বারুইপুরকাণ্ড নিয়ে তোলপাড়ের মাঝেই রাজ্যে ফের গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ। এবার পূর্ব বর্ধমান। পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘি থানা এলাকা খালের পাশে এক আদিবাসী গৃহবধূর রহস্য মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার অকুস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় পাঁচ সদস্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল (purba bardhaman murder case)।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার খালের পাশে একটি মাঠ থেকে বছর ২৮ শের গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ি পূর্ব বধর্মানেই। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বাপের বাড়ি থাকতেন। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে স্বামীকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। পরে তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী তাঁর খোঁজেই বেরিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ওই মাঠে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠায় (purba bardhaman murder case)।
পরিবারের অভিযোগ, গৃহবধূকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয় এবং পরে খুন করে দেহ ফেলে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম শেখ আজিজুল ও শেখ ভদাই। পুলিশ জানিয়েছে, শেখ আজিজুলকে দেওয়ানদিঘি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শেখ ভদাইকে বীরভূমের নানুর এলাকা থেকে আটক করে পরে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার তাদের বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কোনও ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এদিকে তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহে বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাঁচ সদস্যের ফরেন্সিক দল। বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেন্সিক রিপোর্ট সামনে আসলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি বোঝা যাবে।
“ও অন্যায় করেছে, গুলি খেয়েছে”, প্রভাসের মৃত্যুতে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য স্ত্রীর











