প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এনসিপিআই(NCPI)-র তিন সাংসদ। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিলেও, এনডিএ-র সঙ্গে নেই তাঁরা, এবার স্পষ্ট করে দিলেন এনসিপিআই -এর এই ৩ সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। বিজেপিতে যোগদানের সব জল্পনার অবসান ঘটালেন তাঁরা। এলাকায় জনসমর্থন হারানোর আশঙ্কায় NDA-র কর্মসূচিতে তাঁরা অংশ নিচ্ছেন না বলে জানান (NCPI)।
সূত্রের খবর, NDA-এর বিজেপির সঙ্গে জোট পছন্দ করছে না তৃণমূল থেকে আসা এই ৩ বিদ্রোহী সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। সেই কারণে NDA-এর বৈঠকগুলিতেও অনুপস্থিত ছিলেন ৩ জনই। সূত্রের খবর, এই ঘনিষ্ঠতার ফলে তাঁরা তাঁদের ভোটব্যাংক হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা (NCPI)।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই সাংসদ – আবু তাহের ও খলিলুর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। সাংবাদিক সম্মেলন করে আবু তাহের খান বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরে বাদ যাওয়া ২৭ লক্ষ মানুষের হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি।”
আবু তাহের খান বলেন, “আমরা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি যে আমরা বিজেপির সঙ্গে যাব না এবং এনডিএ-র অংশও হব না।”
তিনি আরও বলেন, “মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি, বিশেষ করে যারা পিছিয়ে আছে, তাদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছেন।”
NCPI: ‘এনসিপিআই নেতারা সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন’
এবিষয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এঁনারা “সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন”। তিনি আরও বলেন, “তাঁরা সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন। তাঁরা একটি চিঠি জমা দিয়েছিলেন যেখানে উল্লেখ ছিল যে তারা এনসিপিআই (NCPI)-এর অংশীদার। সেই চিঠিটি স্পিকারের কাছেও রয়েছে। তাছাড়া, তাঁদের দলের নেতারা আগেই ঘোষণা করেছেন যে এনসিপিআই হলো এনডিএ (NDA)-র একটি শরিক দল। এখন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। মুর্শিদাবাদে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোটারই সংখ্যালঘু এবং তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এখন এই দুই নেতার পরিস্থিতিকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।”
কুণাল ঘোষ বলেন, “এঁরা বিভ্রান্ত। এঁরা বিজেপির ‘বি-টিম’। এখন তাঁদের এলাকায় মানুষ বলছে যে, আপনারা তো বিজেপি-বিরোধী ভোটেই জিতেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হিসেবেই জয়ী হয়েছিলেন। তাই নিজেদের সমীকরণ ঠিক রাখতে এবং লোকসভা আসনগুলো ধরে রাখতে এঁরা এখন বিজেপি নেতাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”












