আমেদাবাদের আকাশে তখন লাল-কালো উল্লাসের ঢেউ। মাঠজুড়ে ‘আরসিবি, আরসিবি’ ধ্বনি। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিরাট কোহলি—হাতে ব্যাট, মুখে তৃপ্তির হাসি। আইপিএল ২০২৫-এর সাফল্য যে কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। (RCB IPL Champion) নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো আরসিবি। কোহলির অপরাজিত ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং বোলারদের দাপটে একপেশে ফাইনাল জিতে ইতিহাস গড়ল বেঙ্গালুরু।
আইপিএল ২০২৬-এর ট্রফি নিজেদের হাতে তুলে নিল আরসিবি। (RCB IPL Champion) এই ঐতিহাসিক জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন একটাই নাম—বিরাট কোহলি। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে গুজরাত টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো বেঙ্গালুরু। সঙ্গে জায়গা করে নিল চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে। এই তিনটে দল পরপর দু’বার IPL জিতল।
টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পতিদার। সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড এবং রাশিখ সালাম দার। গুজরাটের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপকে কখনওই বড় জুটি গড়ার সুযোগ দেয়নি বেঙ্গালুরুর বোলাররা।
ইনিংসের শুরুতেই ৮ বলে ১০ রান করে আউট হন অধিনায়ক শুভমান গিল। জশ হ্যাজলউডের বলে রজত পতিদারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর ১২ বলে ১২ রান করে ফিরে যান সাই সুদর্শন। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে উইকেটের পিছনে জিতেশ শর্মার ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১৩ ওভারের শেষে গুজরাটের স্কোর ছিল ৮৩/৪।
জস বাটলার ১৯ এবং নিশান্ত সিন্ধু ২০ রান করলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। রাশিখ সালামের আগ্রাসী স্পেলে চাপে পড়ে যায় টাইটান্স। মাঝের ওভারে রাহুল তেওয়াটিয়া (৭) ও জেসন হোল্ডারের (৭) উইকেট হারিয়ে গুজরাট কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। শেষ দিকে ওয়াশিংটন সুন্দর একাই লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে কাগিসো রাবাডার ৩ রানের ছোট্ট অবদান মিলিয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে গুজরাট।

আরসিবির হয়ে রাশিখ সালাম ৩টি উইকেট নেন। ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজলউড ২টি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট পান ক্রুনাল পান্ডিয়া।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন বিরাট কোহলি। পাওয়ারপ্লেতে গুজরাটের বোলারদের উপর রীতিমতো আক্রমণ চালান তিনি। অন্যপ্রান্তে দেবদত্ত পাডিক্কল মাত্র ১ রান করে কাগিসো রাবাডার শিকার হন। তবে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের সঙ্গে কোহলির ৬২ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। (RCB IPL Champion)
ভেঙ্কটেশ মাত্র ১৬ বলে ৩২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। যদিও মহম্মদ সিরাজের বলে কাগিসো রাবাডার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ছয় ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৭০/২। তখন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেঙ্গালুরুর হাতে চলে যায়।

মাঝের ওভারগুলোতে রশিদ খান কিছুটা চাপ তৈরি করেন। তিনি রজত পতিদার (১৫) ও ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে দেন। ১০ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর ছিল ১০০/৪। তবে কোহলি ছিলেন অবিচল। তাঁর সঙ্গে টিম ডেভিডের ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি আরসিবিকে আরও এগিয়ে দেয়। ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে জয়ের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার।
(RCB IPL Champion) এক পর্যায়ে ৪২ বলে ৩০ রান প্রয়োজন ছিল আরসিবির। তখনও ক্রিজে ছিলেন কোহলি। ১৬তম ওভারে শুভমান গিলের হাতে কোহলির ক্যাচ ধরা পড়লেও আম্পায়ারের রিভিউয়ে তিনি নট আউট ঘোষিত হন। সেই জীবনদানই গুজরাটের জন্য আরও বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়।

জিতেশ শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচ শেষের দিকে নিয়ে যান বিরাট। ১৭ ওভারের শেষে আরসিবির দরকার ছিল মাত্র ৭ রান। ১৮তম ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। শেষ বলেও একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকান কোহলি, যা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্পের নিখুঁত সমাপ্তি লিখে দেয়।
৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন বিরাট কোহলি। জিতেশ শর্মা ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। গুজরাটেরর হয়ে রশিদ খান ২টি এবং সিরাজ, রাবাডা ও অর্শাদ খান একটি করে উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে ৫ উইকেটের দুর্দান্ত জয় পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। (RCB IPL Champion) কাঙ্খিত আইপিএল ট্রফি অবশেষে আরসিবির ঘরে। মরসুম শেষে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন বৈভব সূর্যবংশী (৭৭৬ রান), পার্পল ক্যাপ পেয়েছেন কাগিসো রাবাডা এবং টুর্নামেন্টের মূল্যবান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। তবে ফাইনালের এই রাত নিঃসন্দেহে বিরাট কোহলি এবং আরসিবির—এক আবেগঘন, ঐতিহাসিক এবং স্মরণীয় রাত।
আরও পড়ুন: IPL ফাইনালের আগে BCCI-কে টিপস, কী বললেন সচিন?












