NRS-এ নার্সের মৃত্যুতে গঠিত হলো অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ। ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে। পরিবারকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি মৃতার স্বামীর দাবি অনুযায়ী এনআরএসের পরিবর্তে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে করা হবে ময়নাতদন্ত। এমনটাই জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (nurse death at NRS)।
nurse death at NRS: অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিতে থাকছেন কারা?
এই কমিটিতে (nurse death at NRS) কারা কারা থাকবেন, এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “নীলরতন হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিডেন্ট, ক্লিনিং বিভাগ-সহ কয়েকটি বিভাগের প্রধানদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট দেবে।”
ময়নাতদন্ত হোক কলকাতা মেডিক্যালে, দাবি পরিবারের
এনআরএস হাসপাতালে নয়। ময়নাতদন্ত হোক কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। দাবি মৃতার স্বামী রাহুল দাসের। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ময়নাতদন্ত অন্যত্র করানো হোক দাবি মৃতার স্বামীর। উনি নিজেই বলেছেন মেডিক্যাল কলেজে করানো হোক। তাই ময়নাতদন্ত হবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ফরেন্সিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে। এনআরএসের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান ওনাকেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি। উনিও সেটা জানেন। ওনার যা যা জানানোর তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “কী ভাবে মারা গেছেন তা আমরা এখনও জানতে পারিনি। তাই বারবার বলছি অনুমান করবেন না। বিজ্ঞানে কোনও অনুমানের কোনও জায়গা নেই। কীভাবে মারা গেলেন, কেন মারা গেলেন, এই প্রশ্নের উত্তর পুলিশ দেবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলেই জানা যাবে মৃত্যুর কারণ।”
মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য পরিবার হলো আমাদের পরিবার, মন ভারাক্রান্ত। আমাদের মেয়ে মারা গিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করুক। প্রশাসনের তরফে যা যা সহযোগিতা দরকার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন তাই তাই করবেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে মৃতার স্বামীর সঙ্গে দেখা করব।”
বৃহস্পতিবার সকালে এনআরএসে যান কলকাতা পুলিশের ডিসি সুবিমল পাল। তিনি বলেন, “গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি সকলে জানতে পারেছে। পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর আসল কারণ। পরিবার যেখানে চাইবে সেখানে ময়না তদন্ত হবে। হোমিসাইড শাখা তদন্ত করছে। সিসিটিভি ফুটেজও দেখা হচ্ছে। ওনার স্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ৮টা নাগাদ হাসপাতালে ডিউটিতে যোগ দেন ওই নার্স। নার্সিং স্টেশনে আসার পর রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে চলে যান। ১০টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও কাজে ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। সহকর্মীরা শৌচালয়ের দরজার কাছে গিয়ে তাঁকে ডাকাডাকি করেন। তারপরই দরজা ভেঙে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হতে পারে তাঁর মৃত্যুর কারণ।








