চার সপ্তাহ আগে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে লড়াই দিয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা হয়েছিল, সেই একই মঞ্চে ফিরছে এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা। (Durand Cup Final) রবিবার, ২৩ অগস্ট ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের হাইভোল্টেজ মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান—মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল এফসি। ম্যাচটি শুরু হবে ভারতীয় সময় বিকেল ৫টায়।
Durand Cup Final: গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনালের লড়াই

চলতি মরশুমের উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রুপ ‘এ’-তে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেখানে সাহাল আব্দুল সামাদের দ্বিতীয়ার্ধের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল মোহনবাগান। পুরো টুর্নামেন্টে ইস্টবেঙ্গলের এটিই একমাত্র পরাজয়। সেই হারের পর থেকেই যোগ্য জবাব দিয়ে ট্রফি ঘরে তোলার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল।
অন্যদিকে, গোটা টুর্নামেন্টে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে ফাইনালে নামছে মোহনবাগান। গ্রুপ পর্বে সাউথ ইউনাইটেডকে ৮-০ (মনবীর সিংয়ের হ্যাটট্রিক) এবং সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৬-০ (সাহালের প্রথমার্ধের হ্যাটট্রিক) গোলে উড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করে তারা। ইস্টবেঙ্গলও টুর্নামেন্টে দারুণ ঘুরে দাঁড়ায়—সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে প্রথম জয় পান হাবাস, এরপর সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে সেরা রানার্স-আপ দল হিসেবে নকআউটে ওঠে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
নকআউটের রোমাঞ্চ ও গোলরক্ষকদের দাপট

নকআউটে দুই দলকেই চরম স্নায়ুচাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে পিভি বিষ্ণুর ৩৮ মিনিটের গোলে ইন্ডিয়ান আর্মিকে ১-০ হারিয়ে সেমিতে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। সেমি ফাইনালে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে জয় পায় লাল হলুদ। গোলপোস্টের নিচে নির্ধারিত সময়ে একটি এবং টাইব্রেকারে আরেকটি পেনাল্টি রুখে নায়ক হন ইস্টবেঙ্গল কিপার প্রভসুখন সিং গিল।

অন্যদিকে মোহনবাগান কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসি-র সঙ্গে ১-১ গোলে শেষ করার পর পর ম্যারাথন পেনাল্টি শুটআউটে ৯-৮ ব্যবধানে জেতে, সেখানে দুর্দান্ত সেভ করে দলকে জেতান বিশাল কাইথ। সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ম্যাচের পর রবিন যাদব ও পার্থিব গগৈয়ের পেনাল্টি বাঁচিয়ে ৪-৩ গোলে বাগানকে ফাইনালে তোলেন গোলরক্ষক কাইথ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোহনবাগান পুরো টুর্নামেন্টে ১৬ গোল দিয়ে মাত্র ১ গোল হজম করেছে। ইস্টবেঙ্গল হজম করেছে মাত্র ১ গোল (উদ্বোধনী ডার্বিতে) এবং করেছে ১৪টি গোল।
মনের ক্লান্তি সরিয়ে ট্রফিতে চোখ বাগানের, কেমন হোমওয়ার্ক সারছে মোহনবাগান?
১৩তম ডুরান্ড ফাইনালে ১৮ বনাম ১৬-এর লড়াই
ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে এটি দুই দলের ১৩তম ফাইনাল ডার্বি। এর আগের ১২টি মেগা ফাইনালে দুই দলই ৫ বার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং দু’বার যৌথ বিজয়ী ঘোষিত হয়েছিল।

(Durand Cup Final) রেকর্ড ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানের সামনে সুযোগ রয়েছে ট্রফি সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গিয়ে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করার। অন্যদিকে ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ছুঁয়ে ফেলা। ২০২৩ সালের সর্বশেষ ডুরান্ড ফাইনালে দিমিত্রি পেত্রাতোসের একমাত্র গোলে ১০ জনের মোহনবাগান ১-০ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে।
Durand Cup Final: দুই কোচের রণকৌশল ও মানসিক যুদ্ধ
ইস্টবেঙ্গলের শক্তি তাদের জমাট রক্ষণ, দলনেতা মহম্মদ বাসিম রশিদের দূরপাল্লার শট ও সেট-পিস এবং পিভি বিষ্ণুর গতি। কোচ হাবাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডার্বি আলাদা আবেগের ম্যাচ হলেও মাঠের লড়াইয়ে শান্ত থেকে ৯০ মিনিট আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাই আসল। কোনও অজুহাত চলবে না, যারা মাঠে বেশি বুদ্ধি খাটিয়ে খেলবে তারাই জিতবে।

অন্যদিকে গ্রিক কোচ পানাগিওতিস ডিলম্পেরিসের মোহনবাগান খেলছে আক্রমণাত্মক ছন্দে। সাহাল ও মনবীরের পাশাপাশি দলে যোগ দিয়েছেন মিগুয়েল ফিগেইরা এবং লালেংমাউইয়া ছাংতে। বাগান কোচের বার্তা, “ইস্টবেঙ্গলের কোয়ালিটি রয়েছে, তবে আমরা ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই শেষ করতে চাই। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেগের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও প্যাশন জরুরি। লড়াইটা মানসিক।”
রবিবাসরীয় যুবভারতীতে ৯০ মিনিট বা পেনাল্টি শুটআউট—যেভাবেই ফয়সালা হোক না কেন, মর্যাদার লড়াইয়ের পাশাপাশি ডুরান্ডের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠত্বের এক নতুন অধ্যায় লেখা হতে চলেছে। (Durand Cup Final)
দলের এক্স-ফ্যাক্টর হাবাস? ডুরান্ড নিয়ে কী বলছে লাল-হলুদ শিবির?












Been playing here for a couple of weeks now and the experience has been great. Very stable connection and fair gameplay. Check out batak5dlogin