গত ৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানটি। দিল্লির পথে মাঝআকাশে আচমকাই অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কো-পাইলটের দক্ষতায় এ যাত্রায় বড়সড় বিমান দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।
কী ঘটেছিল বিমানে?
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে হঠাৎ যান্ত্রিক গোলযোগ। ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ প্রযুক্তিগত বিপত্তি। অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমেই একইসঙ্গে সমস্যা দেখা যায়। ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৭ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী। (Air India Autopilot Glitch)
মাঝআকাশে অটোপাইলট বন্ধ, নিয়ন্ত্রণ নেন সহ-পাইলট
পরিস্থিতি সামাল দিতে ককপিটে থাকা সহ-পাইলটকে ম্যানুয়ালি বিমানের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এর পরেই সক্রিয় হয় ফ্লাইট-কন্ট্রোল স্টল সতর্কবার্তা। বিমানের বেশ কয়েকটি ইন্ডিকেটর সুইচও সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে সূত্রের খবর। একই সময়ে বিমানটি প্রবল ঝাঁকুনির মুখেও পড়ে। একের পর এক প্রযুক্তিগত সমস্যায় তৈরি হওয়ায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমের সমস্যার বিষয়টি। বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা পরিচালনায় হাইড্রোলিক সিস্টেমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনটি সিস্টেম কীভাবে এবং কোন ক্রমে সমস্যার মুখে পড়েছিল, তার সঙ্গে আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ক্যাটারিং ট্রাকে ট্রাম্প! চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের, কী এমন ঘটেছিল?
সমস্যার কারণ খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা
মাঝআকাশে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি নেমে আসার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। বিমানটি ফের স্থিতিশীল হয়ে দিল্লির দিকে রওনা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমান সংস্থার সূত্রে খবর, বিমানে মোট ১৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন শিশু। এছাড়াও ছিলেন আটজন কেবিন ক্রু। আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনায় মোট ১৭ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। (Air India Autopilot Glitch)
ঘটনাটিকে ইতিমধ্যেই গুরুত্ব দিয়ে দেখে ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA। গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা AAIB। তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা করে বিমান নির্মাতা সংস্থা Airbus। সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় গোলযোগ ও অটোপাইলট প্রযুক্তি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমান পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে বিমানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করলেও মাঝআকাশের এই একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি বিমানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।









