তাপপ্রবাহের তীব্রতায় কার্যত হাঁসফাঁস করছে রাজধানী দিল্লি। (Delhi Heat Wave) ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, রবিবার দিল্লিতে মে মাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাতের সাক্ষী থাকল শহর— যা গত প্রায় ১৪ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন। একই সঙ্গে দিনভর তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।
আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫.৭ ডিগ্রি বেশি। (Delhi Heat Wave) এর আগে মে মাসে এর চেয়ে বেশি রাতের তাপমাত্রা শেষবার নথিভুক্ত হয়েছিল ২৬ মে, ২০১২ সালে, তখন পারদ উঠেছিল ৩২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
চলতি মাসেই দিল্লিতে অস্বাভাবিক উষ্ণ রাতের নজির তৈরি হয়েছে। এর আগে ২১ মে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, রাতের তাপমাত্রা না কমায় গরমের অস্বস্তি আরও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে।
(Delhi Heat Wave) রাজধানীর একাধিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রাতের তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। পালামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩০.৫ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৪ ডিগ্রি বেশি। লোধি রোডে তা ছিল ৩০ ডিগ্রি, স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ ডিগ্রি বেশি। রিজ এলাকায় ৩০.৬ ডিগ্রি এবং আয়ানগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আইএমডি জানিয়েছে, সফদরজং, লোধি রোড ও আয়া নগরে ‘ওয়ার্ম নাইট’ বা অস্বাভাবিক উষ্ণ রাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি থাকলে এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ থেকে ৬.৪ ডিগ্রি বেশি হলে তাকে ‘ওয়ার্ম নাইট’ বলা হয়।
এদিকে সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। (Delhi Heat Wave) সেই কারণেই তাপপ্রবাহের সম্ভাবনায় জারি হয়েছে ইয়েলো অ্যালার্ট। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত জল পান এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির কয়েকটি এলাকায় হালকা ধুলোঝড় বয়ে যায়। এর জেরে বায়ুর গুণমান আরও খারাপ হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ২০৬, যা ‘খারাপ’ বা Poor শ্রেণিতে পড়ছে।
তাপপ্রবাহ ও দূষণের যুগল প্রভাবে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের।











