মাঠে (Virat Kohli) বিরাট কোহলি মানেই আগ্রাসন। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের শাসন করা, চাপের মুখে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা কিংবা হার না মানা মানসিকতা—এই পরিচয় ক্রিকেটবিশ্বের কাছে বহু পরিচিত। কিন্তু ২২ গজের বাইরের বিরাট কেমন? সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন, বন্ধু হিসেবে কতটা আলাদা তিনি? জন্মদিনে বিরাট কোহলিকে শুধু রানের রাজা বলা যায় না; তাঁকে চিনতে হলে তাঁর বন্ধুত্ব, আবেগ ও মানবিক দিকটিও দেখতে হয়। সেই বিরাটকে চিনতে গেলে ফিরে তাকাতে হবে ঘনিষ্ঠ এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের দিকে। কারণ, দীর্ঘদিনের সতীর্থ হিসেবে বিরাটকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা। আর তাঁর কথাতেই উঠে এসেছে, মাঠের আগ্রাসী কোহলির বাইরেও রয়েছে এক অন্য মানুষ।
প্রথম দেখায় বিরাটকে খুব একটা পছন্দ হয়নি এবি-র
প্রথম দেখাতেই যে কাউকে ভালো লেগে যেতে হবে, এমন তো নয়! বরং কখনও কখনও প্রথম ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে ওঠে কোনও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। (Virat Kohli) বিরাট কোহলির সঙ্গে এবি ডি ভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বের গল্পটাও অনেকটা তেমন। আজ তাঁরা একে অপরের কাছে শুধু প্রাক্তন সতীর্থ নন, পরিবারের সদস্যের মতো। অথচ শুরুটা কিন্তু এমন ছিল না।

২০১১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে একসঙ্গে খেলার সূত্র ধরেই তাঁদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ২০২৫ সালে ICC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডি ভিলিয়ার্স স্বীকার করেন, প্রথমদিকে বিরাটকে তাঁর খুব একটা পছন্দ হয়নি। মাঠে বিরাটের আগ্রাসন এবং জেতার প্রবল মানসিকতা তাঁকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলত। কিন্তু কাছ থেকে চেনার পর বদলে যায় সেই ধারণা।

এবি-র কথায়, “Virat is like one of my cricketing brothers.” অর্থাৎ, (Virat Kohli) বিরাট তাঁর কাছে ক্রিকেটের জগতের এক ভাইয়ের মতো। তিনি আরও জানান, দুজনে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে একে অপরের খেলার ধরন এতটাই বুঝে গিয়েছিলেন যে উইকেটের মাঝে দৌড়নোর সময়ও খুব বেশি কথা বলার প্রয়োজন হতো না।
ক্রিকেটের বাইরে ৯০ শতাংশ কথাবার্তা

তবে তাঁদের বন্ধুত্ব শুধু ক্রিকেটে আটকে ছিল না। ২০২০ সালে এক সাক্ষাৎকারে এবি জানিয়েছিলেন, তাঁদের কথাবার্তার ৯০ শতাংশই ছিল ক্রিকেটের বাইরের বিষয়ে। জীবন, পরিবার, সন্তান থেকে শুরু করে নানা ব্যক্তিগত বিষয়েও আলোচনা করতেন তাঁরা।
বিতর্কে বন্ধুর পাশে বিরাট

২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের সময় এবি বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে (Virat Kohli) বিরাট বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এবিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, ‘আমার ভাই, তুমি আমার চেনা সবচেয়ে সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ’। “My brother, you are the most honest and committed man I know.”
ব্যাট হাতে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠা এই দুই তারকার সম্পর্ক শুধু ক্রিকেটীয় পার্টনারশিপের গল্প নয়; এটি মাঠের বাইরে গড়ে ওঠা এক আন্তরিক বন্ধুত্বেরও গল্প।











