে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে হৃদ্যন্ত্রের বিপদ? চিকিৎসকদের মতে, একবার বেশি খেয়ে ফেললেই সুস্থ মানুষের হার্ট অ্যাটাক হবে, এমন নয়। তবে যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস বা করোনারি আর্টারির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল মশাল যুক্ত খাওয়াদাওয়া বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
Health Tips: ভারী খাবার খেলে হৃদ্যন্ত্রের উপর কী প্রভাব পড়ে?
অনেকটা খাবার একসঙ্গে খেলে তা হজম করার জন্য পরিপাকতন্ত্রে রক্তের চাহিদা বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে শরীরের প্রয়োজন মেটাতে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হতে পারে। যাঁদের করোনারি ধমনিতে আগে থেকেই বাধা বা সংকোচন রয়েছে, তাঁদের হৃদ্যন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শরীরের উপর চাপ বাড়লে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে শুধু বেশি খাওয়ার কারণেই যে হার্ট অ্যাটাক হয়, তা নয়। সাধারণত হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে চর্বি জমে তৈরি হওয়া প্লাক ফেটে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এর ফলে রক্ত চলাচল বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া, মদ্যপান, ধূমপান, শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে তা হার্টের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
তেল-মশলা ও মদ্যপানেও বাড়ে সমস্যা
উৎসবের সময়কার লোভনীয় খাবারে অনেক সময় তেল, ফ্যাট, নুন ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হৃদ্স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত নুন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়াতে পারে। যাঁদের হার্ট ফেলিওর রয়েছে, তাঁদের শরীরে জল জমে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্রের কাজেও গোলমাল হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ উপোস করে সন্ধ্যায় একসঙ্গে অনেকটা খাওয়া এবং রাত জেগে উৎসব করার অভ্যাসও শরীরের উপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে। (Health Tips)
গ্যাস ভেবে ভুল করবেন না, চিনুন হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
অতিরিক্ত তেল মশালযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অম্বল, পেট ফাঁপা বা বুকজ্বালা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও কখনও কখনও পেটের উপরের অংশে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব বা পেট ভরা লাগতে পারে। তাই সব অস্বস্তিকে গ্যাস ভেবে এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক।
বুকে চাপ বা ব্যথা, হাত, পিঠে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, অকারণে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা হঠাৎ দুর্বল লাগার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হন। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অ্যান্টাসিড খেয়ে অপেক্ষা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। দ্রুত ইসিজি ও প্রয়োজনীয় রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব।
উৎসবে কীভাবে সুস্থ রাখবেন হৃদ্যন্ত্র?
তাই বলে কি পুজোর সময় খাওয়া দাওয়া করবেন না? চিকিৎসকেরা বলছেন, খাওয়া দাওয়া পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত তেল মশালযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং দীর্ঘক্ষণ উপোসের পর একসঙ্গে অনেকটা খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো। খাওয়ার পর শরীর ভালো থাকলে হালকা হাঁটাচলা করা যেতে পারে, তবে ভারী খাবারের পরই কঠোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খেতে থাকুন এবং নুন, জল ও মদ্যপানের বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন।
মনে রাখবেন, অতিরিক্ত খাওয়াই সব ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সরাসরি কারণ নয়। তবে আগে থেকে হৃদ্রোগের ঝুঁকি থাকলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করুন, কিন্তু বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টকে কখনও হালকাভাবে নেবেন না।












