বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে আগুনে পুড়ে ৯ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পর সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে বাসটিতে আগুন লেগেছিল, সেটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই ট্রাফিক সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাসটির নামে মোট ১৯টি চালানও ছিল। সব মিলিয়ে বকেয়া চালানের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু এত অভিযোগ ও জরিমানা সত্ত্বেও বাসটি বন্ধ হয়নি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, বাসটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। তার মধ্যে ছিল নির্ধারিত বয়সের তুলনায় কম বয়সের চালক দিয়ে বাস চালানো, অনুমতি ছাড়া গাড়ির পরিবর্তন বা রূপান্তর করা, জ্বালানি সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙা এবং পারমিট সংক্রান্ত অনিয়ম। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই দূরপাল্লার বাসে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Noida Bus Fire: কমবয়সি চালক থেকে পারমিট, একাধিক অনিয়ম
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই বাসটির বিরুদ্ধে একটি চালান হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত বয়সের কম এক চালককে দিয়ে বাস চালানো হচ্ছিল। দিল্লি-নয়ডা সীমান্তের কাছে ওই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসেও বাসটির বিরুদ্ধে চালান হয়। সেই অভিযোগ ছিল জ্বালানি পরিবর্তন এবং গাড়িতে নানান পরিবর্তন করা নিয়ম সংক্রান্ত। পাশাপাশি বাসটির পারমিট নিয়েও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ ছিল। অর্থাৎ দুর্ঘটনার আগে থেকেই বাসটি প্রশাসনের নজরে এসেছিল একাধিকবার।
কীভাবে ঘটল সেই ভয়াবহ আগুন?
বুধবার রাতে রওনা দিয়ে দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে উত্তরপ্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। সেই পথেই যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ৩৩ কিলোমিটার মাইলফলকের কাছে আচমকাই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। বাসে ৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বাসের ভিতরেই ঝলসে ৯ যাত্রীর মৃত্যু, যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
তবে বাসের ভিতরে ঢুকে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ৯ জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হয়ে বা ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বাসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনও শর্ট সার্কিট বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা থেকেই আগুন ধরে থাকতে পারে। এরপর খুব দ্রুত সেই আগুন গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার আসল কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। (Noida Bus Fire)
তবে দুর্ঘটনার পর বাসটির বিরুদ্ধে থাকা পুরনো ১৯টি চালান এবং একাধিক নিয়মভঙ্গের তথ্য সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, এত অভিযোগের পরেও কীভাবে বাসটি এত যাত্রী নিয়ে রাস্তায় চলার অনুমতি পেল?











