মাসের শুরুতে হয়তো স্যালারি ঢুকেছে, কিংবা কাউকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু টাকা পাঠাতে হবে। আপনি চট করে গুগল-এ গিয়ে নিজের ব্যাঙ্কের নাম লিখে সার্চ করলেন এবং সবার ওপরে থাকা লিঙ্কটিতে ক্লিক করে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ে লগ-ইন করলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই একটি ছোট্ট ভুলেই নিমেষে ফাঁকা হয়ে যেতে পারে আপনার কষ্টার্জিত জমানো টাকা? (Banking Fraud)
গ্রাহকদের এই ধরনের সাইবার জালিয়াতি থেকে ১০০ শতাংশ সুরক্ষা দিতেই সম্প্রতি দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বদল আনা হয়েছে। বদলে ফেলা হয়েছে সমস্ত ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা URL। পুরনো অভ্যাসবশত আগের লিঙ্কে ক্লিক করলেই কিন্তু ঘোর বিপদ! (Banking Fraud)
কেন এই ওয়েবসাইট বদলের সিদ্ধান্ত?
বর্তমানে সাইবার জালিয়াতি বা ফিশিং এক মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জালিয়াতদের ফাঁদ পাতার প্রধান হাতিয়ার হলো নকল ওয়েবসাইট। তারা আসল ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটের নামের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে মাত্র কয়েকশো টাকায় একটি নকল ওয়েবসাইট কিনে নেয়। যেমন ধরুন, আসল ব্যাঙ্কের নামের সঙ্গে শুধু ‘-kyc’ বা ‘-update’ জুড়ে ডট কম (.com) বা ডট ইন (.in) দিয়ে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলল। (Banking Fraud)
এরপর তারা গুগল বা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সেই নকল ওয়েবসাইটটিকে সার্চের একদম ওপরে নিয়ে আসে। সাধারণ গ্রাহকরা না বুঝে সেই নকল লিঙ্কে ক্লিক করেন। পেজটি দেখতে হুবহু আসল ব্যাঙ্কের মতো হওয়ায়, গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে সেখানে নিজেদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে দেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আপনার সমস্ত গোপন তথ্য জালিয়াতদের হাতে চলে যায়। এই মারাত্মক প্রতারণা চিরতরে রুখতেই ব্যাঙ্কগুলোর ওয়েবসাইটের নামে এই বড়সড় বদল।
কী এই বদল এবং এটি কেন সুরক্ষিত?
নতুন নিয়মে সাধারণ ডোমেইনের বদলে ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটগুলোতে ‘.bank.in’ (ডট ব্যাঙ্ক ডট ইন) এক্সটেনশন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যে কেউ চাইলেই টাকা দিয়ে ডট কম (.com) বা ডট নেট (.net) ওয়েবসাইট কিনতে পারে, কিন্তু .bank.in (ডট ব্যাঙ্ক ডট ইন) ডোমেইনটি কেনা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এটি ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার জন্য নির্দিষ্ট করা একটি ডোমেন। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনুমোদিত এবং কড়া ভেরিফিকেশনের পর শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাঙ্কগুলোকেই এই ওয়েবসাইট দেওয়া হয়। ফলে ওয়েবসাইটের ঠিকানার শেষে .bank.in (ডট ব্যাঙ্ক ডট ইন) দেখলেই আপনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনি কোনও নকল ওয়েবসাইটে নেই। (Banking Fraud)
আগের সাইট কী ছিল আর নতুন সাইট কী হয়েছে?
আগে আমরা দেখতাম বেশিরভাগ ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটের শেষে .com, .co.in বা .net লেখা থাকত। যেমন, www.onlinesbi.com।
এখন সেটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে হয়েছে— sbi.bank.in
অর্থাৎ, অন্যান্য ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও ওয়েবসাইটের ঠিকানার একেবারে শেষেই এখন .bank.in থাকছে।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
১) গুগল সার্চ নয়: ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং করার সময় কখনোই গুগল-এ ব্যাঙ্কের নাম লিখে সার্চ করে লিঙ্কে ঢুকবেন না।
২) ইউআরএল চেক করুন: সব সময় ব্রাউজারের ওপরের অ্যাড্রেস বারে নিজে টাইপ করে ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে ঢোকার অভ্যাস করুন এবং লগ-ইন করার আগে দেখে নিন শেষে .bank.in আছে কি না।
৩) বুকমার্ক করে রাখুন: আপনার ব্যাঙ্কের আসল ওয়েবসাইটটি একবার কনফার্ম করে ব্রাউজারে বুকমার্ক করে রাখুন, যাতে বারবার টাইপ করতে না হয়। (Banking Fraud)
আজকের টোটকা
শুধু ওয়েবসাইট নয়, আপনার মোবাইলে আসা ব্যাঙ্কের কোনও মেসেজে যদি কোনও লিঙ্ক থাকে এবং সেই লিঙ্কের শেষে .bank.in না থাকে, তবে ভুলেও সেখানে ক্লিক করবেন না। আসল ব্যাঙ্ক কখনোই আপনাকে কোনো থার্ড-পার্টি লিঙ্কে ক্লিক করে কেওয়াইসি বা প্যান কার্ড আপডেট করতে বলে না। (Banking Fraud)
আরও পড়ুন :- বাড়িতে Wi-Fi? মোবাইল রিচার্জের আগে দেখে নিন Jio-র এই সস্তার প্ল্যানগুলো












