বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও চর্চায় মিশর কোচের বিশেষ ভঙ্গিমা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে এই ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের একটি বিশেষ ভঙ্গিমা। ম্যাচের শেষদিকে রেফারির দিকে দু’হাত তুলে তিন ‘X’ চিহ্ন দেখান। এরপরই মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্যকে হলুদ কার্ড দেখান এবং পরে হোসাম হাসানের সঙ্গেও কথা বলেন। এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন ফুটবল বিশ্বে তুমুল বিতর্ক। ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন মিশরের কোচ?
এদিন ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছিল মিশর। মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় ইয়াসের ইব্রাহিম গোল দিয়েই এগিয়ে যায় মিশর। পরে মোস্তাফা জিকো আরও একটি গোল করলেও সেটি ভিএআরের সাহায্যে বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে মিশরের এক ফুটবলার ফাউল করে বসেন। এরপর ৬৭ মিনিটের মাথায়একটি চোখ ধাঁধানো গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জিকো। কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচের ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। (FIFA WORLD CUP 2026)
ম্যাচে হারের পর মিশরের অভিযোগ, ম্যাচে একই ধরনের দুটি ঘটনায় রেফারি আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল করা হলেও, মেসির গোলের আগে আর্জেন্টিনার আক্রমণ শুরুর সময় মিশরের এক ফুটবলারকে ফাউল করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু সেই ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। এই সিদ্ধান্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন হোসাম হাসান।
এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রেফারির দিকে তাকিয়ে দু’হাত দিয়ে ‘X’ চিহ্ন দেখান মিশর কোচ। অনেকেই এই ভঙ্গিমার অর্থ জানেন না। আসলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই ‘X’ জেশ্চার একটি বিশেষ সংকেত। কোনও খেলোয়াড় যদি মাঠে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য, বৈষম্য বা রেসিস্ট আচরণের শিকার হন, তাহলে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই সংকেত ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ এটি সাধারণ প্রতিবাদের ইশারা নয়, বরং বর্ণবিদ্বেষের মতো গুরুতর অভিযোগ জানানোর প্রতীক। (FIFA WORLD CUP 2026)
কিন্তু আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বর্ণবিদ্বেষের কোনও অভিযোগই ওঠেনি। তাই প্রশ্ন উঠেছে, হোসাম হাসান কেন এই জেশ্চার করলেন? অনেকের মতে, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তাঁর দলের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই প্রতীক ব্যবহার করেন। তবে এই ইশারা যে মূলত বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ জানানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তা জানার পর বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে।
হোসাম হাসানের এই আচরণ দেখে মিশরের বদলি খেলোয়াড়রা দ্রুত তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁর ভাই ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান এসে তাঁর হাত নিচে নামিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখনও তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে রেফারি তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। যদিও ম্যাচ শেষে এই ঘটনার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনও শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। (FIFA WORLD CUP 2026)
শেষ আটের লড়াই, কার বিরুদ্ধে কে? রইল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, “আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি। খেলাধুলায় ন্যায্যতা থাকা উচিত।” তিনি আরও দাবি করেন, ম্যাচ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ছিল না এবং ফরাসি রেফারিকে এই ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছিল মিশর। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপের আর একটি ম্যাচও আমি দেখব না।”
উল্লেখ্য, ফুটবলে এর আগেও এমন ভঙ্গিমা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ২০১০ সালে জোসে মরিনহো রেফারির উদ্দেশে হাতকড়ার প্রতীক হিসেবে একই ধরনের ‘X’ জেশ্চার করেছিলেন। সেই ঘটনার জন্য তাঁকে তিন ম্যাচ নির্বাসিত করা হয়েছিল। ফলে হোসাম হাসানের এই জেশ্চার নিয়েও ফিফা কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। (FIFA WORLD CUP 2026)
🚨 𝐅𝐈𝐅𝐀 𝐀𝐂𝐓𝐈𝐎𝐍 𝐄𝐗𝐏𝐄𝐂𝐓𝐄𝐃:
— Micky Jnr (@MickyJnr__) July 7, 2026
Egypt head coach Hossam Hassan is set to face punishment from FIFA after making a cross gesture following a yellow card from the referee during the match against Argentina.
FIFA will review the incident before deciding on any… pic.twitter.com/dbW3DHIl5m











1 thought on “রেফারিকে ‘X’ চিহ্ন দেখিয়ে প্রতিবাদ, হলুদ কার্ডে বাড়ে বিতর্ক, কী বোঝাতে চেয়েছিলেন মিশর কোচ?”