আম্মানে জর্ডনের চ্যাম্পিয়ন আল হুসেইনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শুরু করেও জয় নিয়ে ফিরতে পারল না ইস্টবেঙ্গল এফসি। (Al Hussein vs East Bengal) এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধে দানি রামিরেজ ও আনোয়ার আলির গোলে ২-০ এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে লাগাতার আক্রমণের চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ম্যাচ শেষ হল।
Table of Contents

Al Hussein vs East Bengal: প্রথমার্ধে দানি-আনোয়ারের দাপট
আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে রেফারি ছিলেন লেবাননের শেখ আলাউদ্দিন। ম্যাচের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের প্রেসিং ছিল চোখে পড়ার মতো। ২ মিনিটে জিকসন সিং আক্রমণ আটকে বল সামনে বাড়িয়ে দেন। ৫ মিনিটে অফসাইডে আটকে যায় আল হুসেইনের আক্রমণ। ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ৪-৪-২ ছকে খেলছিল।

৯ মিনিটে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। এডমুন্ডের শট গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা বাঁচালেও ফিরতি বলে দানি রামিরেজ জোরালো শটে জাল কাঁপান। স্কোর বোর্ডে ১-০।
১৯ মিনিটে বড় বিপদ এড়ায় হাবাসের ছেলেরা। কর্নার থেকে পেদ্রো হেনরিকের হেডার প্রভসুখন গিল দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ঠেকান, পরে আনোয়ার বল ক্লিয়ার করেন। ৩৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এডমুন্ড। আল হুসেইনের কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করে দ্রুত আক্রমণে ওঠে লাল-হলুদ। বাঁ দিক থেকে জয় গুপ্ত নিচু করে ক্রস বাড়ান এডমুন্ড লালরিন্ডিকার উদ্দেশে; বক্সের মধ্যে সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক আবুলাইলা কিন্তু এতটাই ভালো জায়গায় থেকেও শটটি ঠিকমতো নিতে পারেননি এডমুন্ড। তাঁর ডান পায়ের শট গোলের উপর দিয়ে অনেকটা উঁচুতে চলে যায়।

(Al Hussein vs East Bengal) তবে ৪০ মিনিটে সেই আক্ষেপ মুছে যায়। দানির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে গোল করেন আনোয়ার আলি। ২-০ এগিয়ে বিরতিতে যায় ইস্টবেঙ্গল।
Al Hussein vs East Bengal: দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ছবি
বিরতির পর আল হুসেইন মাঠে নামে আক্রমণাত্মক মেজাজে। গোগোর জায়গায় মাহমুদ শওকাতকে নামায় আল হুসেইন। তাঁরা ম্যাচে বল পজেশন ধরে রেখেছিল। ৪৯ মিনিটে ডাইভ করে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা করায় হলুদ কার্ড দেখেন আরেফ আল হাজ। ৫৮ মিনিটে দু’দলই বদলি করে—মাসুদ জুমা নামেন মোমেন আলির বদলে, ইস্টবেঙ্গলে আসিফ খানের জায়গায় নামেন বিপিন সিং।
৬১ মিনিটে ব্যবধান কমান অধিনায়ক মাহমুদ আলমারদি। বক্সের মাঝখানে বল পেয়ে রশিদকে পিছনে ফেলে স্লাইড করে শট নেন তিনি। বল বাঁক খেয়ে গিলের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে ঢোকে—২-১।
এর পর গিলকে বারবার পরীক্ষায় ফেলতে থাকে আল হুসেইন। ৬৫ মিনিটে ইউসেফ কাশির দূরপাল্লার ডান পায়ের শট দুর্দান্ত সেভ করেন গিল। ৬৮ মিনিটে মাসুদ জুমার পাসে কাশি বাঁ পায়ে ফের শট নিলেও অল্পের জন্য তা বাইরে যায়।
Al Hussein vs East Bengal: শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরে আল হুসেইন
৭০ মিনিটে হার্দিক ভাটের বদলে নরেন্দ্র গেহলতকে নামান হাবাস। ৭৫ মিনিটে একসঙ্গে জয় গুপ্তা, দানি রামিরেজ ও এডমুন্ডকে তুলে রোহিত দানু, রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ ও ডেভিড হামারকে নামানো হয়। ৭৭ মিনিটে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন জিকসন।

শেষদিকে কার্যত রক্ষণেই মন দেয় ইস্টবেঙ্গল। ৮৩ মিনিটে বিপিন ও রশিদের সংযোগে ডেভিডকে সামনে বল দেওয়ার চেষ্টা হলেও গোলরক্ষক বেরিয়ে এসে তা ধরে ফেলেন।
(Al Hussein vs East Bengal) ৮৭ মিনিটে শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরায় আল হুসেইন। ওবেইদা আল নামারনাহর ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন পরিবর্তে আসা আহমেদ আসাফ স্কোর বোর্ডে তখন ২-২। দুই পরিবর্তের যুগলবন্দিতে ম্যাচে ফেরে জর্ডনের দল।
৯০+৪ মিনিটে গিল লব ঠেকিয়ে কর্নার দেন, বিপিন বল ক্লিয়ার করার পরই শেষ বাঁশি। প্রথমবার ACL 2-এর গ্রুপ পর্বে খেলতে নেমে এক পয়েন্ট পেল ইস্টবেঙ্গল। পরের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে খেলবে আল শর্টার বিরুদ্ধে।
পদকের লক্ষ্যে ৮০০ কোটির বাজি, এশিয়ান গেমসের আগে কেন্দ্রের বিপুল খরচ











1 thought on “২ গোলে এগিয়েও জয় অধরা, আম্মানে আল হুসেইনের কাছে পয়েন্ট খোয়াল ইস্টবেঙ্গল”