মাত্র ২০ জন বিধায়কের উপস্থিতিতে ভেস্তে গেল কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের বৈঠক (TMC MLA Meeting)। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের অনুপস্থিতির জেরে বৈঠক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দল। তৃণমূলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় অধিকাংশ বিধায়ক উপস্থিত হতে পারেননি। একইসঙ্গে আগামী ১ জুন রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল এবং ২ জুন কলকাতার রাণী রাসমণি রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অবস্থান-বিক্ষোভের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কালীঘাটে রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক বৈঠক (TMC MLA Meeting) শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হল দলকে। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রায় ৮০ জন বিধায়ককে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন বিধায়ক। ফলে অধিকাংশ বিধায়কের অনুপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে সমন্বয়ের অভাব এবং সাংগঠনিক সমস্যার কারণেই এত বড় সংখ্যক বিধায়ক বৈঠকে (TMC MLA Meeting) অনুপস্থিত ছিলেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব সেই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিধায়কদের একটি বড় অংশ নিজেদের এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সেই কারণেই বৈঠকে উপস্থিতি কম হয়েছে। এটি কোনও রাজনৈতিক সংকট বা দলীয় অসন্তোষের প্রতিফলন নয়।
আরও পড়ুন: অভিষেক-কাণ্ডের প্রতিবাদে অবরোধ, গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার-সহ ১০
(TMC MLA Meeting) এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানান, গতকাল সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। সেই কর্মসূচিতে বহু বিধায়কও নেতৃত্ব দেন।
কুনাল ঘোষের বক্তব্য, ‘‘গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন বিধায়ক আমাদের পরিষদীয় নেত্রীর কাছে ফোন করে অনুরোধ করতে থাকেন যে, আজকের সভাটি যদি কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখা যায়। তাঁরা জানান, এলাকায় কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে, প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে, কর্মীদের থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করাই জরুরি।’’
তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী ও নেতৃত্বকে পুলিশ আটক করেছে, থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে একের পর এক বিধায়ক বৈঠকে যোগ না দিয়ে নিজেদের এলাকায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুরোধের সংখ্যাই ক্রমশ বাড়তে থাকায় দলীয় নেতৃত্ব বৈঠক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিন কুনাল ঘোষ আরও দাবি করেন, চুঁচুড়ার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধেও ধরপাকড় শুরু হয়েছে বলে দাবি বিরোধী দলের।
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরও হামলা হয়েছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আগামী ১ জুন, সোমবার রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চল, ওয়ার্ড এবং ব্লক স্তরে ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে স্থানীয় স্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
শুধু তাই নয়, আগামী ২ জুন কলকাতার রাণী রাসমণি রোডে একদিনের বৃহৎ অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই অবস্থান কর্মসূচিতে একাধিক ইস্যুকে সামনে আনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী সন্ত্রাস, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধীদের ভূমিকা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদকে আরও তীব্র করা হবে।
সব মিলিয়ে, (TMC MLA Meeting) কালীঘাটের বৈঠক স্থগিত হওয়া যেমন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই আগামী ১ জুনের রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং ২ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাণী রাসমণি রোডের অবস্থান- বিক্ষোভ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই আন্দোলনকে কতটা বৃহৎ আকার দিতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন: হরমুজে ফের উত্তেজনা, পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আমেরিকার









