রাজ্যে পালাবদলের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন পূর্বের সরকারের চালু হওয়া কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে তাতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। আর তারপরই তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুন মাসের ১ তাবিখ থেকেই রাজ্যে চালু হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। তবে এবার টাকার অঙ্কটা হবে দ্বিগুণ। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর মতো ১৫০০ নয় এবার মহিলারা পাবেন ৩০০০ টাকা। আর এই নির্দেশিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, কীভাবে টাকা দেওয়া হবে এইসব নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকে আবার ব্যাঙ্কে গিয়ে খোঁজখবরও শুরু করেছেন। (Annapurna Bhandar)
কী বলা হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে?
- সম্প্রতি রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বর্তমানে যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। অর্থাৎ আগে যেভাবে টাকা পেতেন, সেই প্রক্রিয়াতেই এবারও টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
- বিজ্ঞপ্তিতে ‘ডিবিটি’ শব্দটি দেখে অনেকেই ধন্দে পড়ে গিয়েছেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ‘ডিবিটি’ অর্থাৎ ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’। এর মানে, ভাতার টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তাই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতোই এই প্রকল্পের টাকাও সরাসরি অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হবে। তবে এর জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। যদি কেওয়াইসি আপডেট করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা ব্যাঙ্ক থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে।
- এদিকে, যাঁরা এখনও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পান না, সেই ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আলাদা পোর্টাল চালু করবে রাজ্য সরকার। (Annapurna Bhandar)
Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে মহিলাদের ফ্রি বাস যাত্রা—একগুচ্ছ ঘোষণা রাজ্য সরকারের
কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না?
- ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন, আর কারা পাবেন না। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, অর্থাৎ মৃত, নিখোঁজ, ডুপ্লিকেট বা অন্যত্র স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
- অন্যদিকে, কেউ যদি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-তে আবেদন করে থাকেন, অথবা ‘SIR’ এর অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে থাকেন, তাঁরাও ভাতা পাবেন বলেই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
- এছাড়াও জানানো হয়েছে, যেসব মহিলাদের আয়কর দিতে হয় না, অর্থাৎ যাঁদের বার্ষিক আয় ৭ লক্ষ টাকার মধ্যে, তাঁরাই নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। (Annapurna Bhandar)
- আবেদনকারীদের রাজ্যের বৈধ নাগরিকও হতে হবে। যদিও বর্তমানে যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে ‘যুবশক্তি’র? কী জানাচ্ছে রাজ্য সরকার?










1 thought on “কারা পাবেন না ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর টাকা? কী বলছে রাজ্য সরকার? রইল বিস্তারিত”