আর্মেনিয়ার সংসদে ফের নজিরবিহীন ঘটনা। এ বার সংসদ ভবনের ভিতরেই হাতাহাতিতে জড়ালেন শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদরা। শুধু ঘুষি, লাথি নয়, একে অপরকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী সাংসদদের দিকে চেয়ার ছুড়তেও দেখা গেল। কয়েক মাস আগে ‘সেক্স মন্ত্রক’ তৈরি নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবার এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সংসদ ভবনে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ডাকতে হয়। গত এক মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার আর্মেনিয়ার সংসদে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। (Armenia Parliament)
কী নিয়ে শুরু ঝামেলা?
বৃহস্পতিবার সংসদে অডিট চেম্বারের এক সদস্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় শাসক দল সিভিল কন্ট্রাক্টের সাংসদ তারন চাকোয়ান কয়েক মাস আগের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের তুতো ভাই সর্গিস কারাপেতিয়ান ফেব্রুয়ারি মাসে একটি পডকাস্টে দেশের জন্মহার কমে যাওয়া নিয়ে আলোচনার সময় ‘সেক্স মন্ত্রক’ তৈরির প্রস্তাব নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যৌন অতৃপ্তি দূর না হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টিও আগে এমন মন্ত্রক তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চাকোয়ান প্রশ্ন তোলেন, মহিলাদের উদ্দেশে এমন মন্তব্যের জন্য এখনও ক্ষমা চাননি কারাপেতিয়ান। এতেই ক্ষুব্ধ হন বিরোধী নেতা নারেক। প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে পৌঁছয়। অভিযোগ, নারেক চাকোয়ানকে মারতে উদ্যত হন। বিরোধী সাংসদ গারনিক দাভতিয়ানও চাকোয়ানকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এরপর দুই পক্ষের সাংসদরা একে অপরকে ধাক্কা দিতে এবং ঘুষি মারতে শুরু করেন। (Armenia Parliament)
বিরোধীদের দিকে চেয়ার ছুড়লেন ডেপুটি স্পিকার
সংসদের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, ডেপুটি স্পিকার ভাগন আলেক্সানিয়ান বিরোধী সাংসদদের দিকে চেয়ার ছুড়ছেন। প্রথমে অধিবেশন বন্ধ করতে চাননি স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান। বরং সবাইকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অধিবেশনে বিরতি ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষে বিরোধী সাংসদ আন্দ্রানিক গেভরগিয়ানের নাক থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়। রুবেন মিখিতারিয়ানের পোশাকও ছিঁড়ে যায়। (Armenia Parliament)
সাংসদদের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
এই ঘটনার পর শাসক দলের সাংসদদের সমর্থন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। তাঁর বক্তব্য, চেয়ার বা অন্য কিছু দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়াও পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক ছিল। বিরোধীদের নিজেদের সীমা বুঝতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি বিরোধী সাংসদদের শারীরিক ক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিরোধীরা অন্তত শারীরিকভাবে শক্তিশালী হবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সিভিল কন্ট্রাক্ট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। গত এক মাসে সংসদে পরপর তিনবার এমন সংঘর্ষের ঘটনা সেই রাজনৈতিক উত্তেজনাকেই আরও স্পষ্ট করল। (Armenia Parliament)











