সামনেই আসছে উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো থেকে দিওয়ালি উৎসব মানেই মিষ্টিমুখ। লাড্ডু, বরফি, জিলিপি, গোলাপজামুন থেকে রসগোল্লা—বাড়িতে অতিথি আসা হোক বা পুজোর নিমন্ত্রণ, মিষ্টি ছাড়া যেন উদযাপনই অসম্পূর্ণ। তার সঙ্গে থাকে মিষ্টি পানীয়, ভাজাভুজি এবং অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া। ফলে উৎসবের কয়েক দিনেই শরীরে চিনি ও ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। যদিও মাঝে মধ্যে মিষ্টি খেলে সাধারণত সুস্থ লিভারের ক্ষতি হয় না। কিন্তু দিনের পর দিন বেশি চিনি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে সমস্যা হতেই পারে।
Health Tips: অতিরিক্ত চিনি কীভাবে লিভারে চর্বি বাড়ায়?
আমরা যে চিনি খাই, তার মধ্যে ফ্রুকটোজের বিপাক মূলত লিভারেই হয়। শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় নিয়মিত বেশি চিনি ও ক্যালোরি গেলে লিভার সেই অতিরিক্ত শক্তির কিছু অংশ চর্বিতে পরিণত করতে পারে। এই চর্বি লিভারে জমতে জমতে তৈরি হতে পারে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD), যাকে আগে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা NAFLD বলা হত।
শারদাকেয়ার-হেলথসিটির চিকিৎসক বিনীত কুমার গুপ্তের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত চিনি ও ফ্রুকটোজ খেলে লিভারে ‘ডি নোভো লিপোজেনেসিস’ প্রক্রিয়ায় চর্বি তৈরি বাড়তে পারে। তবে এক-দুদিন বেশি মিষ্টি খেলেই ফ্যাটি লিভার হয়ে যায়, এমনটা নয়। এর পিছনে ওজন বেড়ে যাওয়া, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাসও অন্যতম কারণ হতে পারে।
শুধু ফ্যাটি লিভার নয়, প্রদাহও হতে পারে
লিভারে চর্বি জমলেই যে সঙ্গে সঙ্গে লিভার নষ্ট হতে শুরু করবে, তা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও এগিয়ে গিয়ে লিভারে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ না করলে ফাইব্রোসিস, সিরোসিসের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সার্বোদয় হাসপাতালের চিকিৎসক ভাস্কর নন্দীর মতে, শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি গেলে তার কিছু অংশ চর্বিতে পরিণত হয়ে লিভারে জমতে পারে। তাই যাঁদের আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড রয়েছে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।
এসি ঘরে ঢুকলেই হাঁচি-কাশি? অ্যালার্জি নাকি অন্য কিছু, চিকিৎসকের পরামর্শ জানুন
তাহলে কি উৎসবে মিষ্টি খাবেন না?
চিকিৎসকেরা বলছেন, হঠাৎ করে মিষ্টি একেবারে বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণটা নিয়ন্ত্রণ করুন। একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে অল্প পরিমাণে মিষ্টি খান। মিষ্টি পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। খাবারে শাকসবজি, প্রোটিন ও ফাইবার রাখুন। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটুন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। (Health Tips)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, দৈনিক মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম যেন ‘ফ্রি সুগার’ থেকে আসে। ২০০০ ক্যালোরির খাদ্যাভ্যাসে তা প্রায় ৫০ গ্রাম। তাই উৎসবের মরশুমে অবশ্যই মিষ্টিমুখ করুন তবে আনন্দ অনুষ্ঠান উদযাপনের মাধ্যম যেন প্রতিদিনের অভ্যাস না হয়ে যায়।













3 thoughts on “উৎসবের মরসুমে মিষ্টির ক্রেভিং? অজান্তেই লিভারের ক্ষতি করছেন না তো?”
Comments are closed.