বঙ্গোপসাগরে তৈরি অতি গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হয়েই ঢুকে পড়েছে উত্তর-অন্ধ্র, ওডিশা উপকূলে। বুধবার গভীর রাতে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের কাছে কলিঙ্গপত্তনমের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থলভাগে প্রবেশ করে এটি। এরপর ঘুরে যায় উত্তর-পূর্ব দিকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ল্যান্ডফলের পর থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে ওডিশা উপকূলে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বজায় রয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ। প্রবল বৃষ্টিতে ভেঙে গিয়েছে রাস্তা, সেতু। রয়েছে ধস নামার আশঙ্কা। তেলেঙ্গানাতেও একই পরিস্থিতি (Andhra Odisha coast)।
Andhra Odisha coast: কী বলছে হাওয়া অফিস?
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের উপর থাকা গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আজ অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১টার মধ্যে অতি গভীর নিম্নচাপ হিসাবে কলিঙ্গপত্তনমের দক্ষিণ-পশ্চিমের কাছ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রম করার সময় হাওয়ার গতিবেগ ছিল ৫৫-৬৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা (Andhra Odisha coast)।
উপকূল অতিক্রম করার পরও কিছু সময় এটি পশ্চিমবঙ্গ উত্তর-পশ্চিম দিকেই আগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে নিম্নচাপটি কলিঙ্গপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে প্রায় ৫০ কিমি পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে ৮০ কিমি উত্তর ও উত্তর-পূর্বে এবং গোপালপুর (ওডিশা) থেকে ১৭০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। আপাতত পরবর্তী ১২ ঘণ্টা অতি গভীর নিম্নচাপের তীব্রতা বজায় থাকবে। এরপর এটি দিক পরিবর্তন করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে দুর্বল হবে।
সতর্ক প্রশাসন
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী,অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিচু ও ভূমিধস-প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে হয়েছে। ওই রাজ্যের মন্ত্রী সুরেশ পূজারি বলেছেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আমরা ৮,০৮২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, “যেসব এলাকায় প্রবল জলপ্রবাহের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। যেসব এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে হবে।”










