রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক (Debasish Dhar) দেবাশিস ধর তুলে ধরলেন তাঁর এলাকার উন্নয়নের খতিয়ান। তাঁর দাবি, ১০০ দিনে একাধিক ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে, কোথাও দ্রুত সমাধানের জন্য রাস্তায় খানাখন্দ মেরামত করা হয়েছে, আবার কোথাও বড় পরিকাঠামোগত কাজের জন্য সার্ভে ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা থেকে খাল সংস্কার—একাধিক ক্ষেত্রে পুজোর পর আরও বড় কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পঞ্চায়েত ও পুরসভা এলাকার পরিষেবা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তা নিয়েও সরব হয়েছেন বিধায়ক। তবে তাঁর কথায়, “১০০ শতাংশ কোনওদিনও কেউ করতে পারে না।” তাই ১০০ দিনেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি না করে আগামী দিনে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের উপরই জোর দিচ্ছেন তিনি।
Debasish Dhar: বেহাল রাস্তা মেরামতি, শুরু হয়েছে নিকাশি পরিকল্পনাও
সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক জানিয়েছেন, গত ১০০ দিনে তাঁর এলাকায় যে সমস্যাগুলি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, তার মধ্যে রাস্তা, পানীয় জল, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং নিকাশি অন্যতম। তাঁর বক্তব্য, “সবথেকে খারাপ অবস্থা ছিল রাস্তাঘাট, পানীয় জল, গারবেজ সিস্টেম, নিকাশি ব্যবস্থা।” সেই সমস্যাগুলির মধ্যে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় থাকা বেশ কিছু রাস্তার “প্যাচ রিপেয়ার” করানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তাঁর বক্তব্য, শুধু সাময়িক মেরামতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্যও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু রাস্তা মেরামত করেই থেমে থাকতে চাইছেন না বিধায়ক (Debasish Dhar)। তাঁর দাবি, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কোন কোন রাস্তার কাজ প্রয়োজন এবং কোথায় নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি বা সংস্কার দরকার, তা নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরসভা এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে সার্ভে হয়েছে। “১০০ দিনের মধ্যে আমরা তিনটে স্টাডি করে অলরেডি সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছি”—বলে জানিয়েছেন তিনি।
খাল পরিষ্কার করে বিদ্যাধরীর সঙ্গে চ্যানেল সংযোগের পরিকল্পনা
সোনারপুর উত্তরের জলনিকাশি ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা খাল ও চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিধায়কের দাবি, বহু জায়গায় প্লাস্টিক জমে খাল কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। আবার কোথাও খাল ও চ্যানেলের জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে খাল ও চ্যানেল পরিষ্কার করে জলনিকাশির ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের সার্ভে হয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। (Debasish Dhar) তাঁর কথায়, “পঞ্চায়েত ও পৌরসভা এলাকায় আমাদের সেচ বিভাগ এসে সার্ভে করে গিয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব জায়গায় চ্যানেল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলি পরিষ্কার করে জল চলাচলের পথ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে চ্যানেলের মাধ্যমে নোংরা জল বিদ্যাধরী নদীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিধায়কের দাবি, এই কাজের জন্য প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। পুজোর পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
“ফুটপাথ সংসার পাতার জায়গা নয়”, বিতর্কে মুখ খুললেন অগ্নিমিত্রা পাল
Debasish Dhar: জল ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় সমীক্ষা, বাজেট পাঠানোর প্রস্তুতি
পানীয় জল ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়েও পুরসভা এলাকায় সমীক্ষা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। কোথায় কী ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখে অ্যাসেসমেন্ট করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী বাজেটও পুরসভায় পাঠানো হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। পুজোর পর সংশ্লিষ্ট কাজগুলি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তাঘাট, জল এবং আবর্জনা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করে কাজের প্রস্তুতি চলছে। অর্থাৎ, ১০০ দিনের মধ্যে সমস্ত সমস্যা সমাধান না হলেও পরবর্তী পর্যায়ের কাজের জন্য প্রশাসনিক ভিত তৈরি করা হয়েছে—এমনটাই দাবি বিধায়কের।
Debasish Dhar: সোনারপুর ব্লকে সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি বরাদ্দ
উন্নয়নকাজের অর্থের প্রসঙ্গেও বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন দেবাশিস ধর। তাঁর দাবি, সোনারপুর ব্লকের অধীন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির জন্য বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত খাতেও আরও একটি ফান্ড অনুমোদিত হয়েছে। সেই অর্থে কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে খুব শীঘ্রই সেই টাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হতে পারে।
Debasish Dhar: পঞ্চায়েত পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ, প্রতিদিন সার্টিফিকেট দেওয়ার দাবি
স্থানীয় নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থা নিয়েও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, বহু কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত সদস্য বর্তমানে সক্রিয় নন। ফলে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট পেতে সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের দফতর থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, “প্রত্যেক দিন অন্তত গড়ে ১০০, ১৫০, ২০০ করে সার্টিফিকেট” বিভিন্ন মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে ইস্যু করতে হচ্ছে।
তাঁর কথায়, জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পরিষেবা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা নিশ্চিত করাও তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
ACC নির্বাচনে তিন পদেই পাকিস্তানের জয়, তবে কি এবার এশীয় ক্রিকেটে বাড়বে PCB-র দাপট?
মাদক, গাঁজা ও সাট্টার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ
উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন (Debasish Dhar) দেবাশিস ধর। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদক, গাঁজা এবং সাট্টার মতো বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০ শতাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
‘১০০ শতাংশ কাজ কেউ করতে পারে না’, নিজের রিপোর্ট কার্ডে কী বললেন বিধায়ক?
১০০ দিনে নিজের কাজকে ১০০-তে কত নম্বর দেবেন—এই প্রশ্নের সরাসরি কোনও সংখ্যা দেননি দেবাশিস ধর। বরং তাঁর বক্তব্য, মাত্র ১০০ দিনে কোনও জনপ্রতিনিধির কাজের পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলা, কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা এবং MSME-ভিত্তিক প্রকল্প আনার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
(Debasish Dhar) তাঁর মতে, সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক এবং বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী-আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে যে কাজগুলি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সেগুলিও চলছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিধায়কের বক্তব্য, কেউ যদি ১০০ দিনের মধ্যেই ৮০, ৯০ বা ১০০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন, তা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর কথায়, তিনি এখনও কাজের ‘ইনিশিয়াল স্টেজে’ রয়েছেন। আগামী দিনে শুরু হওয়া প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নই হবে আসল পরীক্ষা। তাঁর বক্তব্য, “সবে কাজগুলো শুরু করেছি। সেগুলো এবার আমাকে এক্সিকিউশন করতে হবে।” তাই এখনই চূড়ান্ত রিপোর্ট কার্ড দেওয়ার সময় নয় বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত রিপোর্ট কার্ড তৈরি করার সময় আসবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে।
সব মিলিয়ে (Debasish Dhar) দেবাশিস ধরের ১০০ দিনের রিপোর্ট কার্ডে একদিকে যেমন রাস্তা মেরামতি, সার্ভে, নিকাশি, খাল ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার কাজের দাবি রয়েছে, তেমনই একাধিক বড় প্রকল্প এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। এখন মূল লক্ষ্য হল পরিকল্পনাগুলিকে বাস্তবে কার্যকর করা এবং সোনারপুর উত্তরের রাস্তা, জল, নিকাশি, আবর্জনা ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলির সমাধান করা।
ডোমকলে লাল ঝড়, সমবায় ভোটে ৮-০ জয় CPIM-এর









1 thought on “বিজেপি সরকারের ১০০ দিনে কতটা বদলাল সোনারপুর উত্তর? তুলে ধরলেন বিধায়ক দেবাশিস ধর”