দিল্লির রাজপথে ফের আন্দোলনের ডাক। এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না-করলে ফের দেশ জুড়ে আন্দোলনে নামার ডাক CJP। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সেখানেই তিনটি দাবির কথা তুলে ধরেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা (Gyanesh Kumar)।
Gyanesh Kumar: ‘জ্ঞানেশ কুমার বড় বিশ্বাসঘাতক’
সংবদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে CJP নেতা অভিজিৎ দীপকে (Gyanesh Kumar) বলেন , “নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে গতকাল যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে তা প্রমাণ করে যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক। তিনি এই দেশের সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী, এবং তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি কেন দেশদ্রোহী? কেন তিনি দেশবিরোধী? কারণ তিনি ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর একজন মানুষ।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে গণতন্ত্রের অর্থ কী ছিল? এর অর্থ ছিল জনগণই সরকার নির্বাচন করবে এবং তারাই ঠিক করবে কাকে ভোট দেবে। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারই ঠিক করছে কারা ভোট দেবে আর কারা দেবে না। গণতন্ত্রের এ কেমন সংজ্ঞা? আপনারা গণতন্ত্রকে উল্টে দিয়েছেন। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা স্বৈরতন্ত্র। আর এর পেছনে থাকা সবচেয়ে বড় অপরাধী ও দেশবিরোধী ব্যক্তিটি হলেন জ্ঞানেশ কুমার।”
এসআইআর (SIR)-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিজিৎ জানান যে ১৩ কোটি ভোট বাতিল করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য জ্ঞানেশ কুমার সব রকম পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, “বিরোধী দল বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের বিশেষ কোনো পক্ষপাত নেই। কিন্তু গণতন্ত্রে যদি বিরোধীদের পুরোপুরি নির্মূল করা হয় এবং সমস্ত বিকল্প মুখকে মুছে ফেলা হয়, তবে কি তা আর গণতন্ত্র থাকে? একে কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায়? মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে সরকার ফেলে দেওয়া, গোয়ায় রাতারাতি দলবদল ঘটানো, বিধায়ক ও সাংসদদের কেনা এবং রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আসলে একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।”
অভিজিৎ আরও বলেন, “মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপি-র মধ্যে বিভাজন ঘটেছিল। নির্বাচন কমিশন তাদের দলের আনুষ্ঠানিক প্রতীক কেড়ে নিয়ে তা এমন সব গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয় যারা মূলত বিজেপিরই প্রক্সি বা নামমাত্র সংগঠন। ঠিক একই ঘটনা এখন বাংলাতেও ঘটছে। এর নেপথ্যে থাকা আসল অপরাধী হলেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি কেবল দেশজুড়ে নির্বাচনে কারচুপিই করেননি, বরং ক্ষমতাসীন দল যাতে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করেছেন।”
আক্রমণ শানালেন রাহুল
CJP-র পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতে গণতন্ত্রকে “ধ্বংস হতে দেখে” কংগ্রেস হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন, কিন্তু এর এক-দু’বছরের মধ্যেই তাঁকে ব্যাপক জন-অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। কংগ্রেস নেতা কিংবা আঞ্চলিক দল—একের পর এক নেতার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটতে দেখা গেছে। কিন্তু কোনো এক কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদি, অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না।”
রাহুল গান্ধী বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে হরিয়ানায় ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জনরোষ বা ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’র বিষয়টি উধাও হয়ে গেল। মহারাষ্ট্রেও ক্ষমতার পালাবদল চলত, সেখানেও হঠাৎ সেই প্রবণতা অদৃশ্য হয়ে গেল। উত্তরপ্রদেশেও সমাজবাদী পার্টি থেকে বহুজন সমাজ পার্টি—এভাবে ক্ষমতার অদলবদল হয়েছে। কিন্তু সেখানেও সেই বিষয়টি আর দেখা যাচ্ছে না। আর এটিই আমাদের কাছে একটি মৌলিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা আমরা বুঝতে পারি। কোনও সরকারের কাজের মূল্যায়নও আমরা বুঝি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রতি মানুষের অসন্তোষ বা ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’র বিষয়টি কীভাবে উধাও হয়ে যায়, তা আমরা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না।”











