---Advertisement---
lifezone nursing home

অন্যের জীবন গড়তে গিয়ে নিজের শরীর হারানো মানুষদের গল্প, পেশাগত রোগ ও প্রতিকার

May 21, 2026 9:00 AM
Workplace Health Risks
---Advertisement---

ব্রততী সিনহা রায়
Consultant Psychologist and Psychotherapist

আমাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনের পেছনে যে কতগুলো অদেখা হাত নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে, তা আমরা খুব কমই ভেবে দেখি (Workplace Health Risks)। আমরা বাড়ি, রাস্তা, হাসপাতাল সবকিছুর সুবিধা নিই, উৎসবে আনন্দ করি, ব্যস্ত জীবনে এগিয়ে চলি; কিন্তু এই সবকিছুর পিছনে যারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তাদের শরীর আর মনের কী অবস্থা-সেটা কি আমরা জানি? কাজের ধরন আর পরিবেশের কারণে ধীরে ধীরে তাদের শরীরে যে নানান অসুখ বাসা বাঁধে, সেই পেশাগত রোগ নিয়ে সচেতনতা এখন খুবই জরুরি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর প্রকাশিত বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, “প্রতি বছর প্রায় ২৭.৮ লাখ শ্রমিক কাজ-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা ও রোগের কারণে প্রাণ হারান। এর মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ মৃত্যু ঘটে শুধুমাত্র পেশাগত রোগের কারণে, যা কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়াও, এই পরিসংখ্যান দেখায় যে প্রতি বছর ১৬ কোটিরও বেশি শ্রমিক কাজের ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন।”

Workplace Health Risks: অন্ধকারের ভেতরে প্রতিদিনের নিঃশ্বাসের লড়াই

খনি শ্রমিকদের জীবনটা বাইরে থেকে যতটা না বোঝা যায়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিদিন তাঁরা নেমে যান মাটির গভীরে যেখানে চারপাশ ভরা ধুলো, বিষাক্ত গ্যাস আর দমবন্ধ করা পরিবেশে। এই ধুলোই তাদের ফুসফুসের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে। বছরের পর বছর কয়লার ধুলো নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকতে ঢুকতে অনেকেই ভোগেন পনিউমোকোনিওসিস (black lung disease)-এ, যেখানে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং শ্বাস নেওয়াটাই একসময় কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়।
একইভাবে সিলিকা ধুলোর সংস্পর্শে এসে হয় সিলিকোসিস, যেখানে ফুসফুস শক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘদিনের কাশি, হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস। (Workplace Health Risks)

কিন্তু বিপদ শুধু ধুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। খনির ভেতরে থাকা মিথেন বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে কার্বন মনোক্সাইড শরীরে অক্সিজেনের জোগান কমিয়ে দেয়-ফলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকী মৃত্যুও ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন এই পরিবেশে কাজ করতে করতে অনেকের শরীরে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় খনির স্যাঁতসেঁতে, বন্ধ পরিবেশ-যেখানে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে যক্ষ্মা বা অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ।

Workplace Health Risks
যে জন করে খনিতে শ্রম…

এই কাজের শারীরিক চাপও কম নয়। ভারী জিনিস তোলা, একই কাজ বারবার করা-এসবের ফলে কোমর ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা বা নানা মাস্কুলোস্কেলেটাল ডিসঅর্ডার (musculoskeletal disorder) তৈরি হয়, যা দিন দিন বাড়তে থাকে। চারপাশের বড় বড় যন্ত্রের শব্দ ধীরে ধীরে কানের ওপর প্রভাব ফেলে, অনেকেই বুঝতেই পারেন না কখন তাদের শ্রবণশক্তি কমে যাচ্ছে। আর সবকিছুর ওপরে থাকে এক অদৃশ্য ভয়-খনি ধসে পড়া বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা, যা এক মুহূর্তেই জীবনের সবকিছু বদলে দিতে পারে। (Workplace Health Risks)

তবুও, এই মানুষগুলো প্রতিদিন সেই অন্ধকারের ভেতরে ঢুকে পড়েন-কারণ তাদের জীবনের আলোটা নির্ভর করে এই কঠিন কাজের ওপর। আমরা যখন উপরে দাঁড়িয়ে নিরাপদে থাকি, তখন খুব কমই ভাবি-মাটির নিচে কতগুলো জীবন প্রতিদিন নিঃশব্দে নিজেদের শরীরের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে।

আমাদের উৎসবের আলো, তাদের জীবনের নীরব ঝুঁকি

উৎসবের সময়-বিশেষ করে দীপাবলি আর নানা আনন্দের মুহূর্তে আমরা নিজের খুশির জন্য আতশবাজি জ্বালাই, আকাশ ভরে তুলি রঙে আর আলোয়। কিন্তু কখনও কি আমরা জানতে চাই, এই আতশবাজিগুলো যারা বানায়, তাদের শরীরের ওপর এর কী ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে? (Workplace Health Risks)

আতশবাজি কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিন সালফার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যালুমিনিয়াম পাউডার, বেরিয়াম আর সিসার মতো মারাত্মক রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করেন। এই বিষাক্ত কণাগুলো শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে আস্তে আস্তে তাদের নিঃশ্বাস কেড়ে নেয়। হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমনকি এমন রোগও হয় যেখানে ফুসফুস শক্ত হয়ে যায়, শ্বাস নেওয়াটাই যেন এক যন্ত্রণার লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। ধাতব বিষক্রিয়া তাদের শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে-পেশী দুর্বল হয়, স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মস্তিষ্ক আর কিডনিও নিরাপদ থাকে না।

শুধু ভেতরের ক্ষতি নয়, বাইরে থেকেও এই কাজের যন্ত্রণা কম নয়। হাতে রাসায়নিক লাগলে ত্বক জ্বলে যায়, ফেটে যায়, অসহ্য জ্বালাপোড়া হয়-যা অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে সয়ে যেতে হয়। এর মাঝেই থাকে এক অদৃশ্য ভয়, হঠাৎ কোনও বিস্ফোরণ। এক মুহূর্তেই আগুনে ঝলসে যেতে পারে শরীর, উড়ে আসা কণায় চিরদিনের মতো হারিয়ে যেতে পারে চোখের দৃষ্টি, ভেঙে যেতে পারে হাত-পা। আর সারাদিনের সেই তীব্র শব্দ? ধীরে ধীরে কানের শ্রবণশক্তিকে নিঃশব্দে কেড়ে নেয়-যা আর কোনওদিন ফিরে আসে না। (Workplace Health Risks)

তবুও তাঁরা কাজ থামায় না। কারণ এই কাজই তাদের বাঁচার উপায়। আমরা যখন আনন্দে মেতে উঠি, তখন হয়তো কোথাও একজন শ্রমিক নিঃশব্দে তার কষ্ট লুকিয়ে রেখে কাজ করে যায়। তাদের এই অদেখা যন্ত্রণা একটু হলেও যদি আমরা অনুভব করতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের আনন্দের মানেটাও একটু বদলে যাবে।

রোদ, ধোঁয়া আর ক্লান্তির মাঝেও দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশের দিকে আমরা প্রায়ই তাকাই, কিন্তু খুব কমই ভাবি তাদের মতো আরও কত মানুষ প্রতিদিন এই নির্মম রোদের নিচে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছেন। ডেলিভারি কর্মী, রিকশাচালক, পথের হকার, নির্মাণ শ্রমিক-এদের প্রত্যেকের দিন শুরু হয় খোলা আকাশের নিচে, আর শেষও হয় সেই একই রোদ, ধুলো আর ক্লান্তির মধ্যে। তীব্র গরমে যখন শরীর হাসফাস করে, তখনও তাঁরা থামতে পারেন না। এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে শরীরকে ভেঙে দেয়; অনেক সময় তা হিট এক্সহসশন বা আরও বিপজ্জনক হিটস্ট্রোকে পরিণত হয়, যেখানে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং জীবন পর্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

দিনের পর দিন এই রোদের নিচে থাকার ফলে ত্বক পুড়ে যায়, শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে, মাথা ঘোরে, দুর্বলতা বাড়ে। সূর্যের তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শহরের ধোঁয়া আর ধুলো—প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন একটু একটু করে ফুসফুসকে ক্লান্ত করে দেয়। ফলে হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস বা শ্বাসনালির জ্বালার মতো সমস্যা তাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। (Workplace Health Risks)

শুধু তাই নয়, সারাদিনের সেই তীব্র হর্ন আর যানবাহনের শব্দও নিঃশব্দে কানের ভেতরে ক্ষতি করে। ধীরে ধীরে কমে যায় শ্রবণশক্তি, যা একবার হারালে আর ফিরে আসে না। আর দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বা হাঁটাচলা করে কাজ করার ফলে পায়ে ব্যথা, মাংসপেশীর টান, ক্লান্তি জমে ওঠে-অনেকের ক্ষেত্রে ভেরিকোজ ভেইন্স (varicose veins)-এর মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

তবুও তাঁরা থামেন না। কারণ তাঁদের থেমে যাওয়া মানেই জীবিকার থেমে যাওয়া। আমরা যখন রোদ এড়াতে ছায়া খুঁজি, তখন এই মানুষগুলো সেই রোদকেই সঙ্গী করে দিন কাটান নিঃশব্দে, অভিযোগ ছাড়া। হয়তো আমরা খুব একটা খেয়াল করি না, কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনের পেছনে এই মানুষগুলোর অদৃশ্য সহনশীলতা আর কষ্টটাই দাঁড়িয়ে আছে।

যে হাত গড়ে তোলে আমাদের শহর, সেই হাতের অদেখা কষ্ট

আমাদের চারপাশে যে উঁচু দালান, সুন্দর বাড়ি, নতুন শহর গড়ে উঠছে-তার পেছনে রয়েছে নির্মাণ শ্রমিকদের অবিরাম পরিশ্রম। কিন্তু এই “গড়ে তোলা”র গল্পের ভেতরে লুকিয়ে থাকে এক কঠিন বাস্তব। প্রতিদিন তাঁরা ধুলো, সিমেন্ট আর নানা রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করেন। এই সিমেন্ট আর সিলিকা ধুলো শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে ক্ষতি করে-অনেকেই ভোগেন সিলিকোসিস, হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসে, যেখানে নিঃশ্বাস নেওয়াটাই একসময় কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়। শুধু ভেতর থেকেই নয়, বাইরে থেকেও শরীর আঘাত পায়-সিমেন্টের সংস্পর্শে ত্বকে জ্বালা, পোড়া ও ডার্মাটাইটিস হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা হয়ে থাকে।

এর সঙ্গে যোগ হয় প্রতিদিনের কঠোর শারীরিক পরিশ্রম। ভারী বোঝা তোলা, বারবার একই ধরনের কাজ করা-এই সবের ফলে কোমর ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা আর নানা মাস্কুলোস্কেলেটাল ডিসঅর্ডার তাঁদের জীবনের অংশ হয়ে যায়। অনেক সময়ে এই ব্যাথা এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে কাজ করাটাই কষ্টকর হয়ে পড়ে, তবুও থামার সুযোগ থাকে না। আবার উঁচু জায়গায় কাজ করা, বড় বড় যন্ত্রের পাশে থাকা সবসময় একটা অদৃশ্য ঝুঁকি তৈরি করে। এক মুহূর্তের অসাবধানতায় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা, হাড় ভেঙে যাওয়া, মাথায় গুরুতর আঘাত, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। (Workplace Health Risks)

তার ওপর সারাদিনের যন্ত্রের শব্দ ধীরে ধীরে কানের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেকেই বুঝতে পারেন না কখন তাঁদের শ্রবণশক্তি কমে যাচ্ছে। আর খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে হিট এক্সহসশন (heat exhaustion), জলশূন্যতা, দুর্বলতা তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। তবুও তাঁরা কাজ করে যান-কারণ এই কাজই তাঁদের জীবনের ভরসা।

ব্যস্ততার আড়ালে, নিঃশব্দে ক্ষয়ে যাওয়া শরীর

অফিসে বসে কাজ করা মানুষ হোক বা বাড়ি থেকে দিনের পর দিন ল্যাপটপের সামনে সময় কাটানো কর্মী—বাইরে থেকে তাদের কাজটা হয়তো “সহজ” মনে হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসটাই ধীরে ধীরে শরীর আর মনের ওপর এক অদৃশ্য চাপ তৈরি করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, সঠিকভাবে না বসা আর শরীর না নড়ানো—এসবের কারণে খুব সাধারণভাবে শুরু হয় কোমর ব্যথা, ঘাড়ে টান বা cervical spondylosis-এর মতো সমস্যা। এই মাস্কুলোস্কেলেটাল ডিসঅর্ডারগুলো একসময় এতটাই বাড়ে যে প্রতিদিনের কাজ করাটাও কষ্টকর হয়ে ওঠে। (Workplace Health Risks)

এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার অভ্যাস। চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালা, মাথাব্যথা-সব মিলিয়ে তৈরি হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম (computer vision syndrome), যা চোখের স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য কেড়ে নেয়। আবার দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের নড়াচড়া কমে যায়, মেটাবলিজম ধীর হয়ে পড়ে-ফলে বাড়তে থাকে ওজন, আর তার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় type টু ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি। দিনের পর দিন একইভাবে ল্যাপটপে টাইপ করতে করতে অনেকের হাতের কব্জিতে ব্যথা বা কার্পাল টানেল সিনড্রোম (carpal tunnel syndrome) তৈরি হয়, যা ছোট কাজগুলোও করতেও কঠিন করে তোলে।

কিন্তু শুধু শরীরই নয়, এই কাজের ধরন মনকেও প্রভাবিত করে। একটানা কাজের চাপ, ডেডলাইন, আর অনেক ক্ষেত্রে একাকীত্ব—বিশেষ করে বাড়ি থেকে কাজ করলে ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়। উদ্বেগ, চাপ, ঘুমের সমস্যা—এসব যেন নীরবে জীবনের অংশ হয়ে যায়। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক দেখালেও ভেতরে ভেতরে এই মানুষগুলোও নিজেদের মতো করে লড়াই করে চলেন।

হাসপাতালের ভেতরে যারা জীবন বাঁচায়, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

হাসপাতালে আমরা যাদের দেখি-ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়, টেকনিশিয়ান—তাঁরা যেন আমাদের জন্য এক অদৃশ্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু এই সেবার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে তাদের নিজের স্বাস্থ্যের নানান ঝুঁকি। প্রতিদিন রোগীর রক্ত, শরীরের তরল বা ব্যবহৃত সূঁচের সংস্পর্শে এসে তাঁরা খুব সহজেই সংক্রমণের মুখে পড়েন-একটি ছোট needle স্টিক ইনজুরি থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি বা এইচআইভির (HIV) মতো গুরুতর রোগ। এর সঙ্গে রয়েছে প্রতিনিয়ত ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংস্পর্শ-যার ফলে যক্ষ্মা বা নানা ধরনের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ তাদের জন্য এক নীরব আশঙ্কা হয়ে থাকে।

Workplace Health Risks
ও ডাক্তার…

শুধু সংক্রমণ নয়, হাসপাতালের পরিবেশেও রয়েছে নানা অদৃশ্য ক্ষতি। জীবাণুনাশক, ওষুধ বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকের ত্বকে জ্বালা, ডার্মাটাইটিস, শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময়ের ডিউটি, রাত জাগা, একের পর এক রোগীর দায়িত্ব—এই সব মিলিয়ে তাদের মানসিক চাপও কম নয়। ধীরে ধীরে সেই চাপ থেকে জন্ম নেয় উদ্বেগ, অবসাদ বা বার্নআউট, যেখানে মনটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগী তুলতে বা স্থানান্তর করতে গিয়ে কোমর ব্যথা বা অন্যান্য মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যাও তৈরি হয়, যা দিনের পর দিন বহন করতে হয়। (Workplace Health Risks)

কিছু বিভাগে কাজ করা কর্মীদের আবার রেডিয়েশনের সংস্পর্শেও থাকতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও, এই মানুষগুলো থেমে যান না। নিজেদের ক্লান্তি, অসুস্থতা বা ভয়কে পাশ কাটিয়ে তাঁরা প্রতিদিন অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেন।

মনোবিজ্ঞানী-হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদেখা মানসিক চাপ

মনোবিজ্ঞানীদের আমরা প্রায়ই দেখি শান্ত, ধৈর্যশীল আর স্থির মানুষ হিসেবে—যারা অন্যের মনকে বুঝতে পারেন, ভাঙা মানুষকে জোড়া লাগাতে সাহায্য করেন। কিন্তু এই শোনার, বোঝার আর সহানুভূতির কাজটাই ধীরে ধীরে তাদের নিজের ভেতরেও এক অদৃশ্য চাপ তৈরি করে। প্রতিদিন তাঁরা মানুষের গভীর কষ্ট, ট্রমা, দুঃখ আর ভয়ের গল্প শোনেন যা শুধু কথা হয়ে থাকে না, কোথাও না কোথাও তাদের মনেও ছাপ ফেলে যায়। এই নিরন্তর মানসিক চাপ অনেক সময় বার্নআউট, উদ্বেগ, অবসাদ বা কম্প্যাশন ফ্যাটিগ-এ পরিণত হয় যেখানে তাঁরা নিজেই ভেতর থেকে ক্লান্ত আর শূন্য অনুভব করতে শুরু করেন। (Workplace Health Risks)

একই সঙ্গে, অন্যের ট্রমার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে থাকতে অনেকেই সেকেন্ডারি ট্রমাটিক স্ট্রেস বা ভিকারিয়াস ট্রমার শিকার হন অর্থাৎ, অন্যের কষ্ট যেন নিজের কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। বাইরে থেকে সবকিছু সামলে রাখলেও ভেতরে ভেতরে এই অনুভূতিগুলো তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘ সময় বসে থাকা সেশন যার ফলে কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা, নানা মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যা দেখা দেয়। কাজের চাপ, দায়িত্ব আর একের পর এক সেশন মিলিয়ে অনেক সময় ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা অন্যান্য স্ট্রেসজনিত সমস্যাও তৈরি হয়।

তবুও তাঁরা শুনে যান, বোঝার চেষ্টা করেন, পাশে থাকেন—কারণ তাঁদের কাজটাই হলো ভেঙে পড়া মানুষদের আশার আলো দেখানো।

গ্ল্যামারের পেছনে ক্লান্ত শরীর

পর্দায় আমরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের যে ঝলমলে জীবন দেখি, বাস্তবে সেই জীবনের পেছনে লুকিয়ে থাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তা। এই ইন্ডাস্ট্রিতে মেধা আর পরিশ্রম সবসময় সমান মূল্য পায় না। অনেক সময় nepotism, legacy culture এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য মানুষের সুযোগ কেড়ে নেয়, ভেঙে দেয় বহু স্বপ্ন। বাইরে থেকে এই পেশাকে glamorous মনে হলেও, বাস্তবে এটি একেবারেই “desk job” নয়।

দিনের পর দিন ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ শ্যুটিং, অনিয়মিত ঘুম, ঠিকমতো খাওয়ার সময় না পাওয়া, তীব্র রোদে কাজ এবং ক্রমাগত চাপ ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত করে তোলে। দীর্ঘ সময় sun exposure-এর কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, আর মানসিক চাপ অনেকের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ককেও প্রভাবিত করে।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা পরিকাঠামো থাকে না, HR support না থাকায় নিজেদের সমস্যা জানানোর নিরাপদ জায়গাও মেলে না। কাজের কোনও স্থায়ী নিরাপত্তা নেই, অথচ ঝুঁকিপূর্ণ সিন করার সময় অনেক ক্ষেত্রেই সেফটির জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় না। জলের মধ্যে শ্যুটিং-এর সময়ও অনেককে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই কাজ করতে হয়। এই অবহেলার কারণেই বহু শিল্পী আহত হন, তবুও ক্যামেরার সামনে তাঁদের হাসতেই হয়—কারণ দর্শক শুধু পর্দার আলো দেখে, সেই আলোর পেছনের কষ্টটা দেখে না। (Workplace Health Risks)

Workplace Health Risks
গ্ল্যামারের আড়ালে অন্ধকার

অন্যদিকে, জুনিয়র আর্টিস্ট, মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ারস্টাইলিস্ট ইত্যাদির জীবন আরও কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে যায়। তাঁরা অনেকেই নিয়মিত কাজ পান না হয়তো ১৫ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ বা ৪ দিন কাজ জোটে। এত কম আয়ে পরিবার চালানো, সংসারের দায়িত্ব সামলানো এবং ভবিষ্যতের চিন্তা নিয়ে বেঁচে থাকা তাদের জন্য ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বা দৌড়ে কাজ করেও তাঁরা খুব সামান্য পারিশ্রমিক পান, অথচ তাঁদের ছাড়া একটি শ্যুটিং সেট সম্পূর্ণই অসম্ভব। অনেক শ্যুটিং লোকেশনে সঠিক ওয়াশরুম থাকে না, স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না, বিশ্রামের জায়গাও মেলে না। অসুস্থ হলেও অনেক সময় কাজ বন্ধ করার সুযোগ থাকে না, কারণ কাজ হারানোর ভয় সবসময় তাঁদের ঘিরে থাকে। তাঁরা হয়তো পর্দায় মুখ দেখান না, কিন্তু তাঁদের নীরব পরিশ্রম ছাড়া আমাদের প্রিয় সিনেমা, সিরিয়াল বা বিনোদনের জগৎ কখনও সম্পূর্ণ হতো না।

কেন পেশাগত রোগ এত বেশি দেখা যায়?

নিরাপত্তার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি, নিয়ম না মানা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব—সব মিলিয়েই সমস্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই “কাজ আগে, মানুষ পরে” মানসিকতা যেন এখনও রয়ে গেছে অনেকেরই মনে।

সচেতনতার ছোট পদক্ষেপ, বড় সুরক্ষা

পেশাগত রোগ কখনও হঠাৎ করে আসে না বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা, অজান্তে নেওয়া ঝুঁকি আর অনিরাপদ কাজের পরিবেশ থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়। কিন্তু কিছু সচেতন পদক্ষেপ নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব, আর সেই পথটাই আমাদের বোঝা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে এই কিছু পদক্ষেপ নিলে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। (Workplace Health Risks)

  • ঝুঁকির উৎস সরিয়ে ফেলা (Elimination): সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, যেখান থেকে বিপদ শুরু হচ্ছে সেটাকেই সরিয়ে দেওয়া। এতে সমস্যা শুরুর আগেই থেমে যায়। যেমন হাসপাতালে আগে পারদযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করা হতো, যা ভেঙে গেলে মারাত্মক ক্ষতি করত এখন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে সেই ঝুঁকি কমেছে। নির্মাণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও সম্ভব হলে উঁচুতে কাজ কমিয়ে মাটির কাছাকাছি এনে কাজ করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে।
  • নিরাপদ বিকল্প ব্যবহার (Substitution): সব সময় ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা যায় না, কিন্তু তার ক্ষতি কমানো যায়। তাই কম ক্ষতিকর উপাদান বা পদ্ধতি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কারখানায় কম বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, বা হাসপাতালে কম ক্ষতিকর জীবাণুনাশক এগুলো আস্তে আস্তে শরীরের উপর পড়া প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • যন্ত্র ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ (Engineering Control): কাজের পরিবেশ যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। খনি শ্রমিকদের জন্য পরিষ্কার বায়ু চলাচল, নির্মাণস্থলে ধুলো কমানোর ব্যবস্থা, আতশবাজি কারখানায় রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ এসবই প্রতিদিনের কাজকে একটু নিরাপদ করে তোলে।
  • রোদ ও গরমে কাজ করা মানুষদের সুরক্ষা: ট্রাফিক পুলিশ বা যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তাঁদের জন্য সূর্যের তাপ বড় শত্রু। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এমনকি জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই নিয়মিত জল পান, মাঝেমধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম, হালকা রঙের পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখা-এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই তাঁদের বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
  • সঠিক কাজের নিয়ম ও বিশ্রাম (Administrative Control): একটানা কাজ শরীরকে আস্তে আস্তে ভেঙে দেয়। তাই কাজের মধ্যে বিরতি রাখা, শিফট অনুযায়ী কাজ ভাগ করা খুবই জরুরি। হাসপাতালের কর্মী হোক বা নির্মাণ শ্রমিক সবারই শরীরের একটা সীমা থাকে।
  • প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা: অনেক সময় মানুষ জানেই না যে তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই কাজ শুরুর আগে এবং কাজ চলাকালীন সঠিকভাবে শেখানো অত্যন্ত জরুরি। খনি শ্রমিকদের গ্যাসের বিপদ, আতশবাজি শ্রমিকদের বিস্ফোরণের ঝুঁকি, হাসপাতালের কর্মীদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ—এই জ্ঞানই তাদের প্রথম সুরক্ষা।
  • মনোবিজ্ঞানীদের মানসিক সুরক্ষা: মনোবিজ্ঞানীরা প্রতিদিন অন্যের কষ্ট শোনেন, যা ধীরে ধীরে তাদের নিজের মনকেও ক্লান্ত করে তোলে। তাই তাদের জন্য নিয়মিত বিরতি, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, এবং নিজের মানসিক যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। না হলে সেই নীরব চাপ একসময় বড় সমস্যায় পরিণত হয়।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Medical check-up): অনেক রোগ প্রথমদিকে বোঝা যায় না, কিন্তু সময়মতো পরীক্ষা করলে তা ধরা পড়ে। খনি শ্রমিকদের ফুসফুস পরীক্ষা, হাসপাতালের কর্মীদের সংক্রমণ পরীক্ষা, বাইরে কাজ করা মানুষদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ—এসবই রোগকে বড় হওয়ার আগেই থামাতে সাহায্য করবে। (Workplace Health Risks)
  • ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (Personal Protective Equipment-PPE): মাস্ক, গ্লাভস, হেলমেট এগুলো শুধু নিয়ম নয়, জীবনের সুরক্ষা। যখন অন্য কোনও উপায় কাজ করে না, তখন এই সরঞ্জামগুলোই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনেক বড় ক্ষতির থেকে বাঁচা যেতে পারে।
  • নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহার: আজকের দিনে প্রযুক্তি অনেক বড় সহায়তা দিতে পারে। খনিতে গ্যাস শনাক্তকরণ, কারখানায় সতর্ক সংকেত, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ-এই সব ব্যবস্থা আগে থেকেই বিপদের ইঙ্গিত দেয়, ফলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষ বার্তা
আমরা হয়তো কখনও তাঁদের নাম জানি না, কিন্তু তাঁদের পরিশ্রম ছাড়া আমাদের প্রতিদিনের জীবনটা অসম্পূর্ণ। তাঁরা নিঃশব্দে কাজ করে যান নিজের শরীরের ক্লান্তি আর মনের চাপ লুকিয়ে রেখে। যদি আমরা একটু সচেতন হই, একটু মানবিক হই, তাহলে হয়তো তাদের এই অদেখা কষ্ট কিছুটা হলেও কমানো যায়। কারণ তাঁদের সুস্থতা শুধু তাদের নয়—এটা আমাদের সবার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। (Workplace Health Risks)

আপনার সুস্থতা ও সচেতনতাই আমাদের কাম্য। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে সচেতন হতে সাহায্য করুন।


লেখক পরিচিতি

Bratati Sinha Roy

ব্রততী সিনহা রায় একজন পেশাদার কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট এবং সাইকোথেরাপিস্ট। তবে তাঁর কাজের ধরনকে আলাদা করে তোলে তাঁর গভীর মানবিকতা ও হিউম্যানিস্টিক অ্যাপ্রোচ। তিনি শুধুমাত্র সমস্যার সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নন; বরং মানুষের ভেতর থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পথ তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তিনি একটি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ অনুসরণ করেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের থেরাপির পাশাপাশি মানুষের মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে স্পিরিচুয়াল দিককেও গুরুত্ব দেন। এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে তিনি মানুষের মানসিক কষ্টকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে মানুষের পাশে থাকার, তাদের ভালো রাখার এবং তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এক আন্তরিক ইচ্ছা।

এই বিশ্বাস এবং শিক্ষা থেকেই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত আরও সমৃদ্ধ করে তুলছেন—শুধু একজন পেশাদার হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও—যাতে তিনি অন্যদের জীবনে সত্যিকারের সুস্থতা ও শান্তি নিয়ে আসতে পারেন।



Hindusthan News Point

রাজ্য, দেশ, বিদেশ, খেলা ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য খবর এক প্ল্যাটফর্মে। আমরা তুলে ধরি সত্য, বাস্তব ও মানুষের কথা। Voice of the Nation

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment