---Advertisement---
lifezone nursing home

ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে গেলে গরীব বা বড়লোক কি একই থাকে?

May 25, 2026 12:03 PM
Bank loan rules
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
ভারতের কোটি কোটি লোক যা মুখে না বললেও, যা মনে প্রানে বিশ্বাস করে, তা সুন্দর ভাবে বলে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের দুই মাননীয় বিচারপতি (Bank Loan Rules)। মাত্র কয়েকদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি আশানুদ্দিন আমানুল্লা আর মাননীয় বিচারপতি আর মহাদেবন একটি মামলার শুনানির সময় বলে দিলেন, ব্যাঙ্কে বড়লোক বা কোটিপতিদের ধার দেওয়ার সময় যে নিয়ম কানুনের “শৈথিল্য” দেখা যায় তা কিন্তু গরিবদের ধার বা ঋণ দেবার সময় দেখা যায় না। গরিবদের ধার দেওয়ার সময়ে ব্যাঙ্কগুলো অনেক বেশী কঠিন নিয়মের কড়াকড়ি আর জটিল পদ্ধতি প্রয়োগ করতে থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয় তাঁরা যেন গ্রাহককে নানা ভাবে বিরক্ত করে তুলছে। এই কথাগুলোর সত্যতা যে কতখানি ঠিক, তা যে সাধারণ মানুষেরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে যান তা তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পান।

আসুন দেখ যাক কী প্রসঙ্গে এমন কথা মাননীয় বিচারকরা বললেন— ২০১৯ সালে ভাস্কর ইন্টারন্যাশনাল বলে একটি কোম্পানিকে ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ৮.৯ কোটি টাকা তার বাবসার জন্য ধার দেয়। নিয়ম অনুসারে তা শোধ করার জন্য এই কোম্পানি যে চুক্তি করেছিল, তা তাঁরা পালন করতে পারে না। অর্থাৎ কি না ধার নেওয়ার পর থেকে ৬ বা ৭ মাস কেটে গেলেও তাঁরা যদি ব্যাঙ্কে ধার শোধ হিসাবে এক টাকাও দিতে অপারগ হয় ব্যাঙ্ক তার আইন অনুযায়ী এই কোম্পানির বিরুদ্ধে হরিয়ানা কোর্টে মামালা করে। এবং মামলায় ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আবেদন অনুসারে কোর্ট বলে সারফেইসি (SRFAESI) আইনের ধারা অনুযায়ী তাঁরা ভাস্কর ইন্টারন্যাশনালের জিনিপত্রের উপর আইনগত অধিকার কায়েম করতে পারে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে একথাও বলে যে ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কী করে এমন একটা কোম্পানিকে ৮ কোটি টাকার বেশী ধার/ঋণ দিল, যে সে ধার নেওয়ার পর থেকে এক টাকাও শোধ দিতে পারল না।

আরও পড়ুন: এবার হোটেল ব্যবসায় Gautam Adani

হরিয়ানা কোর্টে ভাস্কর ইন্টারন্যাশনাল মামলায় হেরে গেলেও তারা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্ত হয় সুবিচারের আশায়। সেই মামলার শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্টের দুই সন্মানিত বিচারপতি এই ঋণ সম্পর্কিত সব বাদানুবাদ শুনে, অবাক হয়ে এই কথাগুলো বলেন। মাননীয় বিচারপতিরা ব্যাঙ্ক কী ভাবে ঋণ দেবে সে সম্পর্কে কোনও
উক্তি না করলেও বা সে ব্যাপারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা ঋণদায়ী ব্যাঙ্কের নীতিকে সন্মান দেখালেও, বিত্তশালী আর গরিব লোকেদের মধ্যে ঋণ দেওয়ার পদ্ধতিগত পার্থক্য সম্পর্কে এই মোক্ষম উক্তিটি করেন।

তাকিয়ে দেখুন বিজয় মালিয়া, নীরব মোদী, মেহুল চোক্সি, অনিল আম্বানি, হৃষিকেশ মেহেতা, যতীন মেহেতার মতো বিত্তশালী লোক, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে এবং সেই ঋণ শোধ না দিয়ে, এখন অবধি পার পেয়ে গিয়েছেন, তাদের ঋণের কাগজপত্র দেখলে এই কথার আরও বেশি যথার্থতা দেখা যেত না কি?

অন্যদিকে সামান্য ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অনেক দিন ধার শোধ দিয়েও মাত্র কয়েকমাস ইএমআই দিতে না পারার জন্য তার গাড়িটি ব্যাঙ্ক বাজেয়াপ্ত করেছে এমন ঘটনাও আছে। সন্তান সন্ততিদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য ঋণ নিতে ব্যাঙ্কে গেলে অনেক সময়েই নানা অদ্ভুত প্রশ্নের সন্মুখীন হতে হয়। সেই ঋণের পরিমাণ হয়তো হবে মাত্র ৪ কী ৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে দেখুন গত ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কগুলো ১.৭০ লাখ কোটি টাকার ঋণ তাদের হিসাব থেকে মুছে দিয়েছে। এই অনাদায়ী ঋণের অর্ধেক এসেছে কিছু বৃহৎ শিল্পপতিদের অনাদায়ী ঋণের শোধ না দেওয়ার জন্য। তবে বুঝুন তাদের ঋণ দেবার সময়ে ঠিক কী হয়েছিল তা নিয়ে কি প্রশ্ন তোলা যায় না? নাকি উপরতলার “অদৃশ্য হাত” সব স্তব্ধ করে দিচ্ছে?

আরও পড়ুন: এই নিয়ে ১০ দিনে তৃতীয়বার দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের, চাপ বাড়াচ্ছে সিএনজিও

তবে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিরা ষ্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে মামলায় যে কথাটা ষ্টেট ব্যাঙ্ক সম্পর্কে বলেছেন, বাজারে কান পাতলে বুঝতে পারবেন তা হয়তো ভারতের সব ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর আশার কথা, মাননীয় বিচারপতিরা কিন্তু যারা ঋণ নিতে ব্যাঙ্কে আসেন, তাদের সহানুভুতির সঙ্গে ব্যাঙ্ককে ভাবতে বলেছেন।


Hindusthan News Point

রাজ্য, দেশ, বিদেশ, খেলা ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য খবর এক প্ল্যাটফর্মে। আমরা তুলে ধরি সত্য, বাস্তব ও মানুষের কথা। Voice of the Nation

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment