দলের একাংশের অভিযোগ, যোগ্য ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের বঞ্চিত করে কিছু নেতা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের চাকরি পাইয়ে দিচ্ছেন। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বিভিন্ন শিল্পসংস্থায় শ্রমিক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ঘিরে মুর্শিদাবাদ জেলা সিপিএমের অন্দরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ফরাক্কার একাধিক সিপিএম নেতা ও কর্মী দলীয় সদস্যপদ নবীকরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন (murshidabad)।
সদস্যপদ নবীকরণ না করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ফরাক্কা উত্তর এরিয়া কমিটির সদস্য ও বাগদাকড়া ব্রাঞ্চের সম্পাদক হিমাংশুশেখর সাহা, এরিয়া কমিটির সদস্য আমিনুল হোসেন মিঞা, দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সদস্য ফিরোজ জাহাঙ্গির, মহিলা সমিতির সভানেত্রী মহুয়া সরকার, পলাশি শাখার সম্পাদিকা সুনন্দা মিশ্র-সহ আরও কয়েকজন কর্মী (murshidabad)।
murshidabad: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের দাবি, ফরাক্কার তিনটি বড় শিল্পসংস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকার লেনদেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে আন্দোলন করা বহু কর্মী কাজ না পেলেও নতুনদের পরিবারের সদস্যরা চাকরি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
বিদ্রোহী নেতাদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের তদন্ত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যদিও জেলা নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, প্রকাশ্যে এই ধরনের অভিযোগ দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই দলের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কী বলছে রাজনৈতিক মহল ?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা ফরাক্কা এলাকায় সিপিএমের সাংগঠনিক শক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী ২৩ আগস্ট মহেশপুরে ফরাক্কা সিপিএমের সম্মেলন রয়েছে। সেখানে এই অভিযোগ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং নেতৃত্ব দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগের মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।












